মাটিতে পড়ে থাকা আহত এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যার মামলায় ইসরাইলের সামরিক আদালত শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট ইলর আজারিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। মামলাটি নিয়ে ইসরাইলি জনমত মারাত্মকভাবে বিভক্ত ছিল এবং এ নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক চলছিল।
তবে ইলরকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন খোদ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন, “দিনটি আমাদের সবার জন্যই খুব কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক। বিশেষ করে ইলর ও তার পরিবার, বন্ধু, সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য। তাদের মধ্যে আমিও একজন।”
শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি সরকার দলীয় জোটের অনেকের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইলরকে ক্ষমা করে দেয়াতে সমর্থন দিয়েছেন।
গত মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে আবদুল ফাতাহ আল-শরিফ নামে এক ফিলিস্তিনি এক
ইসরাইলি সেনাকে ছুরিকাঘাত করার কিছুক্ষণ পরই তাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করেন ওই সময় ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইলর। ছুরিকাঘাত করার পরপরই অন্য সেনারা তাকে ধরে ফেলে। আহত অবস্থায় মাটিতে শুয়ে থাকার সময় সার্জেন্ট ইলর আজারিয়া তার মাথায় সরাসরি গুলি করেন।
এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে ইসরাইলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ‘প্রতিশোধমূলক হত্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে সার্জেন্ট ইলরের যুক্তি, আহত ফিলিস্তিনি আত্মঘাতী বোমার বেল্ট পরা ছিল বলে সন্দেহ করেছিলেন তিনি। সেজন্যই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তবে ইসরাইলের জনমত এই মামলা নিয়ে মারাত্মকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অনেকের অভিযোগ, একজন আহত নিরস্ত্র মানুষ, যার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি ছিল না, তাকে ঠান্ডা মাথায় এভাবে সরাসরি গুলি করে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর আচরণবিধি লংঘন করেছেন সার্জেন্ট ইলর। বিচার বহির্ভূত হত্যার দায়ে এজন্য তার শাস্তি দাবি করেন তারা।

তবে সার্জেন্ট ইলরের পক্ষে অনেকে যুক্তি দিয়েছেন, ছুরি হাতে সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়া ওই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইলর ঠিক কাজই করেছেন।
সরকারি আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ইলর কোনো বিচার-বিবেচনা ছাড়াই একতরফাভাবে মাটিতে শুয়ে থাকা ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে সামরিক বাহিনীর ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ লংঘন করেছেন।
হেবরনের ওই ঘটনায় হামলাকারী অন্য ফিলিস্তিনি রামজি আজিজ আল-কারসাউই সেনাদের গুলিতে নিহত হন। তবে আবদুল ফাতাহ আহত অবস্থায় মাটিতে পড়েছিলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তখনো তিনি জীবিত ছিলেন। এরপর সার্জেন্ট ইলরকে রাইফেল দিয়ে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করতে দেখা যায়।
সরকারি আইনজীবীরা আদালতকে জানান, গুলি করার আগে ইলর তার কাছাকাছি থাকা আরেক সৈন্যকে বলছিলেন, এই লোকটাকে মেরে ফেলাই উচিত।
বিবিসি জানায়, গত এক বছর ধরে ইসরায়েলি এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকাগুলিতে ছুরি হাতে এরকম অনেক হামলা চালিয়েছিল ফিলিস্তিনিরা। এর প্রেক্ষিতে বহু ইসরায়েলি সার্জেন্ট আজারিয়ার পক্ষ সমর্থন করে গত কয়েক মাস ধরে রাস্তায় নেমেছেন।








