চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফারুক সমাজের কাছে উদাহরণ

দু’পা না থাকার পরও সমাজের কাছে বোঝা না হয়ে উদারহরণ হয়েছেন একজন ফারুক আহমেদ। বলেছেন, ইচ্ছে শক্তি দিয়ে মানুষ অসম্ভবকে জয় করতে পারেন। আর ফারুকের শিক্ষক ও বন্ধুরা বলেছেন, ফারুক সমাজের দৃষ্টান্ত।

দু’পায়ে হাঁটতে পারেন না, প্রয়োজন হয় হাতের। হাত দিয়ে দু পা ধরে হেঁটেই প্রতিদিন কলেজ করতে হয়েছে ফারুককে। নিজের বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার পথ চলতে প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এতোটা পথই শুধু নয়, বিপত্তি প্রতিদিন তিন তলায় গিয়ে ক্লাশ করাটাও।

ফারুক বলেন আমি আনন্দমোহন কলেজে প্রতিদিন তিনতলায় উঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অনুষদে গিয়ে ক্লাশ করেছি। দোতলায় উঠে বিশ্রাম নিয়েছি পরে তিন তলায় উঠেছি।

তবে কজন ভালো বন্ধু জোটে ফারুকের। তারাই পালা করে তিনতলায় তুলে দিতো তাকে । ফারুকের বন্ধুরা বলেন, ফারুক এক বিরল প্রতিভা, ও প্রতিদিন কলেজে আসত। আমারা বন্ধুরা ওকে উপরে উঠতে সহযোগিতা করতাম।

শিক্ষকরা বলছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও এমন সাহসী শিক্ষার্থী আনন্দ মোহন কলেজে খুব কমই ছিল । ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের অধ্যক্ষ মো: জাকির হোসেন বলেন, ফারুক জীবন যুদ্ধে জয়ী একজন পুরুষ, সে এই কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাশ করেছে।

ফারুকের অনুষদ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আব্দুল মোতালেব বলেন, শারিরীক প্রতিবদ্ধকতা যে কিছু নয় সেটার প্রমাণ ফারুক। তার অদম্য ইচ্ছা, প্রবল মানসিক শক্তি, এটা তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমি সরকারের প্রতি সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি ফারুকের ভাল একটি চাকরি যেনো হয়।

দেশ আর দেশের মানুষের ভালো চাওয়া ফারুকের আক্ষেপও কম নয়। বলেছেন, ঢাকায় চাকুরির পরীক্ষা হওয়ায় অনেক প্রতিবন্ধীর পক্ষেই সব চাকুরিতে আবেদন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।