চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ফরিদুর রেজা সাগর: এক প্রথিতযশা শিশুসাহিত্যিক

২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদুর রেজা সাগর-এর জন্মদিন

প্রথিতযশা শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর একাধারে গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্রনির্মাতা, সর্বোপরি পুরোদস্তুর কথাসাহিত্যিক। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ঢাকায়, ১৯৫৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।

তিনি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বহুল পরিচিত হলেও সাহিত্যাঙ্গনে রয়েছে সফল ও বর্ণাঢ্য বিচরণ, রচনা করেছেন দেড় শতাধিক গ্রন্থ। ৬৩ বছরের জীবনযাত্রায় ঘরে তুলেছেন অসংখ্য পুরস্কার।

তার অধিকাংশ গল্পের উপজীব্য বিষয় হলো গল্পের ছলে ছোট বাচ্চাদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তার করা এবং তাদের মনন ও মানসিকতা গঠনের ভূমিকা রাখার মতো অনুষঙ্গ।

‘ছোটকাকু’ সিরিজ তার পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া অন্যতম সিরিজ গ্রন্থ। ছোটকাকু সিরিজের মধ্যে ‘বকা খেয়ে বগুড়ায়’, ‘রাগ করে রাঙামাটি’, ‘কুয়াকাটায় কাটাকাটি’, ‘রাতবিরাতে সাতক্ষিরাতে’, ‘বাঘের পিঠে বরিশাল’, ‘অভিযান বান্দরবান’, ‘না জেনে নারায়ণগঞ্জে’, ‘টেলিভিশনে ছোটকাকু’ এবং ‘এবারে সাভারে’ অন্যতম।

লেখকের লেখা কিশোর সমগ্র গ্রন্থ বেরিয়েছে সাতটি। অন্যান্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘মানুষের মুখ-৪’, ‘কিশোর সমগ্র-১১’, ‘মমির লাঠি রহস্য’, ‘কুয়াকাটায় কারসাজি’, ‘ছোটনায়ক’, ‘সাতটি সাত রকম’, ‘রাতুল মামা ফিল্ম স্টার’, ‘আমরা সবাই রাজা’, ‘একাত্তরে ওরা’, ‘হিজলতলীর মাঠে সসার এসেছিলো’, ‘বটগাছের মধুরহস্য ও ১২টি গল্প’, ‘একটি পোষা ভূতের গল্প’, ‘ছোটদের জন্য কিছু লেখা’ ইত্যাদি বই।

ফরিদুর রেজা সাগরের ‘অমি ও আইসক্রিম’অলা’ গল্পটি ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে সংযুক্ত হয়েছে। গল্পটির উপজীব্য বিষয় নটরডেম কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রের সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া এক জমীদারের অশরীরী আত্মার কথোপকথন।

বাসে করে যাওয়ার সময় অমির বাস নষ্ট হয়ে যায়, সে বসে বিশ্রাম নিতে থাকে। তখন এক আইসক্রিমঅলার সাথে অনেক গল্প হয়। এই আইসক্রিম বিক্রেতা মূলত রায় বল্লভ রায় জমীদার।

বিজ্ঞাপন

তিনি রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি চান তিনি। এই শেষ ইচ্ছের কথা অমিকে জানান। অমি জমীদারকে কথা দেয়। এভাবে গল্পে গল্পে শিশুদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সঞ্চার করেন।

শিশুসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০০৫ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। এছাড়াও অগ্রনী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চাঁদের হাট শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ইউরো শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

শিশুসাহিত্যিক পরিচয় ছাড়াও আরো একটি প্রভাবশালী পরিচয় রয়েছে, তা হলো- তিনি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক।

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গণমাধ্যম শাখায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৫ সালে অর্জন করেছেন একুশে পদক। তিনি ছয় বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শৈশবেই অভিনয় করেছেন বাবা মো. ফজলুল হক নির্মিত শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’-এ।

তিনি শুধু শিশুদের জন্যই লিখেছেন, এমন নয়। বড়দের জন্যও বিস্তর লিখেছেন, লিখেছেন ভ্রমণ কাহিনীও। তার লেখা ‘এক জীবনে টেলিভিশন’বইটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রথিতযশা এই শিশুসাহিত্যিক বাংলা শিশুসাহিত্যে অবদান রেখেই চলছেন।

শিশুসাহিত্যে নতুন নতুন চিন্তা ভাবনা নিয়ে গল্প লিখে চলেছেন অবিরাম। আমাদের নজর এড়িয়ে যায়, আমাদের কাছে সামান্যতম গুরুত্বও পায় না, এসব অনুষঙ্গও পরম যত্নে তুলে ধরেন গল্পে।

রাস্তার দেয়াল লিখন থেকে সবকিছুই তিনি শিক্ষণীয় করে উপস্থাপন করেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তচিন্তা তার লেখনীর অন্যতম উপজীব্য বিষয় হিসেবে স্থান পেয়েছে।

শেয়ার করুন: