চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ফণী’র ফণায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত

হতে পারে ৪-৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস

ঘূর্ণিঝড় ফণী ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ছয় নম্বর ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙ্গরের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

ফণীর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাসমূহের নিম্নাঞ্চল ৪-৫ ফুটের বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত এবং ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী সামান্য উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৬৫ কিলোমটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২৫ কিলোমটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯২৫ কিলোমটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ফণী।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ৩ মে বিকেল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে এবং পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে হয়ে ৩ মে সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ৩ মে সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণীর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিমড়বাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৯০-১১০ কিলোমটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ফণী মোকাবিলায় প্রস্তুতি
এ ঝড় থেকে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় বুধবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পাশাপাশি উপজেলা ও উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: আশরাফুল আশরাফ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নোয়াখালী
ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র ও সাড়ে ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে জেলার ৩শ’ ৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১শ’ ৩টি মেডিকেল টিম গঠনসহ সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলো তীরে ফিরতে শুরু করেছে।

১৯ জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
ঘূর্ণিঝড় ফণী নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বুধবার বিকালে সচিবালয়ে ফণী মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দেশের উপকূলীয় ১৯ জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

ছুটি বাতিল
ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাপ্তাহিক ছুটি এবং অন্য ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধিনস্থ সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহের কার্যক্রম খোলা থাকবে।

ঘুর্ণিঝড় ‘ফণী’র আশঙ্কা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল নৌযান বন্দরে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
এবংঘুর্ণিঝড় ‘ফণি’র সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরি তথ্য ও নির্দেশনা আদান-প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থায় কন্ট্রোল রুম খোলা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সব শাখা বুধবার থেকে অব্যাহতভাবে খোলা রাখা হয়েছে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য। সে সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে অব্যাহতভাবে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Bellow Post-Green View