চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রায় ৩ বছর পর কক্সবাজারে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন শুরু

রোহিঙ্গা নিবন্ধন করলে ফৌজদারি মামলা

২ বছর ১১ মাস বন্ধ থাকার পরে কক্সবাজারে আজ (১ সেপ্টেম্বর) চালু হলো জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম। ৭১ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৪টি পৌরসভার মধ্যে ৩১ আগষ্ট ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক শ্রাবস্তি রায়।

রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুরো কক্সবাজার জন্মনিবন্ধন কার্যত্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা স্রোতের কারণে এ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল যাতে করে কৌশলে রোহিঙ্গারা দেশে জন্মনিবন্ধন করতে না পারে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক শ্রাবস্তি রায় জানান, ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৪টি পৌরসভার মধ্যে প্রথমধাপে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলো হলো টেকনাফের হোয়াইক্ষং, উখিয়ার হলদিয়াপালং এবং রত্নাপালং। কক্সবাজার সদরের ১০টির মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন যথা ঝিলংজা, পিএমখালী, ভারুয়াখালী, চৌফলদন্ডী, জালালাবাদ, খুরুস্কুল, ইসলামাবাদ এবং পোকখালী।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, আগের মতো জন্মনিবন্ধনের জন্য প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদন পরিষদ থেকে উপজেলা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন যাছাই বাচাই কমিটি বরাবর উপস্থাপন করার পর কমিটি গুরুত্বসহকারে যাচাই করে সঠিক হলে অনুমোদন দিয়ে পরিষদে পাঠাবে। পরিষদ তা চেয়ারম্যান এবং পরিষদের সাক্ষর দিয়ে আবেদনকারিকে সনদ প্রদান করবে। প্রতিটি উপজেলায় শক্তিশালী বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা সবদিক বাছাই করে চূড়ান্ত করে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদান করবে।

শ্রাবস্তি রায় আরো জানান, রোহিঙ্গাদের যদি কোন চেয়ারম্যান বা পরিষদের পক্ষ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয় বা ইস্যুর পর যদি প্রমাণিত হয় তা ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে। উক্ত জনপ্রতিনিধিদের জেল জরিমানা এমনকি কঠিন শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এরই মধ্যে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাগণের হাতে পাসওয়ার্ড পৌছে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রোভাইডারদের হাতে তা প্রদান করবেন। উক্ত ইউনিয়ন পরিষদসমূহে এখন থেকে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন স্থানীয় জনসাধারণ।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদ উল্লাহ মারুফ জানান, সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে আমরা জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম চালুর অনুমতি পেয়েছি। বাকি ২টি ইউনিয়ন পরিষদের পাসওয়ার্ড এখনো পায়নি। ইউনিয়ন ২টি হলো ইসলামপুর এবং ঈঁদগাও। এ ২টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পরিষদের সচিবের জন্মনিবন্ধন অনলাইনে না থাকায় তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা অনলাইন করলে তাদের এলাকার লোকজন এ সেবার আওতায় আসবে। চেয়ারম্যান এবং সচিবের জন্মনিবন্ধন যদি অনলাইনে পাওয়া যায় উক্ত পরিষদকে জন্মনিবন্ধনের সার্ভার খুলে দেয়া হচ্ছে বলে উক্ত ইউএনও জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার পর কক্সবাজারে রোহিঙ্গার ঢল নামে। পরে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে যায়। অনেকে কৌশলে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন করতে মোটা টাকার লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে। রোহিঙ্গাদের হাত থেকে স্থানীয় জন্মগোষ্ঠীকে রক্ষায় সরকার জন্মনিবন্ধন বন্ধ করে দেয়। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট রোহিঙ্গারা টেকনাফ –উখিয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এর পরের মাসে অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার কক্সবাজার জেলার জন্মনিবন্ধন সার্ভার বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে বন্ধ রাখা হয় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন।