চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে কেন?

বিএনপিকে জনগণ ভোট দেবে কেন- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বরাবরই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। জয়ের বিশ্বাস হারিয়ে গেছে বলেই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে বিএনপি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সোমবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হয়েছে বলেই আজকের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ নাই। সে নির্বাচনেও মানুষ ভোট দিয়েছে। ওই নির্বাচনেও বিএনপি জিততে পারেনি কেন?

ইভিএমএর ভোট নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিএনপি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ কোন ভরসায় তাদের ভোট দিবে? এতিমের অর্থ আত্মসাতকারী তো নির্বাচন করতেও পারবে না। নির্বাচনে জয়ের বিশ্বাস হারিয়ে গেছে বলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে।’

‘‘বিএনপির শাসনামলে জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করেছে, বোমাবাজি হয়েছে, সারাদেশে বোমা হামলা হয়েছে, মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা ছিল না। পাকিস্তানীরা যেভাবে ধর্ষণ করতো সেভাবে তাদের ক্ষমতা চলাকালে মানুষকে নির্যাতন করা হয়েছে। মানুষের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের শাসনামলে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দেশ।’’

সরকার প্রধান আরও বলেন, ‘সরকার মানে জনগণের সেবা। বাংলাদেশ খ্যাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একসঙ্গে সারাদেশের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ সম্ভব হচ্ছে। এই সুবিধাগুলো কারা দিয়েছে? আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে। ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

’৭৫-৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত জনগণ কী পেয়েছে- সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘গ্রামে যাতে অর্থের সরবরাহ হয় সে চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক দেশে খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদান শেষে শুক্রবার রাতে দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম ইউনাইটেড ন্যাশনস জেনারেল এসেমব্লি (ইউএনজিএ) ও কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের পার্শ্ব-আলোচনায় অংশ নেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

১৯ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেন এবং বিভিন্ন সরকার, রাষ্ট্র ও সংগঠনের প্রধানের সঙ্গে কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন।

প্রধানমন্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার সম্মানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ লনের ইউএন গার্ডেনে একটি চারাগাছ রোপণ এবং একটি বেঞ্চ উৎসর্গ করেন।

২৫ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্কে তার সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফর শেষে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন।

বিজ্ঞাপন