চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রথম দিনে করোনার ভ্যাকসিন নিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন

রাজধানীসহ সারা দেশে রোববার থেকে করোনা ভ্যাকসিন দান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সারা দেশে প্রথম দিনে ৩১ হাজার ১৬০ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৭১ জন।

সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি ১ হাজার ৫টি হাসপাতালে সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নিবন্ধিত ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

করোনা প্রতিরোধে সকল ভয়ভীতি ও কুৎসা রটনা থেকে বিরত থেকে করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শুরুর দিন ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রস্তুতি রেখেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সারা দেশে ২ হাজার ৪০০টি দল ভ্যাকসিন দিতে কাজ করেছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য আগে থেকে নিবন্ধন করতে হয়েছিল তাদের। এ ছাড়া ভ্যাকসিন দানকেন্দ্রেও নিবন্ধনের সুযোগ ছিল। প্রথম দিন ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় গ্রহীতাকে বলে দেওয়া হয় দ্বিতীয় ডোজের তারিখ।

আজ দেশজুড়ে শুরু হওয়া করোনাভাইরাসের গণ ভ্যাকসিন দান কর্মসূচির প্রথম দিনে ভ্যাকসিন নেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। ভ্যাকসিনের মোট দুই ডোজ নিতে হয়। যারা প্রথম ডোজ দিয়েছেন তাদেরকে আবার দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী সবাইকে সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে (www.surokkha.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। যারা ওয়েবসাইটে গিয়ে বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন না, তারা কেন্দ্রে গিয়েও তা করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।তবে ৫৫ বছরের উর্ধ্বে সকল নাগরিক নিবন্ধন করতে পারবেন, সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকার প্রয়োজন নেই।

ভ্যাকসিন ফর ভিক্টরি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ভ্যাকসিন ফর ভিক্টরি, ভ্যাকসিন নিলে জয়, ভ্যাকসিনে নেই ভয়। মন্ত্রিপরিষদের ৫ জন সদস্যকে সাথে নিয়ে নিজ শরীরে ভ্যাকসিন গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাইল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আজ একসাথে আনন্দঘন পরিবেশে ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাকসিন দেয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিট আমরা সবাই একসাথে বসে কথা বললাম। আমাদের কারো শরীরেই কোনরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সবাই সুস্থ আছি। কাজেই আজ থেকে দেশব্যাপী যে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করা হলো তাতে দেশের সকল শ্রেণির মানুষই ভ্যাকসিন গ্রহণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী। এরপর ভ্যাকসিন নিয়ে কোনরকম মিথ্যা গুজব সৃষ্টি করা হলে সেক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না।’

মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে দেশব্যাপী ভ্যাকসিন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গোপালগঞ্জ
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকে ভ্যাকসিন দেয়ার মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে করোনাভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক ও সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার এস এম সাকিবুর রহমান ভ্যাকসিন নেন। পরবর্তিতে অন্যান্যদের ভ্যাকসিন দেয়া হয়। সিনিয়র স্টাফ নার্স রমা রাণী ভক্ত এই বিশিষ্ট জনদেরকে করেনা ভ্যাকসিন পুশ করেন।

দিনাজপুর
এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিজেই করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করে করোনা ভ্যাকসিন (কোভিট-১৯) কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিনদান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া ভ্যাকসিন দানের জন্য দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ৮টি, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪টি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর প্রতিটিতে দু’টি করে সর্বমোট ৩৮টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে দু’জন করে ভ্যাকসিনদান কর্মী ও ৪ জন করে স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কেরানীগঞ্জ
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এ্যাড.কামরুল ইসলাম নিজে ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে যারা অপপ্রচার করছেন তারা কেউই দেশের ভালো চান না। তিনি সকল ভয়-ভীতি ও বিভ্রান্তির উর্ধ্বে উঠে সবাইকে ভ্যাকসিন নেয়ার জন্য আহবান জানান।

এর পর ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ কাজী মাইনুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর অপারেশন আসাদুজ্জামান টিটু, কেরাণীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. সালাহ উদ্দিন মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ইসমাইলসহ কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধে সামনের কাতারে থাকা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ৫২জন মানুষ।

রাঙ্গামাটি
জেলার ১০ উপজেলার হাসপাতালগুলোতে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক এ,কে,এম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন, রাঙ্গামাটি চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসাসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও হাসপাতালের ডাক্তাররা উপস্থিত থেকে করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

ভ্যাকসিন গ্রহণের পর চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় রাঙ্গামাটিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠিসহ সকল সম্প্রদায়কে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের আহবান জানিয়ে বলেন, কারো বিভ্রান্তিকর কথা না শুনে, সরকারের উপর আস্থা রেখে এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা উচিৎ।

দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এবং পর্যায়ক্রমে যাতে সকলেই এ ভ্যাকসিনের আওতায় আসতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন জানান, উদ্বোধনের প্রথম দিনে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ৪০জনকে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে যথা নিয়মে ৪টি কেন্দ্রে ৩শ থেকে ৪শ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

ফেনী
জেলায় প্রথম কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিলেন সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন। সিভিল সার্জন জানান, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৫০ জন মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে জেলার মোট ২৪ হাজার মানুষকে ৪৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এজন্য জেলা জুড়ে ১৯টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আটটি, পাঁচ উপজেলায় দুইটি করে ১০টি ও ফেনী পুলিশ লাইনে একটিসহ মোট ১৯টি বুথে করোনা ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল
জেলার মোট ৪২টি কেন্দ্রে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের শরীরে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয় সকালে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনির শরীরে প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। তারপর জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ভ্যাকসিন নেন। এছাড়া কালিহাতীতে স্থানীয় সাংসদ হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার ভ্যাকসিন নেন।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান। এ সময় সেনাবাহিনীর লেফটেনেন্ট কর্নেল ওয়ারেন্ট অফিসার আক্তার হাসিব দেওয়ান, রফিকুল ইসলাম ও নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল লতিফ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৯টি কেন্দ্র ও বাকি ১১টি উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি বুথে দুইজন করে ভ্যাকসিন দান কর্মী ও চারজন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। জেলায় মোট ১ লাখ ২০ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। পর্যায়ক্রমে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের শরীরে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।

কুমিল্লা (দক্ষিণ)
জেলা সদর হাসপাতালে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরকে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর পরেই জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, কুমিল্লা এরিয়া মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, জেলা প্রশাসকের স্ত্রী মনিরা নাজনীন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালাম, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুল ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার নিয়াতুজ্জামান জানান, জেলা সদর হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিটি করর্পোরেশন কেন্দ্র ছাড়াও জেলার ১৭ উপজেলায় করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। কুমিল্লার জন্য প্রাপ্ত ২ লাখ ৮৮ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন, ১ লাখ ৪৪ হাজার লোককে দুই ডোজের মাধ্যমে দেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম
 জেলা জেনারেল হাসপাতালের ভ্যাকসিন দান কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম ভ্যাকসিন নিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বীবপ্রতীক ও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন। সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ভ্যাকসিনদান কেন্দ্রে ১১৯ জনসহ জেলার ৯টি ভ্যাকসিন দান কেন্দ্রে মোট ৪৫০ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন।

মৌলভীবাজার
জেলার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর সংসদ সদস্য একটি বুথে নিজে প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এসময় জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: পার্থ সারথী দত্ত কাননগো, প্রেস ক্লাব সভাপতি এম এ সালামসহ স্ব্যাস্থ্যকর্মী শিক্ষক, নার্সসহ সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধারা ভ্যাকসিন নেন। আজ জেলায় সব মিলিয়ে ভ্যাকসিন নেন ৮১৬জন।

সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, ভ্যাকসিন দান কর্মসূচি বাস্তবায়নে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আগেই প্রস্তুত করা হয় মোট ৮টি বুথ। চলতি মাসের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ১২ দিন চলবে ভ্যাকসিনদান ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১,২০০ জন ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দিতে পারবেন তারা। তবে সেক্ষেত্রে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জ
২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রধান অতিথি হিসেবে ভ্যাকসিন দান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সাংসদ এডভোকেট মো. আবু জাহির এবং তিনি প্রথমে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।

হাসপাতালের ৮টি বুথে শুরু হয় ভ্যাকসিন দান কার্যক্রম। উদ্বোধনের পরই ভ্যাকসিন নিতে আসেন ৮০ বছরের প্রবীণ ব্যাক্তিত্ব সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ভট্টাচার্য্য। তিনি ভ্যাকসিন নিতে পেরে আনন্দিত। সবাইকে ভ্যাকসিন গ্রহণের আহবান জানিয়ে বলেন, আমি ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছি। কিন্তু কোন সমস্যা হয়নি।

হবিগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জল জানান, হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রথম দিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। এই সময়ে ১০৪জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এর মাঝে ৩৪জন নারী। জেলার অন্য ৭টি উপজেলায়ও শুরু হয়েছে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার লোক রেজিস্ট্রেশন করেছেন। জেলার ২৪টি বুথে ২জন করে ৪৮জন ভ্যাকসিন প্রদানকারী দায়িত্ব পালন করেন।

নীলফামারী
জেলায় সাতটি কেন্দ্রে ২৩০ জন ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে নারী ৪১জন নারী রয়েছেন। জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।

প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন ওই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জেসমিন নাহার সেতু। জেলার সাতটি কেন্দ্রে ২২টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরের নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ১১টি, অন্য ৫ উপজেলায় ২টি করে এবং সৈয়দপুর সেনানিবাস হাসপাতালে একটি রয়েছে। সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবির বলেন,‘প্রথম দিনে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভ্যাকসিন গ্রহিতাদের মধ্যে কারো কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুর
জেলা সদর হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. সাদমান সাকিবকে ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে শুরু হলো করোনা প্রতিরোধের ভ্যাকসিন দান কার্যক্রম।

সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুল্লাহ-আল-মুরাদ জানান, প্রথম পর্যায়ের বরাদ্দে জেলায় ৩৬ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল চত্বরে ৪টি বুথের মাধ্যমে আজ থেকে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮ বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রতিদিন কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে ভ্যাকসিন পাবেন করোনা প্রতিরোধে প্রথম সারির যোদ্ধা ১৮ বছরের উপরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য বিভাগের ব্যক্তিবর্গ, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ৫৫ বছরের উপরের বয়সী নাগরিক।

নওগাঁ
জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশিদ, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু হানিফ ভ্যাকসিন গ্রহণের মধ্য দিয়ে নওগাঁয় ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জেলায় ৮৪ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা দিয়ে ৪২ হাজার ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দেয়া যাবে। জেলায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ব্যক্তি ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। রোববার জেলা সদরে ৫ টি বুথে মোট ১১০ জনকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে।

জয়পুরহাট
জেলা আধুনিক হাসপাতাল চত্বরে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও করোনা ভ্যাকসিন প্রদান জেলা কমিটির সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম।

প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত ওই ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলবে বলে জানান, সিভিল ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সফল করতে জেলায় ৫৮ টি সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬ জন করে দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য ৩৪৮ জন ভ্যাকসিন দানকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

নাটোর
জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে দুপুর ১২ টায় ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ এবং পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। এরআগে হাসপাতালের পুরুষ বুথে জেলার প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন হাসপাতালের সিনিয়র সেবক মোহাম্মদ আলী।

এরপর মহিলা বুথে প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন হাসপাতালের স্টাফ নার্স কাকলী কস্তা। ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল, জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি। সদর হাসপাতাল ছাড়াও জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এবং কাদিরাবাদ সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে।

বেনাপোল
যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন। প্রথমেই ভ্যাকসিন নেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারহানা সুলতানা।

নোয়াখালী
প্রথম করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেন সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের নির্ধারিত বুথে তিনি ভ্যাকসিন নেন।

অন্যদিকে, চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই সময়ে সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম নিজে ভ্যাকসিন নিয়ে উপজেলায় ভ্যাকসিন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য জেলায় মোট ১০টি কেন্দ্রে ৩৩টি বুথ খোলা হয়েছে।

প্রতিটি ভ্যাকসিন কেন্দ্র্রে ২ জন করে স্বাস্থ্যকর্মী ও চারজন করে স্বেচ্চাসেবক নিয়োজিত করা হয়েছে। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য এ পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার। এদিকে হাতিয়া উপজেলার সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস ভ্যাকসিন দান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় ডা. নিজাম উদ্দিন মিজান ভ্যাকসিন গ্রহণ করে ভ্যাকসিন কর্মসূচির সূচনা করেন।

লক্ষ্মীপুর
সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রথমে ভ্যাকসিন নিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, সির্ভিল সার্জন ডা. আবদুল গফফার, জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একে এম সালাহ উদ্দিন টিপু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম।

সির্ভিল সার্জন ডা. আবদুল গফফার জানান, ১ম দিনে ভ্যাকসিনের নেয়ার জন্য ২২৭৩ জন আবেদন করেছে। মোট ২১ টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। যাতে করে স্বল্প সময়ে রেজিষ্ট্রেশন কাজ শেষ করে ভ্যাকসিন নিতে পারে।

সিরাজগঞ্জ
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহণ করে ভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সসহ ৩৬টি বুথে স্বাস্থ্যকর্মীরা ভ্যাকসিন প্রদান করবেন। তবে জেলা ৯৬ হাজার ডোজ থাকলেও মাত্র ৩ হাজার ৩ ৪৮জন ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবেদ্ধন করেছেন।

মাগুরা
২৫০ শয্যা হাসপতালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আজ রবিবার থেকে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ এ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর। প্রথম ভ্যাকসিন নেন ২৫০ শয্যা হাসপতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তর স্বপন কুমার কুন্ডু।

সিভিল সাজর্ন ডাক্তার শহিদুল্লাহ দেওয়ান জানান, জেলার সদর হাসপাতলে ৮ টি বুথ ও বাকি ৩ উপজেলায় ৩ টি করে মোট ১৭ টি বুথে একযোগে এ ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। প্রতিকেন্দ্র মোট ২ জন করে স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪ জন করে স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। জেলার চার উপজেলায় ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৬৩ জন্য তালিকা পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের ৭৪৫ জন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৮৬৩ জন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৭৫৫ জন। নিবন্ধনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখসারির করোনা যোদ্ধাদের প্রথম পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

মেহেরপুর
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল জুমে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

উদ্বোধনের পর মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান জেলায় প্রথম ভ্যাকসিন নেন। মেহেরপুর সদরে ১০টি, গাংনীতে ৩টি , মুজিবনগরে ৩টি বুথে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। প্রথম ধাপে জেলায় ১২ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন প্রত্যেককে দুই ডোজ করে ৬ হাজার জনকে কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগে করা হবে।

বরগুনা
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন (টিকা) প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দীন এবং ডা. মো. কামরুল আজাদ দু’জনের ভ্যাকসিন গ্রহণ এর মধ্য দিয়ে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়।

সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান জানিয়েছেন, প্রথমত যারা রেজিস্ট্রেশন করবে তারাই ভ্যাকসিন পাবে, আর যারা রেজিস্ট্রেশন করবে না তারা ভ্যাকসিন পাবে না এবং বরগুনায় প্রথম ধাপে ২৪ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন পেয়েছি। এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে ১২ হাজার মানুষকে। প্রথম পর্যায়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিক ১৫টি ক্যাটাগরির লোককে এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

এছাড়াও পাবনা, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, শেরপুর ও সাভারে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন