চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রথমবার পিএসজি-ম্যানইউ, জার্মানিতে ফিরছেন ক্লপ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনবারের শিরোপাধারী দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে নব্যশক্তির নাম পিএসজি। সোমবার শেষ ষোলোর ড্র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি করিয়ে দিচ্ছে দুই লিগের এ দুই জায়ান্ট দলকে।

না দেখা হওয়ার অবশ্য কারণও আছে। সোনালি সময়ে নিয়মিতই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল, সেমি-ফাইনালে খেলত ম্যানইউ! ওই সময়টাতে গ্রুপপর্ব পার হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ত পিএসজির জন্য।

মালিকানা পরিবর্তন হয়ে কাতারি মালিকের হাতে দায়িত্ব পড়ার পর চেহারা পাল্টে গেছে পিএসজির। নেইমার-কাইলিয়ান এমবাপে-এডিসন কাভানিদের কাঁধে চেপে অতীতে কখনোই কোয়ার্টারের গণ্ডি পার হতে না পারা লিগ ওয়ানের জায়ান্টরা এবার স্বপ্ন দেখছে বাঁধা টপকানোর, যেখানে নকআউটের প্রথমপর্বে তাদের সামনে দেয়ালের নাম ম্যানইউ।

পিএসজির সুসময়ে উল্টো পথে হাঁটছে ম্যানইউ। প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ শিরোপাধারী ক্লাবটির অবস্থা ত-থৈ-ব-চ। পয়েন্ট টেবিলে ছয় নম্বরে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিয়েই শঙ্কায় রেড ডেভিলরা। হোসে মরিনহোর অধীনে খেলার মান ওঠা-নামা করছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দলটির। এক ম্যাচ জিতছে তো পরের ম্যাচেই মেনে নিতে হচ্ছে ড্র অথবা হার! দুদলের লড়াই জমার অপেক্ষা এখন।

ম্যানইউর মতো আরেক ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলেরও মাথাব্যথা কম নয়। ক্লাবের খেলোয়াড়দের চেয়ে সবচেয়ে বেশি মাথাব্যথা জার্মান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের। কারণ ছয় বছর আগে তাকে সবচেয়ে বেশি আঘাত দিয়েছিল যে ক্লাবটি, সেই বায়ার্ন মিউনিখের মূখোমুখি হতে চলেছেন ক্লপ। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে তুলেছিলেন ক্লপ। সেই ফাইনালে বায়ার্নের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় বরুশিয়া।

Advertisement

বায়ার্নের বিপক্ষেও রেকর্ড খুব একটা সুবিধার নয় ক্লপের। ২৯ ম্যাচে বাভারিয়ানদের বিপক্ষে ৯ ম্যাচে জয়ের বিপরীতে ১৬ ম্যাচে হারের বাজে অভিজ্ঞতা আছে এ কোচের। এবার লিভারপুলের কোচ হয়ে বায়ার্নের বিপক্ষে ২০১৩ সালের সেই শোধটা তুলতে পারবেন কিনা সেটা সময়ই বলবে।

শেষ ষোলোতে স্বস্তিতে নেই জুভেন্টাস। তাদের প্রতিপক্ষ হয়েছে মাদ্রিদের আরেক জায়ান্ট অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমানোর পর আবারও মাদ্রিদে ফিরতে হবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে অস্বস্তি কাটাতে রোনালদোই হতে পারেন জুভদের তালিসমান। কারণ সিআর সেভেনের গোলে ভর করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে দুবার অ্যাটলেটিকোকে হারিয়েছিল রিয়াল।

রোনালদো চলে যাওয়ার পর লা লিগায় স্বস্তিতে নেই রিয়ালও। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপসেরা হয়েই পরের রাউন্ডে উঠেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। সেখানে প্রতিপক্ষও অন্যদের তুলনায় একটু সহজ, নেদারল্যান্ডসের আয়াক্স আমস্টারডাম। কিন্তু এই দলটিরই আবার দীর্ঘ ইতিহাস আছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ইউরোপের দুবারের সেরা তারাও।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে সিএস্কে মস্কোর কাছে ৩-০ গোলে হারের পর ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে রিয়ালের খেলার ধরন নিয়ে। রোনালদোবিহীন দলটিতে এখন ধুঁকছেন গ্যারেথ বেল-করিম বেনজেমারা। খাতা-কলমে সহজ আয়াক্সের বিপক্ষে ম্যাচ আদৌ সহজ হবে কিনা সেটাও এখন প্রশ্ন!

ড্রতে সবচেয়ে স্বস্তিতে আছে বোধহয় বার্সেলোনা! লিগ ওয়ানে পয়েন্ট টেবিলে তিনে থাকা অলিম্পিক লিওঁ খুব একটা কঠিন প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা নয় বার্সার সামনে। দলের সবাই আছেন কম-বেশি ফর্মে। বিশেষ করে লেভান্তের বিপক্ষে লা লিগার শেষ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ফর্মের থাকার ইঙ্গিতপা দিয়েই রেখেছেন মেসি; চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রাঙাতে প্রস্তুত আর্জেন্টাইন মহাতারকা।