চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতিটি শিশুর জীবন হোক রঙিন

নানা আয়োজনে রোববার সারাদেশে পালিত হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণার পর থেকে মূলত শিশুদের জন্যই দিনটিকে বিশেষ বিশেষ আয়োজনে সাজানো হয়। এ বছর তাই শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন।”

আমরা জানি, জাতির পিতার সুদীর্ঘ সংগ্রামের মূল লক্ষ্যই ছিল বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত উজ্জ্বল এক ভবিষ্যত গড়ে তোলা। আর তার এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চালিকা শক্তি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অগণিত শিশুরা। কেননা তিনি বিশ্বাস করতেন, আজকের শিশুই হবে আগামীতে দেশ গড়ার কারিগর।

বিজ্ঞাপন

এ জন্যই তার মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে শিশুদের জন্য বড় বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যার মধ্যে অন্যতম শিশু অধিকার আইন, প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক ইত্যাদি। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো শিশুদের জন্য আরো অনেক অনেক পদক্ষেপ নিতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি শিশুদের জন্য সব কাজ সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেট তাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সপরিবারে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে ঘাতকরা তার স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। শিশুদের জন্য তিনি যা করতে চেয়েছিলেন, তার অনেকটাই আজ পূরণ হয়েছে। বিশেষ করে শিশুর অধিকার। অনেকাংশেই বন্ধ হয়েছে তাদের প্রতি সহিংস আচরণ, নির্যাতন। বেড়েছে শিশুর শিক্ষার হার, কমেছে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ার হার ও শিশু শ্রম।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, শিশুদেরকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি-পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে তাদের বেড়ে উঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে নানা সীমাবদ্ধতা সমাজে রয়েছে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণের প্রবণতা কমছে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তবে তাদের প্রয়োজনের প্রতি, অধিকারের প্রতি সচেতনতা বাড়ছে। বেশির ভাগ পরিবারে শিশুদের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখার আগ্রহ বেড়েছে।

আমরা মনে করি, শুধু সরকার নয়, শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে সহায়ক শক্তি হিসেবে। এতে পিতা-মাতা, পরিবার ও সমাজের ভূমিকাও অপরিসীম। তাবেই শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তাদের প্রতি সহিংস আচরণ ও নির্যাতন বন্ধ হবে।