চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতিটি ধাপে চাই অধিক সতর্কতা

করোনো ভ্যাকসিন

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন কিনতে প্রাথমিক অর্থ (৬’শ কোটি টাকা) ছাড়ের পর দেশের মানুষকে সেই ভ্যাকসিন প্রয়োগে পুরোদমে প্রস্ততি শুরু করেছে সরকার। এ জন্য নানান পরিকল্পনার পাশাপাশি তার বাস্তবায়ন ও তদারকিতে গঠিন করা হয়েছে ‘ন্যাশনাল ডেপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ভ্যাকসিনেশন প্ল্যান ফর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ইন বাংলাদেশ’। মূলত এই কমিটির নেতৃত্বেই চলবে মহাযজ্ঞ।

বিশাল এই আয়োজনে তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ কর্মী। যাদের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজে সরাসরি মাঠে থাকবেন অন্তত ৭২ হাজার কর্মী। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেবেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ওই কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন, কয়েক ধাপে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। প্রথম ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। যার মধ্যে আবার ১০ শতাংশকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৩ শতাংশ ধরে ৫১ লাখ ৮৪ হাজার ২৮২ জন। আর বাকী ৭ শতাংশ, ১ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৭ জনকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে।

সরকারের এসব পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির খবরে আমরা আশা প্রকাশ করতেই পারি- যথাসময়ে ভ্যাকসিন পাওয়া এবং তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। কেননা এর জন্য প্রতিটি ধাপেই পরিকল্পনা এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি। তা না হলে পুরো পরিস্থিতিই জটিল হয়ে উঠতে পারে। যা কিছুটা হলেও দৃশ্যমান হয়েছে ভারতের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ে ভ্যাকসিন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

আমরা এরই মধ্যে জেনেছি, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে ভ্যাকসিন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করছে; তা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত সরকার। বাংলাদেশে ভ্যাকসিন পাঠাতে চুক্তি করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। অনিশ্চিয়তা তৈরি হওয়ার পর যদিও সেরামের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি দাবি করেছেন, ঠিক সময়েই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। কিন্তু তারপরও সাধারণ মানুষের মনের সংশয় দূর হচ্ছে না।

এ তো গেল ভ্যাকসিন পাওয়া না পাওয়ার বিষয়। শঙ্কা আছে ভ্যাকসিন আসার পর তার সমবণ্টন, সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, প্রয়োগ ইত্যাদি নিয়েও। প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ঠিকঠাক মতো সেই ভ্যাকসিন পাবে তো? কিংবা সঠিক নিয়মে তা সংরক্ষণ করা হবে তো? এসব প্রশ্ন উঠা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কেননা রাষ্ট্রের বহু ক্ষেত্রে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা স্পষ্ট।

তার প্রমাণও আমরা পেয়েছে। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে শনাক্ত হওয়ার পর স্বাস্থ্যখাতের চরম বিশৃঙ্খলা আমরা দেখেছি। হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়াটা যে কতটা কঠিন ব্যাপার ছিল, তা আর কারোও অজানা নয়।

আমরা মনে করি, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের মতো একটা স্পর্শকাতর বিষয়ের প্রতিটি ধাপেই অধিক সতর্কতা জরুরি। একটু ভুল বা অবহেলায় ঘটে যেতে পারে অনেক কিছু।