চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে হবে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোরবানির পশুর হাট ও ঈদযাত্রায় সাধারণকে লক্ষ্য করে সক্রিয় হয়েছে মলম ও অজ্ঞান পার্টি। কৌশলে তারা অনেকের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে নিচ্ছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর লালবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান ও মলম পার্টির আট জন সদস্যকে আটক করেছে লালবাগের কোতোয়ালি জোনাল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আটককৃতদের কাছ থেকে ১০০ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, ৪টি তরল (মুভ) স্প্রে বোতল, ৪টি নিক্স মলমের কৌটা ও ৩০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া জব্দ করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী দেখলে বোঝা যায়, তারা শুধু খাবারের সাথেই মিশিয়েই জনগণকে বোকা বানানোর মধ্যে নেই। অনেকটা বলপ্রয়োগ করে স্প্রে নয়তো মলম মেখে দিয়ে শিকারকে ঘায়েল করার পদ্ধতি নিয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষজন বেশ সচেতন, বাইরের খাবার খাওয়া ও অন্যের দেয়া খাবারের বিষয়েও অনেকটা সাবধানতা অবলম্বন করছে অনেকে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে যাত্রা পথে ও রাত্রিকালীন চলাচলে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আগের বছরগুলোতে দেখা গেছে, কোরবানির পশুর বেপারিদের গাড়ি ও নৌযান থামিয়ে পশু নয়তো পশু বিক্রির টাকা ছিনতাই করা হয়েছে। কখনো কখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পোশাকে তাদের এসব অপরাধ কর্ম করতেও দেখা গেছে। এবিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরের মতো সতর্ক করেছে জনগণকে। এছাড়া পুলিশের নতুন আইজিপি নির্দেশ দিয়েছেন, অযথা যাতে পশু বহনকারী গাড়ি যেনো থামানো না হয়। বিষয়টি ইতিবাচক, এতে করে হয়রানি চাঁদাবাজি যেমন বন্ধ হবে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পোশাকে প্রতারণার চেষ্টা থেকে মুক্ত থাকবে বেপারিরা।

পশুর হাটের আশেপাশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প ও রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ জনগণ কোনো ধরণের নিরাপত্তা ঝুঁকি মনে করলে তাদের সাহায্য নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির জন্য সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ থেকে পশু কিনতে পারে জনগণ। সেইসঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে লেনদেনও নিরাপদ।

একটু সচেতন ও সতর্ক হলে যেকোনো ধরণের সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকা খুব একটা কঠিন না। এবিষয়ে জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।