চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রজন্মের কিংবদন্তি শেখ হাসিনা

“সকালে ঘুম ভাঙার পর আগে জায়নামাজ খুঁজি। নামাজ পড়ি। তারপর নিজের চা নিজে বানিয়ে খাই” এভাবেই দিনের শুরু হয় শেখের বেটি হাসিনার। যিনি বাংলাদেশের চারবারের সফল প্রধানমন্ত্রী , ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার এবং দেশের সর্ববৃহৎ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। শেখ হাসিনা বর্তমান প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তি নেত্রী।

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, সেই কিংবদন্তি নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলায় রূপান্তরের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেই স্বপ্নপূরণে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রথম সন্তান শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন তিনি। ১৯৬৫ সালে তিনি ম্যাট্রিক এবং ১৯৬৭ সালে বকশীবাজারের পূর্বতন ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভানেত্রী (ভিপি) পদে নির্বাচিত হন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

এক বর্ণাঢ্য সংগ্রামমুখর জীবন শেখ হাসিনার। তবে তার সাফল্যগাঁথার এই কর্মময় জীবন ছিল কণ্টকাকীর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি গৃহবন্দি ছিলেন। সামরিক স্বৈরশাসনামলেও বেশ কয়েকবার তাকে কারা নির্যাতন ভোগ ও গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। বারবার তার জীবনের ওপর ঝুঁকি এসেছে। অন্তত ২০ বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি অসীম সাহসে তার লক্ষ্য অর্জনে থেকেছেন অবিচল।

এর বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন দেশবাসীর অকুণ্ঠ ভালোবাসা। নির্বাচনে বারবার জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘকালীন নারী সরকারপ্রধানের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন। পেয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয়প্রধানের দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে গত ৩৯ বছর ধরে নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। বিশ্বের সমস্যা ও সংকট নিরসনে ভূমিকার পাশাপাশি শোষিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখায় তাকে এখন বিশ্বনেতার মর্যাদা দেওয়া হয়ে থাকে।

তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহাজোট গড়ে ওঠে। ১৪ দল ও মহাজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ১৬ জুলাই গ্রেফতার করা হয় শেখ হাসিনাকে। ওই সময় সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দি ছিলেন তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এই পর্যন্ত চার মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরপর দ্বিতীয় মেয়াদের মহাজোট সরকার গঠিত হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জনের পর ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে শপথ নেয় তার নেতৃত্বাধীন সরকার।

এছাড়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে অর্থাৎ মোট তিন দফায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি সরকার পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। ১৯৯৬-২০০১ সালে তার সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের টানা ১০ বছরে দেশে বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য শেষ করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, প্রথমবারের মতো এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলারে উন্নীত, প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ শতাংশ, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া, ৯৪ ভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় আনা, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনার সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
এই অঞ্চলে গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারীশিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। এছাড়া শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন হিরো-২০১৯, সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার- ২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস. বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডেল-১৯৯৯, গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ প্রভৃতি পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

১৯৮১ সালে দেশে প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার বহনের পাশাপাশি চতুর্দিকে শেখ হাসিনাকে এক চরম বৈরী অবস্থা মোকাবিলা করতে হয়। এর ভেতর একটি ছিল সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ও তৎপরতা। ১৯৮০ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধর্মচেতনাভিত্তিক আফগান তালেবানি শক্তির উত্থান, ওসামা-বিন লাদেনের নেতৃত্বে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সৃষ্টি, ২০০১ সালে আল-কায়েদার সন্ত্রাসী আক্রমণে আমেরিকার টুইন-টাওয়ার ধ্বংস বা ৯/১১-এর সৃষ্টি এবং বিশ্বব্যাপী ধর্ম ইসলামের নামে সৃষ্ট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক যুদ্ধ ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটায়। ইরাক-সিরিয়া জুড়ে আইএস (ইসলামিক স্টেট)-এর উত্থান এক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন।

জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও নানা দিক থেকে অন্য দেশ থেকে এদেশ স্বতন্ত্র। এতদসত্ত্বেও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রভাব থেকে এদেশ নিজকে মুক্ত রাখতে পারেনি। তবে, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ‘গণতন্ত্র’ ও ‘জাতীয়তাবাদী রাজনীতি’র নামে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রথম বিএনপি সরকার (১৯৯১-১৯৯৬) এবং ২০০১ সালের নির্বাচন-উত্তর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) ইসলামের নামে জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় মদদ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ফলে দেশজুড়ে জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকাত-উল-জিহাদ, হিজবুত তাহিরী, আল-জিহাদ বাংলাদেশ, আল্লাহর দল ব্রিগেড ইত্যাদি নামে অসংখ্য জঙ্গিগোষ্ঠী ও এদের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের পরপর এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী চক্র ঐ সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক হিংস্র ছোবল মারতে থাকে। যশোরে উদীচী সম্মেলনে (১৯৯১), খুলনার আহমাদিয়া মসজিদে (১৯৯৯), পল্টনে সিপিবি’র জনসভায় (২০০১), রমনার ১লা বৈশাখ অনুষ্ঠানে (২০০১), মকসুদপুরের বালিয়াচর খ্রিস্টান চার্চে (২০০১), নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (২০০১), ময়মনসিংহে সিনেমা হলের অভ্যন্তরে (২০০২), বিচারকের বাড়িতে, জজের কোয়ার্টার্সে, আদালত প্রাঙ্গণে, আইনজীবী সমিতি ও ডিসি’র অফিসে বোমা হামলা (২০০৫), ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় একযোগে পাঁচশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ (২০০৫), শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় তার জনসভাস্থলে (২০০০) ৭০ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা, একই উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ‘শান্তির পক্ষে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে’ গ্রেনেড হামলা (২১ আগস্ট ২০০৪), ইতালি ও জার্মানির দুই নাগরিক যথাক্রমে সিজার তাবেল্লা ও হোসি কোনিও (২০১৫) হত্যা, মন্দিরের পুরোহিত যোগেশ্বর রায়-এর হত্যা (২০১৬), ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ১৭ জন বিদেশীসহ ২০ জন জিম্মি ও ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা হত্যার পৈশাচিক ঘটনা (১ জুলাই ২০১৬), কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের জামায়াতে জঙ্গি আক্রমণ ও পুলিশ হত্যা (৬ জুলাই ২০১৬) ইত্যাদির মাধ্যমে কীভাবে এই জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির রাজত্ব কায়েম করতে উদ্যত হয়, তা সকলেরই জানা।

বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হন খুলনা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম (২০০৩), নাটোরের আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজউদ্দিন আহমেদ (২০০৩), শ্রমিক নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার (২০০৪), আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া (২০০৫)-সহ দেশজুড়ে কয়েক হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।

জীবনের শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনাকে উগ্র জঙ্গি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে সফলভাবে মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি (যারা ১৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছিল) তাদের এবং প্রধানত বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, পাকহানাদার বাহিনীর দোসর, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অনেককে ঘৃণ্য অপরাধের দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিচারের সর্বোচ্চ রায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতেও ইতোমধ্যে সমর্থ হয়েছেন। একমাত্র শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থান ও অঙ্গীকার এবং দেশবাসীর সাধারণ সমর্থনের কারণেই এদের বিচার সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ব নেতৃত্বে শেখ হাসিনা এখন একটি অনুকরণীয় নাম। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে দুর্যোগ দুর্বিপাক যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের গভীর আঁধার থেকে দেশের মানুষকে নতুন দিনের সূর্যালোকে নিয়ে আসতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক এই দূর্যোগ বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার সাহস ও বাস্তবমুখি পদক্ষেপ এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অনেক কম। অন্যদিকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষায় সুদূর ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। একাধিক ভিডিও কনফারেন্স করেছেন বিশ্বনেতাসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানের সাথে। আহ্বান জানিয়েছেন বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলায় একসাথে কাজ করার।

এ পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মোট ৪ বার সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনার সুযোগ লাভ করে। এই সময়ে জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনসমূহ নিম্নরূপ:
সংসদীয় ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫) বাতিল (১২ নভেম্বর ১৯৯৬) করে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার অনুষ্ঠান ও রায় কার্যকর করা, ৭১’এর স্বাধীনতা ও মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসী-জঙ্গিগোষ্ঠীর গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত ও কয়েকশ লোক আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আশ্রয় এনে বিচারের ব্যবস্থা, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি (১২ ডিসেম্বর ১৯৯৬), পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি (২ ডিসেম্বর ১৯৯৭), খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, অক্ষম-দুস্থদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, গ্রামীণ জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তাদের জন্য মাসিক ভাতা, ছিন্নমূল ও গৃহহীনদের জন্য ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ কর্মসূচি, বস্তিবাসীদের জন্য ঘরে ফেরার কর্মসূচি, অসহায় বৃদ্ধদের বসবাসের জন্য ‘শান্তি নিবাস’ তৈরি, হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে খাদ্য সাহায্য, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ, নারীর ক্ষমতায়ন, ২১ ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন (১৭ নভেম্বর ১৯৯৯), ইউনেস্কো কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ হিসেবে ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্তি (৩০ অক্টোবর ২০১৭), অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা’ রহিতকরণ (পঞ্চদশ সংশোধনী, ৩ জুলাই ২০১১), নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু (৬.১৫ কিমি দীর্ঘ) নির্মাণ, মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি (১৪ মার্চ ২০১২), ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি (৭ জুলাই ২০১৪), ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় (৩১ জুলাই ২০১৬), কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ, দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা শহরে মেট্রো রেল প্রকল্প, রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মহাশূন্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ (১২ মে ২০১৮), জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান কঠোর হস্তে দমন, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সর্বোচ্চ শতকরা ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন পে-স্কেল ২০১৫ ঘোষণা, প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমার থেকে নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ ১১ লক্ষ জীবনবিপন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়দান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি (২০ হাজার মেগাওয়াট), দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, গড় আয়ু বৃদ্ধি (৭৩ বছর), প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি (৭.৮৬%), মানুষের মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি (২০৬৪ মার্কিন ডলার), দারিদ্র্যের হার হ্রাস (৪৪ থেকে ২১ শতাংশ), অতিদারিদ্র্য হার হ্রাস (২২ থেকে ১১ শতাংশ), জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন, কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তির হার শতকরা ১ ভাগ থেকে ২০ ভাগে উন্নীত, দেশের ১০০টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপন প্রকল্প, নিম্নমাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়েবসাইট চালু, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে ১৪টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৫টি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণে অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল এ্যাক্ট ২০১৭ পাস, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণ, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য নিজস্ব ভাষায় পাঠ্য বই রচনা, শিক্ষা পাঠ্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশে উন্নীত, শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ, ঝড়ে পড়া রোধ, বছরের প্রথম দিন প্রায় ৩৮ কোটি পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে বিতরণ, নারী শিক্ষা প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ, ২১০০ সালকে লক্ষ্য মাত্রায় রেখে ডেল্টা পরিকল্পনা গ্রহণ, বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জন (১৫ মার্চ ২০১৭) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এক কথায়, জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার সরকারের অর্জন বিশাল।

দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহজ-সরল ভাষায় বলেছেন, ‘দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না’। তার মতে, দুর্নীতি ও অপরাধ যে করবে এবং যে প্রশ্রয় দেবে- তারা সবাই সমান অপরাধী। ঘুষ নেয়া যেমন অপরাধ, দেয়াটাও সমান অপরাধ। অপরাধী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অপরাধ করে ছাড় পাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, কেবল আইন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে দুর্নীতি ও অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়; এ জন্য সামাজিক সচেতনতাও সৃষ্টি করতে হবে। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের কল্যাণ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।

পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা
পদ্মাপাড়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। ঝড়-বৃষ্টি আর প্রবল স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর কাজ। মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতুর নানামুখী কাজ হচ্ছে। এর উভয় পাড়ে সংযোগসড়ক ও টোল প্লাজার কাজ শেষ। দেশের প্রথম প্রবেশ-নিয়ন্ত্রিত সিক্স লেন এক্সপ্রেসওয়ে ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। চলছে নদীশাসন, ড্রেজিংসহ বিভিন্ন স্থানে স্লপিংয়ের কাজ। সার্বিকভাবে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দৃশ্যমান হচ্ছে সেতুর প্রায় ৫ কিলোমিটার। দিনরাত অবিশ্রান্ত চলছে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ। কোটি মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই কর্মযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে।

লেখক শেখ হাসিনা
কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন তিনি; তার রয়েছে একাধিক প্রকাশিত গ্রন্থ। লেখক হিসেবেও তিনি খ্যাতিমান। সময় পেলেই তিনি লিখে চলেন নিজের অভিমতসমূহ। দেশ ও জাতি নিয়ে তার ভাবনার প্রকাশ ঘটে প্রধানত প্রবন্ধে-নিবন্ধে। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো- ‘ওরা টোকাই কেন’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, People and Democracy, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’, ‘সহে না মানবতার অবমাননা’, Democracy in Distress Demeaned Humanity, Living in Tears, Democracy Poverty Elimination and Peace, ‘বিপন্ন গণতন্ত্র, লাঞ্ছিত মানবতা’, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা’, ‘সাদা কালো’, ‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’, ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ প্রভৃতি।

শিক্ষায় সাফল্য ঈর্ষণীয়
শিক্ষাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেবার জন্য শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম। নারী শিক্ষাকে এগিয়ে তিনি প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। বর্তমান ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করা হয়েছে। শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে “শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট”।

নারী ও শিশুর উন্নয়ন
সর্বক্ষেত্রে সন্তানের পরিচয় ও নিবন্ধনে বাবার নামের পাশাপাশি মায়ের নামও যুক্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই। নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে “জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা”। নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি কার্যক্রম। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। “জাতীয় শিশু নীতি” প্রণয়নের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে। দেশের ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল। দুস্থ, এতিম, অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভূষিত করা হয়েছে জাতিসংঘের বিভিন্ন পদক ও উপাধিতে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে শেখ হাসিনার সরকার নিয়েছে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার অভিপ্রায়ে দেশের ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫০০০। দেশের সবক’টি উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ৪ জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন
কৃষিখাতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ বারবার আলোচিত হয়েছে। প্রায় ১৮ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টন। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম আবিষ্কার করেছেন পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং।

অবাক বিস্ময়ে বিশ্ববাসী আজ বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া দেখছে। অনুকরণ করছে এদেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র। এখন মানুষ স্বপ্ন দেখে না। বাস্তবতার জয়গান গায়। শুধু কি তাই! স্বল্পোন্নত থেকে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। একে একে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর তুলনায় স্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে। বাংলাদেশ এখন দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নের মডেল। একদা যেসব দেশ বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ দিতো তারাই এখন উল্টো সুরে গাইছে। প্রশংসাবাণে ভাসিয়ে ফেলছে। বলছে এই বাংলাদেশ আর সেই আগের বাংলাদেশ নয়। বদলে গেছে এর সবকিছুই।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ নিরাপদ। তার নেতৃত্বেই এখানে উন্নয়নের নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। নতুন এক উচ্চতায় সমাসীন হয়েছে প্রিয় বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক প্রাণঘাতি করোনার হাত থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে তিনি যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছেন, তা সমগ্র জাতি গভীর কৃতজ্ঞতায় প্রত্যক্ষ করছে। পিতার মতো তিনিও রাজনীতিকে গ্রহণ করেছেন ত্যাগের আদর্শ হিসেবে। তার সৎ, যোগ্য ও দৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে অনেক দূর এগিয়ে যাবে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)