চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পৃথিবীর মতো আরেক ‘বিশ্ব’

নাসার গ্রহ খোঁজার স্যাটেলাইট টেস একটি পৃথিবী সদৃশ গ্রহ আবিস্কার করেছে। নতুন খোঁজ পাওয়া গ্রহটি তার নক্ষত্রের সঙ্গে বসবাসযোগ্য এলাকার মধ্যেই রয়েছে। এ কারণে সেখানে পানি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন এই গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে, টিওআই ৭০০ ডি। পৃথিবী থেকে মাত্র ১০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্রহটি। হাওয়াইয়ের হনুলুলুতে আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটির বার্ষিক সভায় নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি নতুন গ্রহ পাওয়ার ঘোষণা দেয়।

বিজ্ঞাপন

নাসার অ্যাস্ট্রোফিজিকস ডিভিসনের ডিরেক্টর পল হার্জ বলেন, টেসের ডিজাইন ও চালুই করা হয়েছে পার্শ্ববর্তী নক্ষত্রদের কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা পৃথিবী সদৃশ গ্রহগুলো খোঁজার জন্য।

শিকাগো ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী এমিলি গিলবার্ট বলেন, নক্ষত্রের প্যারামিটারটা ঠিক করলে আমরা দেখি গ্রহের আকারটা ছোট দেখা যায়। দূরতম নতুন গ্রহটিকে আকার এবং বসবাসযোগ্য জায়গায় অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এই আবিস্কার স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগেও এই ধরনের বেশ কিছু গ্রহের খোঁজ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে। তবে ২০১৮ সালে চালু হওয়ার পরে টেসের এটাই প্রথম আবিস্কার।

টেস আকাশের একটি জায়গায় স্থির থাকে দেখার জন্য যে কোনো বস্তু, গ্রহ নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাচ্ছে কিনা। তাহলে নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্য খানিকটা কমে যায়। আর সেটা দিয়েই টেস কোনো গ্রহের অবস্থান তার আকার ও গতি অনুমান করতে পারে।

নক্ষত্র টিওআই ৭০০ খুবই ছোট। আমাদের সূর্যের তুলনায় ৪০ শতাংশ ছোট এবং অর্ধেক পরিমাণ গরম। সেখানে তিনটি গ্রহকে ঘুরতে দেখে টেস। সেগুলোর নাম টিওআই ৭০০ বি, সি এবং ডি। এর মধ্যে ডি শুধুমাত্র বসবাসযোগ্য এলাকায় রয়েছে। না নক্ষত্রের থেকে খুব দূরে আর না খুব কাছে। ফলে তার তাপমাত্রায় গলা পানির অবস্থান থাকতে পারে।

এটি পৃথিবী থেকে ২০ শতাংশ বড় এবং ৩৭ দিনে একবার নক্ষত্রকে পরিভ্রমণ করে। সূর্য থেকে পৃথিবী যে শক্তি শোষণ করে তার ৮৬ শতাংশ শোষণ করে ডি। তবে ডি কি দিয়ে তৈরি তা এখনো জানা যায়নি।

তবে এক বিশ্লেষণে নাসা জানিয়েছে, গ্রহটিতে ঘন কার্বন ডাই অক্সাইড ঘেরা পরিবেশে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা যেমনটি তারা জানিয়েছিলো মঙ্গলকে কেবল পাওয়া গেছিলো তখন।

এই গ্রহটিও নক্ষত্রের সঙ্গে যুক্ত। মানে এক দিক সবসময় নক্ষত্রের দিকে মুখ করে থাকে। যেমনটা চাঁদ ও পৃথিবী করে। এই সমকালীন ঘুর্ণন বোঝায়, গ্রহটির অন্য পাশ সবসময় মেঘে ঢাকা থাকে। এখন আরো অনেক জ্যোতির্বিদ অন্যান্য অনেক বিষয় দিয়ে গ্রহটিকে পর্যবেক্ষণ করবেন আরো নতুন নতুন তথ্য সংগ্রহের জন্য যদি কোনোটা নাসার গ্রহের মডেলের সঙ্গে মিলে যায়।