চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পর্দায় শেষবার সুশান্ত, কেমন হলো ‘দিল বেচারা’?

শুক্রবার সন্ধ্যায় সুশান্তের ভক্তরা ফোনে, ল্যাপটপে ডিজনি হটস্টার খুলে ‘দিল বেচারা’র দেখার অপেক্ষায় বসে ছিলেন। সাড়ে সাতটা বাজতেই ঝড়ের গতিতে দর্শক বাড়তে শুরু হলো। সুশান্তকে শেষবারের মত সিনেমায় দেখে আবেগে ভেসেছেন দর্শকরা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আইএমডিবি-তে ১০/১০ রেটিং পেল ‘দিল বেচারা’।

টিনএজ প্রেমের গল্প নিয়ে জন গ্রিনের লেখা বই ‘দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টারস’র গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মুকেশ ছাবড়ার ‘দিল বেচারা’ সিনেমাটি। ‘দিল বেচারা’র গল্প ‘কিজি’ এবং ‘ম্যানি’ চরিত্র দুটিকে ঘিরে। ‘কিজি’র থাইরয়েড ক্যানসার আর ‘ম্যানি’র অস্টিওসারকোমা।

বিজ্ঞাপন

কিজি ও ম্যানির রোমান্স, হাসি-ঠাট্টা, আবেগ দর্শকদের খুব সহজেই পর্দায় ধরে রাখতে পেরেছে। সুশান্তের অভিনয় তো বটেই, সঞ্জনা সাংঘির অভিনয়ও মুগ্ধ করেছে দর্শককে। সেই সাথে ‘কিজি’র বাবা মায়ের চরিত্রে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ও ছিল অসাধারণ। অতিথি শিল্পী হিসেবে নজর কেড়েছেন সাইফ আলি খানও।

দিল বেচারা সিনেমাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করছেন অনেকেই। সুশান্তের অধিকাংশ ভক্তই প্রশংসায় ভাসছেন। কেউ কেউ নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সিনেমাটি দেখে। চোখের পানিতে বিদায় দিয়েছেন সুশান্তকে। অনেকে বলছেন, মৃত্যুর পরও বাঁচতে শিখিয়ে গেল ‘দিল বেচারা’র ‘ম্যানি’ চরিত্রের সুশান্ত। কোনো কোনো ভক্তের মতে, সিনেমার গল্পটি মন ভালো করে দেয়ার মতো। সিনেমা শেষ হয়ে গেলেও রেশ থেকে যায়।

বলিউডের অনেক নির্মাতা ও তারকা ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচকরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কারও কারও কাছে ছবির গল্প এবং নির্মাণ দুর্বল মনে হলেও সুশান্তের অভিনয় সবার কাছেই অসাধারণ মনে হয়েছে।

স্ত্রী জেনেলিয়াকে নিয়ে ‘দিল বেচারা’ দেখেছেন রিতেশ দেশমুখ। তিনি লিখেছেন, ‘পপকর্ন নিয়ে প্রস্তুত। দিলবেচারা দেখছি। সুশান্ত আপনি আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা হয়ে থাকবেন।’

রুপা গাঙ্গুলি লিখেছেন, ‘কী বলবো বুঝতে পারছি না, হাসতে থাকুন সবসময়… যেখানেই আছেন! দিল বেচারা ভালো লেগেছে।’

মনোজ শর্মা লিখেছেন, ‘কোনো সিনেমা দেখে এত কাঁদিনি, যতটা আজ কেঁদেছি দিল বেচারা দেখে। সিনেমাটি দেখার পর তার অনুপস্থিতি মেনে নেয়া আরও কঠিন হয়ে গেছে। কাকতালীয়ভাবে প্রতিটি সংলাপ খুব বাস্তব মনে হয়েছে। আমরা আমাদের সময়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল মেধাকে হারিয়েছি।’

ফিল্ম ট্রেড অ্যানালিস্ট রমেশ বালা লিখেছেন, ‘প্রেমের মর্মান্তিক পরিণতির ছবি… সুশান্ত সিং রাজপুতের অভিনয় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সুশান্তকে দেখার সময় একই সঙ্গে আনন্দ লাগবে, আমার কষ্টও লাগবে। তাকে আর দেখতে পাবো ভেবে মন খারাপ হবে…সুশান্তের জন্য অবশ্যই দেখা উচিত।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের চলচ্চিত্র সমালোচক শুভ্রা গুপ্তা লিখেছেন, ‘প্রাণঘাতী অসুস্থতা নিয়ে দুই তরুণের প্রেম, হাসি, ঠাট্টা, কান্না। তবে সিনেমার এক দৃশ্যের সঙ্গে অন্য দৃশ্যের সংযোজনে দুর্বলতা আছে। আছে ফিল্মি ম্যানি এবং মিষ্টি কিজি, যে এক গায়কের ভক্ত।’

চলচ্চিত্র সমালোচক কামেশ্বরি বলেন, ‘ছবির গল্প ভালো লাগেনি তেমন, তবে সুশান্ত তো আছেন। তিনি নেই, তবু তিনি আছেন। মন এবং হৃদয়ের যুদ্ধ চলেছে তাকে দেখে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ম্যানি চরিত্রের সুশান্ত খুবই প্রাণবন্ত। কিজি চরিত্রে সঞ্জনাও ভালো করেছেন।’

দ্য হিন্দুর চলচ্চিত্র সমালোচক কেনিথ রোজারিও লিখেছেন, ‘দিল বেচারা বাস্তব এবং কল্পকাহিনীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।’ তবে তিনি মনে করছেন, ছবিতে গভীরতা নেই, এবং চরিত্রগুলো এক-মাত্রিক লেগেছে।

‘এক থা রাজা, এক থি রানি। দোনো মর গ্যায়ে, খতম কাহানী’, বলা হলেও দর্শকের মনে এই ছবির জন্য ভালোবাসা শেষ হবে না কখনো। সুশান্ত সিং রাজপুতের ভক্তদের জন্য ২৪ জুলাইয়ের রাতটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল।