চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পরিবর্তন আসুক আলোর পথেই

দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারো নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থীদের বড় একটা অংশ আত্মসমর্পণ করেছে। সরকারের সাধারণ ক্ষমা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতিতে অন্ধকার জীবন ছেড়ে আলোর পথে পা বাড়িয়েছেন তারা। মঙ্গলবার পাবনায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন দেশের ১৫টি জেলার অন্তত সাড়ে ৫’শ জন চরমপন্থী।

সম্প্রতি আমরা সুন্দরবনে কয়েক দফায় জলদস্যু-বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ দেখেছি। একই পথে পা রেখেছে ইয়াবা পাচারের কেন্দ্রস্থল কক্সবাজারের টেকনাফে শতাধিক মাদক কারবারিও। মূলত তাদের দেখানো পথেই অনুপ্রাণিত হয়েছে এই সব চরমপন্থীরা। যারা পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটি নামে দীর্ঘ বছর ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, লুটতরাজসহ ভয়ংকর সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এসেছে।

বাহাত্তর সালে থেকে আমরা দেখেছি, সদ্য স্বাধীন একটা দেশে সমাজতন্ত্র কায়েমের নাম করে আসলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে একটি সংগঠন। প্রকৃতপক্ষে তাদের সামনে আদর্শ বলে কিছু ছিল না। সেই আদর্শহীন দলটি আশির দশকে এসে ভেঙে যায়। ওই দল থেকে তৈরি হয় বিভিন্ন উপ-দল। তাদের মধ্যে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি কয়েক খণ্ড হয়। এসব দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা বিভিন্ন এলাকার দুর্গম চরাঞ্চলে ঘাঁটি গেড়ে সন্ত্রাস চালিয়ে যায়।

এরপর ২০ বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪ শতাধিক চরমপন্থী তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে আত্মসমর্পণ করে। পরে আনসার বাহিনীতে বিশেষ আনসার হিসেবে তাদেরকে নিয়োগ দিয়ে পুনর্বাসিত করে সরকার। যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার পুরানো দলেই ফিরে যায়।

কেউ যদি ভুল বুঝতে পেরে তা সংশোধন করে নিতে চায়, তাদের সুযোগ দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পুর্নবাসনের আড়ালে তারা যেন অতীত জীবনের কর্মকাণ্ড না চালাতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন বিশেষ নজরদারি। বিশেষ করে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কেননা, দলত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় তারা পুরনো দলের হুমকিতে থাকে। থাকে নানা প্রলোভনও।

আজ যখন এতো সংখ্যক চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করছে, ঠিক তার আগের রাতের একটি ঘটনা আমাদেরকে আতঙ্কিত করে। তা হলো সোমবার দিবাগত রাতে বগুড়ার শেরপুরে টহল পুলিশের ওপর চরমপন্থীদের হামলা। যে ঘটনায় পুলিশের এএসআই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। একদল চরমপন্থী আজকের আত্মসমর্পণ মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা রাতের অন্ধকারে পোস্টার সাঁটিয়ে লিখেছে, ‘পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন – মার্কসবাদ, লেনিনবাদ জিন্দাবাদ।’

তার মানে বিষয়টি যতটা সহজ ভাবা হচ্ছে, ঠিক ততটা সহজ না। সুতরাং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। আমরা মনে করি, সন্ত্রাসবাদ শান্তির কোনো পথ নয়। এতে শুধু জীবন, রক্ত আর সম্পদের ক্ষয় হয়।