চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এফডিসিতে আবারও নির্বাচনী হাওয়া: পরিচালক সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন যারা

একটু একটু করে এফডিসিতে লাগছে নির্বাচনী হাওয়া। শুটিং ফ্লোরের সামনে, ক্যান্টিনে চা-সিঙ্গাড়ার আড্ডা, পরিচালক সমিতির অফিস সংলগ্ন চত্বর সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা। সবাই প্রস্তুত হচ্ছেন ২০২১-২২ মেয়াদে পরিচালক সমিতির নির্বাচন নিয়ে। এতে করে পরিচালকদের আনাগোনায় আবার সরব হয়েছে চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর এফডিসি। 

পরিচালক সমিতির সংবিধান অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ শুক্রবার নতুন মেয়াদের কমিটির জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে করোনার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে গেছে। সেজন্য আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে। তবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য প্রার্থীরা থেমে নেই, ইতোমধ্যে নিজেদের মতো করে নেমে পড়েছেন প্রচারণায়।

বিজ্ঞাপন

পরিচালক সমিতি জয়েন্ট স্টকের আওতাভুক্ত। সেখান থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, করোনার কারণে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা না থাকলে ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারতো বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান বিদায়ী কমিটির সমিতির সাংগঠিক সচিব অপূর্ব রানা। তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর অথবা ১ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হয় নির্বাচনের ৪৫ দিন আগে। সমিতির সংবিধানে এও উল্লেখ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংকট বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়লে নির্বাচনে পিছিয়ে যেতে পারে। উদাহরণ দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী অপূর্ব রানা বলেন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আমরা পরিচালক সমিতির নির্বাচন করতে পারিনি। ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের কারণে। সেজন্য পরিচালক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। এবারও করোনা দুর্যোগের কারণে নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে।

একাধিক নির্মাতা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, অভ্যন্তরিনভাবে নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। সভাপতি ও মহাসচিব প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি তোড়জোড় চালাচ্ছেন। সমিতির সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে, পরিচালক সমিতির নির্বাচনে প্যানেল থাকতে পারবে না। তবে প্রতিবার নির্বাচনে সমমনা প্রার্থীরা নিজেদের বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গ্রুপে বিভক্ত হন।

আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী হচ্ছেন, সোহানুর রহমান সোহান, শাহ্‌ আলম কিরণ। তবে এ দুজনের নাম ছাপিয়ে শোনা যাচ্ছে কাজী হায়াৎও সভাপতি পদে নির্বাচন করতে পারেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য তিনজন প্রার্থীর নাম উঠে আসছে। তারা হলেন শাহীন সুমন, সাফি উদ্দিন সাফী এবং এস এ হক অলিক।

দাঙ্গা, ক্রাস, লটতরাজ, আম্মাজন, ইতিহাস, বীর সহ সর্বমোট ৫০ টি ছবির নির্মাতা কাজী হায়াৎ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমি যদি সুস্থ থাকি তাহলে সভাপতি পদেই নির্বাচন করবো। যারা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের জানানো শুরু করেছি।  ২৫ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ছিল। শুরু থেকে উৎসাহ নিয়ে আগাচ্ছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্বাচনটা পিছিয়ে গেছে, সে কারণে উৎসাহে কিছুটা ভাটা পড়েছে। যে সিনেমা আমাকে এতো কিছু দিয়েছে, জীবনের শেষ সময়ে এসে দেখি সিনেমার জন্য আমি কিছু করতে পারি কিনা। সে ভাবনা থেকেই নির্বাচনে লড়াই করার ইচ্ছে আছে।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘কথা দাও সাথী হবে’ ছবির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,  সভাপতি পদেই নির্বাচনে করবো। আমার সঙ্গে থাকবেন শাহীন সুমন। সে মহাসচিব প্রার্থী। সার্বিক পরিস্থিতি বলছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হয়তো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শাহীন সুমনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

‘বিচার হবে’ ছবির পরিচালক শাহ্‌ আলম কিরণও নিশ্চিত করে জানালেন, তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন। তার ভাষ্য, আমার সঙ্গে সাধারণ পদে সাফি উদ্দিন সাফী থাকতে পারেন। পুরোপুরি প্রচারণায় নামবো নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার পর। পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’র দুই কিস্তি এবং ও সাথি রে ছবির পরিচালক সাফি উদ্দিন সাফী বলেন, আমি মহাসচিব পদে নির্বাচন অংশ নিচ্ছি। শাহ্‌ আলম কিরণ ভাইয়ের সঙ্গে আছি।

‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ ছবির পরিচালক এস এ হক অলিক বর্তমানে নাটকের নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক। পরিচালক সমিতির নির্বাচন নিয়ে তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ৯ জানুয়ারি ডিরেক্টর গিল্ডের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা এবং পরবর্তী কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তারপর চূড়ান্তভাবে বলতে পারবো পরিচালক সমিতির নির্বাচন করবো কিনা! তবে মহাসচিব পদে নির্বাচনে অংশ নেয়া ইচ্ছে এখন পর্যন্ত আছে।

এদিকে পরিচালক সমিতি সংবিধানে আছে সভাপতি, মহাসচিব ও কোষাদক্ষ এ তিনপদে পর পর দুইবার যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হন, তবে তৃতীয়বার একই পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। অন্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন। অন্যথায় একটি মেয়াদে বিরতি দিয়ে আবার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাদক্ষ পদে প্রার্থী হতে পারবেন।

তাই সংবিধান মতে, পরিচালক সমিতির পরপর দুবার নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান গুলজার ও বদিউল আলম খোকন একই পদে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।