চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘পরামর্শদাতা’ সেই ওয়েটারকে খুঁজে পেয়েছেন টেন্ডুলকার

তামাম ক্রিকেটবিশ্ব যে সমস্যাটা ধরতে পারেনি, সেটার কারণ খুঁজে বের করে দিয়েছিলেন একজন ওয়েটার, দিয়েছিলেন পরামর্শও। যাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল তিনি গড়পড়তা কেউ নন, স্বয়ং শচীন টেন্ডুলকার। ১৮ বছর আগের স্মৃতি খুঁড়ে ওই ওয়েটারকে খুঁজতে টুইটারের দ্বারস্থ হয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি। মিলেছে ফলও।

‘হঠাত এক দেখাই অনেক স্মরণীয় হতে পারে। চেন্নাইয়ে এক টেস্টের সময় তাজ করোমেন্ডেল হোটেলের একজন কর্মীর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। যার সঙ্গে আমার এলবো গার্ড নিয়ে কথা বলেছিলাম। তার সঙ্গে কথা বলার পরেই আমার এলবো গার্ড নতুন করে ডিজাইন করি। সে যেখানেই থাকুক না কেনো, তার সঙ্গে দেখা করতে খুব ইচ্ছা করছে। হেই নেটিজেনরা, তোমরা কি তাকে খুঁজে বের করে দিতে পারবে?’ টুইটার পোস্টে এমন করেই লিখেছিলেন শচীন।

পোস্টের নিচে একটি ভিডিও পোস্ট করেন শচীন। সেখানে ওয়েটারের সঙ্গে নিজের কথোপকথন তুলে ধরেছেন কিংবদন্তি সাবেক ব্যাটসম্যান। কীভাবে তার কথায় বিস্মিত হয়ে নিজের গার্ডের মডেল পাল্টে ফেলেছিলেন সেটাও জানিয়েছেন।

‘সেই কর্মী আমাকে কফি দিতে এসেছিলেন। এসে বললেন, আমি কি আপনাকে একটা কথা বলতে পারি? অনুমতি দিতেই বললো, আমি খেয়াল করেছি এলবো গার্ডের কারণে আপনার ব্যাটের সুইংয়ে নড়চড় হয়। আমি আপনার ভীষণ বড় ভক্ত। আপনার ব্যাটিংয়ের সময়কার প্রতিটি বল আমি ৫-৭বার করে দেখি।’

‘তাকে বললাম, আপনিই একমাত্র ব্যক্তি যে বিষয়টা খেয়াল করেছেন। বললে কেউ হয়তো বিশ্বাস করবেন না, আমি নিচ থেকে রুম এসেই এলবো গার্ডের নতুন নকশা করেছি, একদম ঠিক সাইজে।’

বিজ্ঞাপন

শচীনের এই আহ্বান বৃথা যায়নি। গুরুপ্রসাদ নামের সাবেক সেই হোটেলকর্মী নিজেই দিয়েছেন সাড়া। তামিলনাড়ুর নিউজ এইটিন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি আসলে ওয়েটার ছিলেন না, ছিলেন হোটেলের নিরাপত্তা কর্মী। চেয়েছিলেন ক্রিকেটারদের অটোগ্রাফ। তখনই শচীনকে দিয়েছিলেন পরামর্শ। ২০০১ সালের ঘটনাটি যে কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান মনে রেখেছেন তাতে ভীষণ অবাক ৪৬ বছর বয়সী গুরুপ্রসাদ।

‘তিনি(শচীন) আমাকে হয়তো ইউনিফর্ম পরা দেখে ওয়েটার ভেবে ভুল করেছিলেন। শচীন ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট খেলতে সেসময় চেন্নাই ছিলেন। একজন ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনি। তাকে বলেছিলাম তিনি যেন এলবো গার্ডটা পরিবর্তন করে নেন। কারণ তার ব্যাট হাতে সমস্যা হচ্ছিল এবং আউট হয়ে যাচ্ছিলেন।’

‘কিন্তু দুই দশক পর যে তিনি আমার কথা মনে রাখবেন সেটা মোটেও কল্পনা করিনি। তার সঙ্গে আমার এক মিনিটেরও কম কথা হয়েছিল।’

‘আমি তার সঙ্গে দেখা করতে মুখিয়ে আছি। যদিও তাকে আর তার পরিবারের জন্য লম্বা আয়ু কামনা ছাড়া আমার দেয়ার মতো কিছুই নেই। তবে তিনি চাইলে আমি কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে পারি যারা আমার মতোই ক্রিকেট পাগল।’

শেয়ার করুন: