চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নুসরাত হত্যাকাণ্ড: আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন আটক

ফেনীর মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার বিকেলে দিকে সোনাগাজী উপজেলা শহরের উত্তর চর চান্দিয়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন পিবিআই এর বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল।

বিজ্ঞাপন

রুহুল আমিনকে ফেনী পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জানা যায়, ২৭ মার্চ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ওই মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। পরে জনরোষে তিনি অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

‘পরদিন সোনাগাজী জিরোপয়েন্টে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে কাউন্সিলর মুকছুদ আলমের নেতৃত্বে যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয় তাতেও ইন্ধন দেন রুহুল আমিন।’

এর আগে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম জানান, নুসরাত হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে। এই টাকার উৎস জানতে সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। যৌন হয়রানি ও হত্যা মামলা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইউনিট তদন্ত করবে। তবে মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি তদন্ত করবে সিআইডি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সিআইডি’র একটি অনুসন্ধানী টিম সোনাগাজী গিয়ে অনুসন্ধান করবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক লেনদেনের হিসাব দেখা হবে। আগামী সপ্তাহে আমাদের সিআইডি কর্মকর্তারা সোনাগাজী গিয়ে তারা অনুসন্ধান চালাবেন।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি।

সেই মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের মুখোশধারী লোকজন গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান।