চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নিজস্ব অর্থায়নেই হবে পায়রার রাবনাবাদ চ্যানেলের ড্রেজিং: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব অর্থায়নে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিংয়ের কাজ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। আগে কথা ছিল এটা জয়েন্টভেঞ্চারে হবে বা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে হবে, এখন আর সেটা হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বুধবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আজকের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিং’ কার্যক্রম পিপিপি পদ্ধতির পরিবর্তে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

রিজার্ভ থেকে পায়রা বন্দরে যে অর্থ দেয়া হয়েছে সেখান থেকে প্রাইভেট খাত লোন নিতে পারবে কি-না?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকের ক্রয় কমিটিতে পায়রা বন্দরের কোনো কিছু অনুমোদন দেয়া হয়নি। তবে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে একটি প্রস্তাব এসেছিল সেটার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী মিটিংয়ে যখন প্রকিউরমেন্টের জন্য পায়রা বন্দরের বিষয় আসবে তখন জানা যাবে। আজ শুধু নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে যে সরকারি অর্থায়নে করা হবে। আগে বিদেশি অর্থায়নে জয়েন্টভেঞ্চারে করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বিদেশিরা থাকলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে অনেক। সেজন্য সরকারি অর্থায়নে নিজেরাই চেষ্টা করবো।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আগে কথা ছিল- বিদেশ থেকে টাকা দিলে করা হবে। কিন্তু এতে প্রজেক্টের খরচ বেড়ে যায়। সেজন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- নিজেদের টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবো। আমাদের ৪৪ বিলিয়ন রিজার্ভ থেকে কিছু অর্থ এতে এখানে ব্যয় করবো। এ বিষয়ে আগামী মিটিংয়ে বিস্তারিত বলা হবে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘রিজার্ভ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ফান্ড পাচ্ছে’ এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতও এ ধরনের ফান্ড পাবে কি-না অথবা সুযোগ দেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সো ফার, কিছু হয়নি। আমি নিজেও বলেছি এবং প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আমরা সেই পর্যন্তই আছি। বেসরকারি খাতকে দেয়া যাবে কি-না সেটা পরে জানা যাবে। আমাদের চাহিদা কত আসছে সেটার ওপর নির্ভর করবে। তবে একটা নীতিমালা তো হবেই। পলিসির ওপর নির্ভর করেই আমরা এটা করবো। যেহেতু নতুন একটি এলাকা আমরা উন্মুক্ত করলাম সেহেতু এটার ওপর কাজ করা বাকি আছে। সরকারি খাতে পাবে এটা ঠিক আছে এখানে কোনো প্রশ্ন নেই।

চলতি বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় সব খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। আগামী বাজেটেও এ সুযোগ দেয়া হবে কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছর বাজেটে যে সব জায়গাগুলো ছিল, তা থাকবে কি-না সেটা এ মুহূর্তে বলা যাবে না। বলা কোনো দিন সম্ভবও হবে না। আগামী বাজেট যেদিন সংসদে উপস্থাপন করা হবে সেদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আরও ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে এশিয়ার পঞ্চম টাইগারে পরিণত হবে। আশা করছি, আগামী দিন ও স্বাধীনতা দিবসগুলো আরও আলোকিত হবে। বাংলাদেশের মানুষ সারা বিশ্বের মানচিত্রে তাদের পরিচয় আরও বলিষ্ঠভাবে স্থান পাবে। আমরা সেই গর্বে গর্বিত।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন প্রসঙ্গে মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক বেশি। আমরা গ্রাজুয়েশন করেছি। এখন কেউ আমাদের হতদরিদ্র দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে না। এখন কেউ আমাদের দেশ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আগ পর্যন্ত আমরা অসাধারণ গতিশীলতায় এগিয়েছি। আমরা যদি আর ৫ বছর থাকি, তাহলে দৃঢ় বিশ্বাস আমরা পঞ্চম এশিয়া টাইগার হিসেবে আসতে পারব। করোনায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমাদেরও ক্ষতি হয়েছে। আশা করছি, সারা বিশ্ব আমাদের নিয়ে যে মন্তব্য করে, এশিয়ার টাইগার আমরা হবোই।