চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নারীর জন্য নারী

সদ্য প্রয়াত প্রতীতি দেবীকে উৎসর্গ করে শেষ হলো ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক নারী নির্মাতা সম্মেলন।

বিশ্ব চলচ্চিত্রে নারী নির্মাতাদের অংশগ্রহণ অর্ধশতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয়েছে ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক নারী নির্মাতা সম্মেলন। ১৩ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন লাউঞ্জে শেষ হয় এই সম্মেলন।

অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক নারী নির্মাতা সম্মেলনের শেষ দিনের আলোচনায় এদিন অংশ নেন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা-অভিনেত্রী অপরাজিতা ঘোষ, জাফনা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক- চলচ্চিত্র নির্মাতা আনোমা রাজাকরুনা, ইতালিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা-রিলিজিয়ন টুডে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা লিয়া বেলটরমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, বাংলাদেশ স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক।

এছাড়া এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি অভিনয় শিল্পী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র সমালোচক, প্রযোজক অংশ নেন।

ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক নারী নির্মাতা সম্মেলনে আলোচকরা বর্তমান বিশ্বে ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী নির্মাতাদের প্রতিবন্ধকা, সুযোগ-সুবিধা, কর্মতৎপরতা, প্রত্যাশা এবং প্রতিকূলতা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

সম্মেলন শেষে ঘোষণা দেওয়া হয় ২০২০ সালে বিশ্ব চলচ্চিত্রে নারী নির্মাতাদের অংশগ্রহণ অর্ধশতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। বলা হয়, নারী নির্মাতাদের অন্যতম লক্ষ্য হবে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অর্থের সংস্থান করা যেখানে নারী, নারীর জন্য কাজ করবে। নারী নির্মাতাদের কাজ হবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে গবেষণা করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী চলচ্চিত্র নির্মাণ করা এবং আন্তর্জাতিক প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।

এবারের সম্মেলন উৎসর্গ করা হয় সদ্যপ্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রতীতি দেবীকে। তাঁর স্মরণে সম্মেলনের শেষ দিনের শুরুতেই এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের যমজ বোন প্রতীতি দেবী। রবিবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।

প্রতীতি দেবী ১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্মেছেন পুরোনো ঢাকার হৃষীকেশ দাস রোডের এক বাড়িতে। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময় তাদের পরিবারের অনেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু পরে নিজের দেশে ফিরে আসেন প্রতীতি দেবী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য মরণোত্তর দেহদান করে যান তিনি।

শেয়ার করুন: