চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাটের গুরু রামনাথ, ‘তাস খেলা’ যখন প্রতারণার মূল কৌশল

প্রতারণার কৌশল অনেকটা চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে, প্রতারকদের স্ক্রিপ্টিং দুর্দান্ত, সুসজ্জিত অফিস, নিজেদের চেহারাতেও কর্পোরেট উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হাবভাব। তবে তাদের ছাপিয়ে নিজেকে প্রতারণার ভিন্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন রামনাথ ঠাকুর ওরফে হারুন অর রশীদ (৫৬)।যিনি এ চক্রের মূল হোতা। অর্নগল হিন্দি ভাষায় কথা বলে। অফিসে তার জন্য একজন দোভাষীও রয়েছে। যিনি নিজেকে মাড়োয়ারি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত।

প্রতারণার কৌশলটা শুরু হয় জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে, যেখানে বলা হয় অবসরপ্রাপ্ত সরকারী বেসরকারী অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বড় পদে মোটা বেতনে চাকরির অফার।

বিজ্ঞাপন

সদ্য অবসরে ফেরা মানুষগুলো হয়তো তখন নিজেদের মধ্যে আরও বড় কিছু করতে পারা ব্যাপারটা দেখাতে চান। তেমনি একজন সাখাওয়াত হোসেন ভূইয়া যিনি সদ্যই হাবিব ব্যাংকের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবসরে গিয়েছেন।

ভাবছিলেন ব্যবসা করবে পাশাপাশি একটা চাকুরি করতে পারলে মন্দ কী? একটি জাতীয় দৈনিকে অবসরপ্রাপ্তদের চাকুরী বিজ্ঞাপন দেখে লোভ সামলাতে পারলেন না তিনি। পা বাড়ালেন প্রতারিত হতে, কিন্তু কিছুই বুঝলেন না, প্রতারিত হওয়ার সাতদিন পর তিনি বুঝলেন প্রতারিত হয়েছেন।

সাখাওয়াত চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে নিয়ে আর নিজের জমানো থেকে মোট ৩৫ লাখ টাকা সে বিনিয়োগ করেছিল, ধানমন্ডির সেন্ট্রাল রোডের এক বাসায় প্রতারক চক্রের সুসজ্জ্বিত অফিসেও গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমি অফিসে জানতে চেয়েছিলাম কিসের প্রতিষ্ঠান আপনাদের কোম্পানিটির, তারা বলছিল বায়িং হাউস, গার্মেন্টস থেকে শুরু করে খুলনায় চিংড়ির বড় ঘেরও রয়েছে। পরের দিন গাজীপুরের কোম্পানির একটা গার্মেন্টস ভিজিট করার কথাও বলেছিলেন কোম্পানির এমডি জি মোস্তফা কামাল।

কিন্তু এরপরই চিত্রনাট্য পরিবর্তন হতে থাকে, আর্বিভাব হয় রামনাথের, ভারতীয় ব্যবসায়ী, কোটি কোটি টাকা। মোস্তফা নিজেই সাখাওয়াতকে পরিচয় করিয়ে দেয় রামনাথের সঙ্গে। খানিকক্ষণের মধ্যে রামনাথ বিভিন্ন ব্যবসা প্রজেক্টের কথা বলেন।এরপর ওষুধ কোম্পানির কাঁচামালের ব্যবসায়ে প্রচুর লাভ। কোটি কোটি টাকা ইনকাম হবে। এই ব্যবসা করার লোভ দেখায়।
এরপর সাখাওয়াতকে তাস খেলার অফার করেন রামনাথ ও মোস্তফা।

বিজ্ঞাপন

সাখাওয়াত রাজি হয়েও ভুলটা করে, মোস্তফার কথা মতো খেলায় অংশ নিয়ে দুই কোটি টাকা জিতে যায় সাখাওয়াত। রামনাথ বলেন যেহেতু দুই কোটি টাকা জিতেছ পরেরদিন সমপরিমাণ টাকা নিয়ে এসে যেন চার কোটি টাকা নিয়ে যায়।

রামনাথ অফিস থেকে বের হবার পর মোস্তফা সাখাওয়াতকে দুই কোটি টাকা নিয়ে আসার কথা বললে তিনি জানান এতো টাকা নেই। দিন দুয়েক পর ৩৫ লাখ টাকা দিলেও রামনাথের অফিসে তাকে না নিয়েই একা চলে যায় মোস্তফা।

এরপর বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও ফোন ধরেন নি মোস্তফা। ওই অফিসের ফিল্ড অফিসার ফোন ধরলে জানায় তার দেওয়া বেশ কিছু টাকার অংশ জাল ছিল, পুলিশ অফিসের এমডিকে গ্রেফতার করেছে, তাই এমডির নাম্বার বন্ধ। আপনিও ফোন বন্ধ রাখুন।

পরের দিন সাখাওয়াত অফিসে গিয়ে দেখতে পান ওই ফ্লোরে অফিসই নেই। দারোয়ান জানায় গতকাল রাতেই মোস্তফারা অফিস ছেড়ে দিয়েছে।

এমন প্রতারণার শিকার শুধুমাত্র সাখাওয়াত নয়, আছেনি ফিরোজ খান(৬২) সহ আরো অনেকেই। যাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অফিসে প্রতারণা করত চক্রটি।

এ সম্পর্কে পিবিআই (পূর্ব) অতিরিক্ত উপ-মহাপদির্শক (ডিআইজি) মাইনুল হাসান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মোটা অঙ্কের টাকা প্রতারণার শিকার যারা হন তারা ওই সময় কাউকে কিছু বলে না, তারমধ্যে ওই চক্রটি যখন জাল টাকা নিয়ে এমডি ধরা পড়েছে জানায় তখন তারা আরো বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমাদের ধারণা প্রতারিতদের সংখ্যা ১২ জনের থেকে বেশি হতে পারে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।