চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দিলে মিয়ানমারে ফিরবে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের সফরকে সামনে রেখে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

রাখাইনে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধিদল ক্যাম্পে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এ বৈঠকের সময় নিজেদের বাঙালি নয় রোহিঙ্গা দাবি করে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে দেশে ফেরার দাবিতে বিক্ষোভ করে তারা। অন্যথায় রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে না বলেও জানায়।

বিজ্ঞাপন

শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে বসবাস করে আসলেও ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার পর ১৯৮২ সালে আইন করে তাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিকের তালিকা থেকে খারিজ করে দেয়া হয়।

এরপর দফায় দফায় জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালিয়ে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের এই সফরকে সামনে রেখে বিক্ষোভ করে নাগরিকত্বের দাবি জানায়।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে যৌথ ডায়লগে অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি ও রোহিঙ্গারা। ওই ডায়লগে মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধি ছাড়াও বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

তবে কবে নাগাদ এ ডায়লগ অনুষ্ঠিত হবে তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।

শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় উখিয়ার কুতুপালংয়ের ক্যাম্পে আলোচনায় বসেন তারা।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ে’র নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ৩৫ জনের একটি দলের সাথে আলাপ আলোচনা করেন। সেখানে ৭ জন নারী ও ২৮ জন পুরুষ রোহিঙ্গা প্রতিনিধি ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজারেরর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল।

‘এসময় রোহিঙ্গারা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা বাঙালি নই, আমরা রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে আমাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা ফিরে যাবো না।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গারা দাবি করেন, ‘আমাদের মা-বোনদের যে নির্যাতন করা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা আমাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে তাদেরও বিচার করতে হবে। রাখাইনে আমাদের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

দুই দফার আলোচনা রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফিরে যেতে আহ্বান জানান মিয়ানমারের
প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ফিরে গেলে সেখানে কী রকম সুযোগ সুবিধা পাবেন তার
সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।

রোববার রোহিঙ্গা হিন্দু ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলটির গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার কথা রয়েছে।

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা মিয়ানমারের ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয় ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম সরওয়ার কামাল ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামানসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৪ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

এরপর দফায় দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে দ্বিতীয়বারের মত প্রতিনিধি দল পাঠালো মিয়ানমার।

Bellow Post-Green View