চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাক দিয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজানো সোহমের সফলতার গল্প

মাত্র দশ বছর বয়সে যন্ত্রসংগীতের তাবৎ ব্যক্তিত্বদের অবাক করে দিয়ে সোহম শুরু করেছিলেন নাক দিয়ে হারমোনিকায় সুর তোলা! যা কিনা চিন্তা ভাবনারও অতীত। নানান টিভি শো ও দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে তার সফলতার গল্প।

আমরেকিার একটি সংস্থা তার এই বিস্ময়কর প্রতিভাকে তাদের রেকর্ড বুকে নথিভুক্ত করেছে, দেশ বিদেশের রেকর্ড বুকে সোহমের ঝুলিতে এখন প্রায় ১৬ টি বিশ্বরেকর্ড। আর এটা তিনি অর্জন করেছেন কেবল নানান ধরনের বাদ্যযন্ত্র নাক দিয়ে বাজিয়ে!

বিজ্ঞাপন

এই অসম্ভব বিস্ময়কর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই অলটারনেটিভ মিউজিক নামে অভিহিত করা হয়েছে। আর এভাবে বাজানোর প্রক্রিয়া এখন থেকে প্রায় তেইশ বছর আগে আবিষ্কার করার জন্য সোহম মুখোপাধ্যায়কে আমেরিকার এফ রেকর্ড রিসার্চ সংস্থা ‌‌‌‘দ্য ফাদার অফ নোজ হারমোনিকা’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

সোহমের নাসাবাদন শুধু হারমোনিকায় বা মাউথ অরগ্যানেই থেমে থাকেনি। বিশ্ববিদ্যালয় পাঠরত অবস্থায় তিনি শ্বাসের নিয়ন্ত্রণে বাজানো যন্ত্রগুলিকে একে একে বাজিয়ে ফেলতে থাকেন অক্লেশে ঘন্টার পর ঘন্টা। একে একে আসতে থাকে সাফল্য। মেলোডিকায়.. বাঁশিতেও হয় বিশ্বরেকর্ড!

সম্প্রতি বর্ধমানের বাসিন্দা সোহম মুখোপাধ্যায় দিল্লী থেকে গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রীয় যুব গৌরব সম্মান। পাশাপাশি সেখানকার মন্ত্রী এই অভিনব প্রতিভাধারী সোহমকে ভূয়সী প্রশংসায় বুকে টেনে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও কিছু অনুষ্ঠানে যে তার সুরের সুরাবিষ্ট হতে চান একথাও প্রকাশ করেছেন।

কীভাবে সম্ভব হয় এইভাবে বাজানো? এমন প্রশ্ন করা হলে সোহম জানান এটা ভারতীয় যোগের (ইয়োগা) মধ্যে অনেক কিছু লুকায়িত আছে। শ্বাস প্রশ্বাস সংক্রান্ত ব্যায়াম গুলি মেনে চললে এমনটা সম্ভব।

ভবিষ্যতে তিনি ভারতীয় যোগের সাথে সংগীতকে নিয়ে গবেষণা ও প্রচার করতে চান এমনটাও জানালেন। বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে হারমোনিকাকে নতুন ভাবে ছড়িয়ে দিতে যে তার এই অভিনব উদ্যোগ একথা অকপটে স্বীকার করেন। তার কথায়, বর্তমান প্রজন্ম এক অদ্ভুত ব্যাধির শিকার। পনের থেকে পঁয়ষট্টি সবাই এখন মুঠোফোন, ভিডিও গেমস, ল্যাপটপ তথা ভার্চুয়াল দুনিয়ার ঘেরাটোপে আচ্ছন্ন। যন্ত্রসংগীত দিয়ে যদি যন্ত্রকে কিছুটা হলেও দূরে সরিয়ে রাখা যায়, তাহলেও সোহম বুঝবেন তার প্রচেষ্টা সফল হতে চলেছে।

সোহম জানান, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামে তার অগুনতি শ্রোতাবন্ধুদের কাছে তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন সেই বার্তা। নানান ভাবে মানুষকে সচেতন করে চলেছেন নিয়ত। তার আরেকটি লক্ষ্য নিজের দেশকে ‘নন স্মোকিং জোন’ করা। লক্ষ লক্ষ মানুষ চাপের মুখে হাতে সিগারেট তুলে নেয়। এই মানুষগুলোর পকেটে সিগারেট প্যাকেটের পরিবর্তে মাউথ অরগ্যান দেখতে চান সোহম।

তার এই প্রয়াস সুদূর বিশাখাপত্তমের জনগণকেও নাকি আলোড়িত করেছে। এক নামী সংবাদ মাধ্যম এর সঙ্গে তাদের প্রচার অনুষ্ঠানে সোহম এই বার্তাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সোহমের কর্মকাণ্ডকে অভিনন্দিত করে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে তাকে ভারত শিরোমণি সম্মান দেওয়া হয়েছে। তবু সম্মানের গণ্ডির মধ্যে কখনই আবদ্ধ থাকেনি সোহম। লক্ষ্য যে অনেক উঁচু!

এই কাজে পরিবারের সেরকম সহায়তা মেলেনি, এত প্রতিভাবান, লাজুকস্বভাব এই শিল্পীর পারিবারিক স্বচ্ছলতা থাকলেও যন্ত্র কেনা, যন্ত্রসংগীত শিক্ষা ইত্যাদিতে নূন্যতম সহায়তা করেনি কেউ। পরিচিত মানুষজন এখন ঘরের ছেলের বিশ্বব্যাপী সাফল্য দেখে এখন তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। রাজ্যের তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রীদের কাছে প্রশংসিত হয়ে সোহমের স্বীকারোক্তি, চলার পথে একলা চলতে হয় এ আমি জানি। তবে যদি কাছের মানুষের সমর্থন পথ চলার ক্লান্তি কে লাঘব করে।

তবে এসব নিয়ে বিন্দুমাত্র হতাশ নন সোহম। পাশাপাশি এও জানিয়েছেন, ঘরোয়া রেকর্ডিংগুলো সুপরিকল্পিত লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে। এই তার সেরা পাওয়া। আরও বেশী মানুষকে সুর ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। পরীক্ষামূলক ভাবে এই ঘরোয়া রেকর্ডিং এই আশাতীত সাফল্যের পর আগামী দিনে তিনি শ্রোতাদর্শকবন্ধুদের কাছে তার সুরের ডালি সিডিরূপে উপহার দিতে চান এবং এ বিষয়ে কলকাতা ও বাংলার বাইরের বেশ কিছু অগ্রণী রেকর্ড কোম্পানি সোৎসাহে এগিয়ে এসেছেন একথাও তিনি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি ডাক পাচ্ছেন দেশ বিদেশের অনুষ্ঠানে। তবে চ্যারিটি ইভেন্ট আর সরকারী কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া আর কিছু অনুষ্ঠান এই মুহূর্তে তিনি করছেন না। সম্প্রতি কোলকাতার একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের রিয়েলিটি শোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পারফর্ম করেছেন, যেখানে তার বাচনভঙ্গি চমকে দিয়েছে গৌতম ঘোষাল, মনোময় ভট্টাচার্যের মতো খ্যাতনামা শিল্পীদেরকে।

Bellow Post-Green View