চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নন্দীগ্রামে হেরেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন মমতা ব্যানার্জি?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০-এর বেশি আসনে জিতেছে মমতা ব্যানার্জির ঘাসফুল শিবির। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অধিকারী বিজেপির আলাদা নজর ছিল পশ্চিমবঙ্গের উপরে, এছাড়া দলছুট নেতাদের নানা তৎপরতায় মোটেও সহজ ছিল না মমতার দলের এবারের জয়। সব মিলিয়ে যে ফলাফল এসেছে, তা বেশ চাঞ্চল্যকর!

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল বর্তমানে ২১৫ আসনে, আর বিজেপি এগিয়ে আছে ৭৫ আসনে। রোববার তৃণমূলের জয় স্পষ্ট হওয়ার পরপরই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের শীর্ষ নেতারা মমতাকে বার্তা পাঠিয়েছেন। সমাজবাদী পার্টি থেকে শিবসেনা, আপ থেকে ন্যাশনাল কনফারেন্স— সব শীর্ষ বিরোধী নেতার পাশাপাশি মোদি-অমিত শাহও মমতার এই লড়াকু ভূমিকার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন টুইট ও দলীয় বিবৃতিতে। জয়ের জন্য মমতাকে অভিনন্দন এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ার টুইট করেছেন।

তৃণমূলের এবারের জয়ের কারণ হিসেবে সেদেশের বিশ্লেষকরা যেসব পয়েন্টকে সামনে আনছেন, তা হলো- ‘দুয়ারে সরকার কর্মসূচি’- যা নিজেদের দ্বিতীয় দফার ক্ষমতার একেবারে শেষেরদিকে চালু করেছিল মমতা সরকার। বিরোধীদের সমালোচনা থাকলেও তা সেই রাজ্যের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া বিজেপি-বিরোধী ভোট এককাট্টা হওয়াকেও অনেকে তৃণমূলের বিরাট জয়ের কারণ বলছেন। ২০১৬ সালে বিজেপি রাজ্যে মাত্র ৩টি আসনে জিতলেও এবারের ভোটের লড়াইটা বিজেপি বনাম তৃণমূল হবে, তা আগে থেকেই ভেবে নিয়েছিলেন ভোটাররা। বিজেপিকে রুখতে পারবে একমাত্র তৃণমূল- এমন ভাবনাও কাজ করেছে। তার ফলে বিজেপি-বিরোধী ভোটের বেশিরভাগটাই তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে গিয়েছে। আরেকটি বড় কারণ কৃষক আন্দোলন ও করোনার ভয়াবহ প্রভাব, এসব কারণে সম্প্রতি বিজেপি ভারতজুড়ে মারাত্মক ইমেজ সঙ্কটে পড়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস টানা তৃতীয় দফা জয়ের মুখ দেখলেও নন্দীগ্রামে হেরেছেন দলের শীর্ষ নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে পুনরায় এই কেন্দ্রে ভোট গণনার আবেদন জানালে নির্বাচন কমিশন এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। হার মেনেও নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের পরপর দুইবারের মুখ্যমন্ত্রী। এরফলে নেটিজনদের মধ্যে প্রশ্ন, “দিদি কি তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন?”

ভারতীয় সংবিধান কী বলে?
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের সূত্রমতে, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যে বিধানসভা বা বিধান পরিষদের সদস্য না হলেও কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। অর্থাৎ বিধানসভা ভোটে না জিতেই মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যেতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী, সেরকম ক্ষেত্রে ছ’মাসের’ জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলাতে পারবেন। কিন্তু তারপর তার পদ আর থাকবে না। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ছ’মাসের মধ্যে তাকে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিততে হবে।

আবারও ভোট করে জয়ী হয়ে আসার সুযোগ
বিধানসভার সদস্য না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা মমতার কাছে নতুন নয়। ২০১১ সালে যখন রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তৃণমূল, তখন বিধানসভা ভোটে লড়েননি মমতা। বরং দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ ছিলেন। ছ’মাসের মধ্যে ভবানীপুর আসন থেকে জিতে পূর্ণ সময়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

চব্বিশ পরগনার খড়দহ জেলার বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়ে নির্বাচনের মধ্যে মারা গেছেন, সে আসনসহ আরও কিছু আসনে আবারও নির্বাচন হবে। সেখান থেকে মমতা আবারও নির্বাচন করে বিজয়ী হয়ে আসতে পারেন বলে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

তবে এবার নির্বাচন না জিতলেও হতে পারে। কারণ ভোটের আগে বিধান পরিষদ গঠনের ঘোষণা করেছিলেন মমতা। সেই কক্ষের সদস্য হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন মমতা ব্যানার্জি।

সোমবার বিকালে দলের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠকে বসছেন তৃণমূল নেত্রী। তৃণমূল ভবনে ওই বৈঠকের পরে জয়ী প্রার্থীদের মমতা কী বার্তা দেন সেটিই এখন দেখার বিষয়, সেই সঙ্গে নিজের ভবিষ্যতও হয়তো বুঝিয়ে দেবেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্রমতে, নির্বাচন ফলাফলের পরের দিন ওই সভা থেকে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বৈঠকে কোনো বার্তা দিতে পারেন মমতা। এবার যারা নতুন নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। ওই বৈঠকের পর সন্ধ্যায় রাজ্য়পাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করবেন মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিতে পারেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও তৃণমূল নেত্রীর ভবিষ্যত নিয়ে যে আগ্রহ ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে, তা কয়েকদিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

বিজ্ঞাপন