চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধনঞ্জয় কি বিচার পেয়েছিল?

১৯৯০ সালের ৫ মার্চ। এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৪ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর ফাঁসি হয়। দীর্ঘ ১৪ বছরের বিচার পর্বে ছিল অনেক বিতর্ক। এই বিতর্ক নিয়েই পরিচালক অরিন্দম শিল তৈরি করেছেন ‘ধনঞ্জয়’ ছবিটি। ছবির ট্রেইলর প্রকাশের পর থেকে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ধনঞ্জয়ের ফাঁসি নিয়ে।

ধনঞ্জয় কি সঠিক বিচার পেয়েছিল কিনা সেই প্রশ্নই আবার তোলার উদ্দেশ্যে ছবিটি তৈরি করেছেন পরিচালক। খুনের ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন না। তাই পরিচালকের মতে, ফাঁসির আদেশের পক্ষে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ অনুচিত ছিল। সেই সময়ে ধনঞ্জয়কে নিয়ে মিডিয়াতে অনেক মনগড়া তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ছবির শুটিং এর বিষয়ে পরিচালক জানান, মার্চ মাসের প্রথমদিকে শুরু হয় ছবির শুটিং। কলকাতা ও কলকাতার বাইরে বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং চলেছে একাধিক পর্যায়ে। সবচাইতে কঠিন ছিল ফাঁসির দৃশ্যটি। এই ছবিতে একমাত্র ফাঁসির দৃশ্যতেই ম্যাজিক রিয়েলিজম আছে বলে জানান অরিন্দম। আলিপুরের সেন্ট্রাল জেলের যেই কক্ষে ধনঞ্জয় ছিলেন, সেই কক্ষ ছবির টিম পরিদর্শন করে এসেছে। ছবির জন্য ফাঁসি সম্পর্কেও বিস্তারিত গবেষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

১৯৯০ সালে কলকাতার পদ্মপুকুর এলাকার আনন্দ অ্যাপার্টমেন্টের চারতলার ফ্ল্যাটে ১৮ বছর বয়সের আইসিএসই পরীক্ষার্থিনী হেতাল পারেখ খুন হন। বাঁকুড়ার কুলুডিহি গ্রাম থেকে কলকাতায় কাজ করতে আসা ধনঞ্জয় ছিলেন সেই অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তারক্ষী। ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয় ধনঞ্জয়কে। তবে বিচারকালীন সময়টাতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন তিনি। এমনকি ধনঞ্জয়ের ফাঁসির মূহুর্তের শেষ কথা ছিল ‘আমি নির্দোষ!’ অনেকেই এখনও মনে করেন ধনঞ্জয়কে ফাঁসানো হয়েছিল এবং হেতাল পারেখ হত্যাকাণ্ড ছিল একটি ‘অনার কিলিং’।

অরিন্দম শীলের এই ছবিতে অভিনয় করেছেন মিমি চক্রবর্তী, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, কৌশিক সেনকে ৷ ১১ আগস্ট ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে।