চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দ্রুত বিচার আইনের মেয়াদ বাড়লো আরও ৫ বছর

আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল, ২০১৯ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।  মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জাতীয় সংসদের কাছে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। 

তবে এ বিলটি জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে প্রেরণ করার সুপারিশ আসে কয়েকজন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে। এর বিপরীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন: এই বিলটি ২০০২ সালের। এখন শুধু সময় বাড়ানো হয়েছে কোন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করা হয়নি। তাই এ বিলটি জনমত যাচাই কিংবা বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

বিজ্ঞাপন

দ্রুত বিচার আইনের মাধ্যমে বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতন নিপীড়ন এবং ভুয়া মামলা দেয়া হচ্ছে বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্যের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন: আমার জানা নেই দ্রুত বিচার আইনে কোথাও তাদের হয়রানি করা হয়েছে কিনা। তারা সারাদেশে যে জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছে তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রুত বিচার আইনে দু-একটি মামলা হয়ে থাকতে পারে। শত-শত মামলা হয়েছে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি অভিযোগকারীদের চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, প্রমাণ করুন কোথায় আপনাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে শত শত মামলা হয়েছে।

এর আগে জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে প্রেরণের জন্য আবেদনের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে নির্বাচিত সাংসদ ফখরুল ইমাম বলেন: দ্রুত বিচার আইনে মামলাগুলো ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত খুব বেশি মামলা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। আমার মনে হয় ২০ শতাংশের বেশি মামলা নির্ধারিত সময়ে নিষ্পন্ন সম্ভব হয়নি। আমি বলতে চাই এই বিলটি যদি পাস হয়, তাহলে ওই নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে যে উপাত্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে তার ভিত্তিতেই বিচার করা হোক।

বিএনপির সাংসদ মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন: দ্রুত বিচার আইনটি মূলত বিএনপির নেতাকর্মীদের নাজেহাল করার উদ্দেশ্যে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির আরেক সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন: দ্রুত বিচার আইনে যেসকল বিষয়ে মামলা হতে পারে গত দশ বছর ধরে সে সকল কাজের সঙ্গে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা জড়িত। কিন্তু কোথাও দ্রুত বিচার আইনে তাদের নামে মামলা হয়নি। উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বারবার এ আইনটি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ রুমিন ফারহানা বিলটি জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে প্রেরণের পক্ষে বলেন: ২০০২ সালের ১৮ নভেম্বর যখন এ পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয় তখনকার বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে বিলটি পাস করা হচ্ছে। কিন্তু আজ তারাই সরকারে থেকে বিলটির সময় বার বার বাড়িয়ে চলেছেন।

জনমত যাচাই এবং বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব করা সাংসদদের বক্তব্যে শেষে তাদের প্রস্তাব সংসদের সামনে উপস্থাপন করা হলে তা কণ্ঠ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল, ২০১৯ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।

২০০২ সালে ২ বছর মেয়াদ রেখে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ৬ দফায় এ আইনের কার্যকারিতা ১৫ বছর বাড়ানো হয়।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল আইনটির মেয়াদ ৫ বছর বাড়ানো হয়েছিল। এর মেয়াদ গত ৯ এপ্রিল শেষ হয়ে যায়। বিলের বিধান চলতি বছরের ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

Bellow Post-Green View