চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

দ্বিধাগ্রস্ত সম্পর্ক মানেই অসুখী জীবন

বিজ্ঞাপন

সুখী সুখী ভাবের দুজন মানুষ। এক ছাদের তলে স্বামী স্ত্রী হিসাবে সংসার করছেন। সবার কাছে সুখী পরিবার বলে মনে হয়। কিন্তু তাদের পারস্পরিক সম্পর্কে একটা ঠান্ডা লড়াই চলে। একজন আরেকজনের সব কিছুতে করছে সন্দেহ, আছে অবিশ্বাসও।

এ কারণেই নানান অশান্তি। অস্বাভাবিক পরিবেশে ভালোবাসাটা যেন অসার। সম্পর্কের এ পরিণতি যে ঠিক না সেটা তারা নিজেরাও বুঝতে পারেন । কিন্তু কেন এমন হচ্ছে তাই তারা বুঝতে পারেন না।

pap-punno

দুজন মানুষের ভালোবাসার সম্পর্ক সবসময় সুন্দর আর পরিপূর্ণ হয় না । অনেক সময়ই বাহিক্যভাবে সুন্দর সম্পর্কের অন্তরালে থাকে অস্বাস্থ্যকর দিক । আর এই অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের পরিণতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যাকে এক কথায় বলা হয় দ্বিধাগ্রস্ত সম্পর্ক বা অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপ।

অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপ – এক নীরব ঘাতক। যা মানুষ অনুভব করতে পারে কিন্তু বলতে পারে না। কেবল তীব্র এক যন্ত্রণা নিজে বয়ে বেড়ায়। প্রেমময় সব সম্পর্ক সুন্দর আর পরিপূর্ণ হয় না ।অনেক সময়ই বাহ্যিকভাবে সুন্দর সম্পর্কের অন্তরালে থাকে অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক। আর এই অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক যে কোন মানুষকে দিনে দিনে চরম পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। যার নাম হলো অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপ।

এ ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন অন্যজনকে অনবরত হেনস্তা (অ্যাবিউজ) করতে থাকেন। অন্যজন সেসব অত্যাচার সয়ে যেতে থাকে ক্রমাগত । কারণ অ্যাবিউজকারী একই সাথে অ্যাবিউজও করে আবার স্বাভাবিক প্রেম প্রকাশ করে নানাভাবে । সে নিজেই বুঝতে পারে না এটা তার অসুস্থতার চুড়ান্ত রূপ। যেমন, কুৎসিত আচরণ, গালাগালি সব করে। কিছু সময় পর এমন আচরণের জন্য অনেক কান্নাকাটি করে ক্ষমা চেয়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে, সেখানে ভালোবাসা ছাড়া আর কোন যুক্তি থাকে না। নিজের ভালোবাসার প্রমাণ দিতে ব্যতিব্যস্ত এ ব্যক্তিটি আবার দুইদিন পর একই ব্যাপার ঘটায় । বেমালুম ভুলে বসে তার বিগত দিনের কর্মকান্ড।

এমন সম্পর্কের বেলাতে ভিকটিম বুঝতে পারে না কি করবে সে। চরম দ্বিধা দ্বন্দ্ব, সংশয়, আতঙ্কে এবং দুশ্চিন্তায় ভোগে। কারণ তার সঙ্গীর ব্যাপারে সে কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারে না। সে তাকে ভালবাসে কি বাসে না! যদি ভালই বাসে, তাহলে কেন গায়ে হাত তোলে? কেন কুৎসিত গালি দেয়? ডোমিনেট করে, ঈর্ষা করে? আবার একটু পরেই কেন মাফ চায়? কাঁদে কষ্ট পায়? আদর করে? এসব প্রশ্নের উত্তর পায় না।একই বিষয় বার বার ঘটার ফলে এটি একসময় দুইজনের অভ্যাসে পরিণত হয়।

অ্যাবিউসিভ রিলেশনের সাধারণত ভিক্টিম হিসেবে মেয়েরাই সংখ্যায় বেশি। এক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গীটি মেয়েটির ক্যারিয়ার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, চলাফেরা, পোশাক, খাবারের অভ্যাস, চিন্তাচেতনা সবকিছুর উপর খবরদারি করার চেষ্টা করে। কথা না শুনলে গায়ে হাত তোলেন, অপমান করেন, সারাক্ষণ ছোট করেন, অন্য মেয়ের সাথে তুলনা করেন, সন্দেহ করেন, মেয়েটিকে দেখিয়ে অন্য মেয়েদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন ইত্যাদি।

এসবে মেয়েটি কাঁদে, ঝগড়া করেন, রাগ হয়, অভিমান করেন, কিন্তু কোনভাবেই সে সেই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতে পারেন না। কারণ লোকটি কিছু সময় পরই আবার তার সাথে চরম ভাল ব্যবহার করতে থাকেন, ভালবাসার নানা রকম প্রকাশ করেন।

অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপ যেহেতু একটা ব্যাধি। তাই এর প্রতিকার করতে হলে নিজের কিছু বিষয়ে খেয়াল করতে হবে।

Bkash May Banner

সে কি তার সঙ্গীকে সারাক্ষণ অপমান করেন? বিব্রত করে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করার চেষ্টা করে নানাভাবে সসমালোচনা করেন? কোন কারণ ছাড়াই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন? অবহেলা করে কিংবা অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন? যা নিয়ে তার কোন প্রতিক্রিয়া থাকে না?

অনেক সময় নিজের সঙ্গীর সামনে বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে ফ্লার্ট বা প্রভোকেটিং আচরণ করেন। বেশিরভাগ সময় ব্যঙ্গ করে বা বিরক্তির স্বরে কথা বলেন। যে কোন বিষয়ে দোষারোপ করেন। সন্দেহপ্রবণ হয়ে বাজে মন্তব্য করেন।

ভালোবাসে কি না সে কথাটি পরিস্কার করে বলতে পারে না। তবে ব্ল্যাকমেইল করে নানাভাবে
খবরদারি করাটা একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়। যে স্নেহ বা মমতা ছিল, তা আর তেমন প্রকাশ করেন না। আত্মীয় পরিজন, বন্ধুবান্ধব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চান। তার নিজের শারীরিক চাহিদাকে প্রাধান্য দেয় কেবল। অন্যজনের অবস্থা বুঝে না এ বিষয়ে।

নানা দুর্ব্যবহারের পর পরই সঙ্গীকে খুশি করতে ইচ্ছামত টাকা পয়সা খরচ করে গিফট আনে, বেড়াতে নিয়ে যায়, খাওয়ায়। তাকে ছাড়া কোথাও গেলে ক্রমাগত ফোন করতে থাকেন বা টেক্সট পাঠাতেই থাকেন। এ অস্বাভাবিক পরিবেশে থেকে সঙ্গী তাকে ছেড়ে চলে যাবার কথা বললেই সুইসাইডের হুমকি দেন।

উপরের বিষয়গুলো যদি দুজন মানুষের সম্পর্কের ভেতরে উপস্থিত থাকে, তাহলে তারা অ্যাবিউসিভ রিলেশনের ভেতরে আছেন।

অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপ দুজনের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। এটা জীবনের জন্যও হুমকি। প্রকৃতপক্ষে অ্যাবিউসিভ রিলেশনশিপে ভালবাসা ও প্রেমের কিছুই থাকে না। এটা মানসিক অসুস্থতা । তাই এর যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেয়া উচিত।

আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পারিবারিক শিক্ষা, পরিবেশ, চিন্তা চেতনা, রুচি ইত্যাদি অ্যাবিউসিভ রিলেশনের কারণ হতে পারে। অনেক পুরুষ ধারণা করে নারীকে দমিয়ে রাখতে হবে। চিকিৎসা করেও এমন মানসিকতার পরিবর্তন কতটা হবে তা নিয়ে সংশয় থাকে।

যারা অ্যাবিউসিভ রিলেশনের ভেতরে আছেন, তাদের উচিত ঠিক সময়ে ভালবাসার নামে এ অসুস্থতা থেকে মুক্তি নেয়া। কেননা এর পরিণতি ভয়াবহ। প্রতিদিন ভালোবাসার মিথ্যা মোহের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকাটা যে নরকসম প্রানহীন জীবন।

অতএব, মিথ্যা ভালোবাসার নামে নরক জীবনযাপন কারোই কাম্য নয়। তাই একটা সুস্থ সম্পর্ক পেতে হলে নিজেদেরকেই দ্বিধাগ্রস্থ এ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আত্মসংশোধন করে। এছাড়া পারিবারিক জীবনে নিজ এবং সঙ্গীকে ভালো রাখার চিন্তা বাতুলতা মাত্র!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View