চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেরিতে সক্রিয় পুলিশ, আটক দু’জনকেও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

পহেলা বৈশাখে টিএসসি এলাকার সিসি ক্যামেরায় যখন যৌন হয়রানির প্রথম চিত্র দেখা যায় তার অনেক পরে সক্রিয় হয় পুলিশ। কন্ট্রোল রুম থেকে এ বিষয়ে মাঠ পর্যযায়ের পুলিশকে কিছুই জানানো হয়নি। সিসিটিভি মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের চোখ তখন আদৌ পর্দার উপর ছিল কি না সেটা নিয়েই সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ আছে।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ দাবি করেছে, সিসিটিভির লাইভ ফুটেজ দেখেই পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরায় তরুণী লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা দেখে পুলিশ ত‍ৎপর হয়ে উঠে। তারা পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে অবশ্য ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। বখাটেদের কাছ থেকে কয়েক নারীকে উদ্ধার করা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী জানিয়েছেন, দু’জনকে ধরে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার পর পুলিশ এগিয়ে আসে। তখন তারা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

সিসি ক্যামেরার ৬টা ২২ মিনিটের ফুটেজে নারীদের নিগ্রহ করার দৃশ্য দেখা গেছে। অথচ পুলিশ যখন দৃশ্যপটে আসে তখন সময় সন্ধ্যা ৭টার বেশি। আর দু’জনকে ধরিয়ে দেওয়ার পর পুলিশ সক্রিয় হলেও ওই দু’জনই পুলিশের কাছ থেকে লাপাত্তা হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনার দিন টিএসসি এলাকায় পুলিশের লাঠিচার্জের সময় কয়েক যুবক এক যুবককে আটকে করে পুলিশের কাছে নিয়ে আসে। তারা পুলিশকে জানায়, আটক যুবক মেয়েদের উত্যক্ত করেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করার আগেই ওই যুবকরা আটক যুবককে সাথে করে নিয়ে চলে যায় বলে তিনি দাবি করেছেন।

কিন্তু ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা পুলিশের এ বক্তব্য নাকচ করেছেন। বখাটেদের সঙ্গে হাতাহাতিতে আহত ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, প্রথমত: তাদের কর্মীরা একজন নয়, দু’জনকে আটক করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তুহিন কান্তি দাসের নেতৃত্বে কর্মীরা ওই দু’জনকে পুলিশের কাছে তুলে দিয়ে বলেন, মেয়েদের উপর যে নির্যাতন চলছে তাতে এ দু’জনকে এখন মারধোরের সময়ও তাদের নেই। দু’জনকে আটকে রেখে তারা পুলিশকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অন্য মেয়েদের উদ্ধারে চলে যান।

পুলিশ সক্রিয় হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছাত্রকর্মীরা পরে পুলিশের কাছে গিয়ে আটক দু’জনকে আর পাননি। জানতে চাইলে সেখানকার পুলিশ তাদের জানায়, দু’জনই তাদের পরিচয় দিয়ে চলে গেছে।

অনেকের মতো ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীদেরও প্রশ্ন, আটক দু’জনকে কেনো ছেড়ে দেওয়া হলো? আর যদি তারা তাদের পরিচয় দিয়েই ছাড়া পেয়ে থাকে তা হলে তাদের পরিচয় প্রকাশ করে এখন আবার আটক করা হোক। ওই দু’জনকে ধরা গেলে অন্যদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

Advertisement

যুবকরা চিহ্নিত:

পুলিশ এখন দু’জনের পরিচয় না জানার কথা বললেও নববর্ষের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নারীদের হয়রানি করার ঘটনায় জড়িত কয়েক যুবককে চিহ্নিত করার দাবি করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের নাম পরিচয় জানতে সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন থানায়ও পাঠানো হয়েছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই দিন বিকেলে টিএসসি এলাকায় ৪০/৫০ জনের একটি দল নানা কায়দায় মেয়েদের উত্যক্ত করতে থাকে। ওই এলাকার ৫ নম্বর সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একজন মেয়েকে লাঞ্চিত করছে। অন্য ক্যামেরাগুলোতেও একই ঘটনা দেখা গেছে। জটলা পাকিয়ে মেয়েদের পিছু পিছু হাঁটছিলো একই গ্রুপ।

এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সিসি টিভির ফুটেজ দেখে কয়েকটি মুখ আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিচয় নিশ্চিত হলেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।

নারীদের হয়রানি করা যুবকদের বখাটে ও অসুস্থমনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনা করেই তারা এসেছিলো বলে মনে হচ্ছে। সেদিন কী ঘটেছিলো সেটা অনুমান করা যায়। যদিও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা আক্রান্ত হয়েছেন এমন কাউকে এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

নেপথ্যে মৌলবাদী গোষ্ঠি!

ঘটনার নেপথ্যে মৌলবাদী গোষ্ঠিও থাকতে পারে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন। তারা বলছেন, একটি মৌলবাদি গোষ্ঠি ফেসবুকে চাঁনখারপুল এলাকায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে মারধরের শিকার এক যুবকের ছবি দিয়ে তাকে মেয়ে দাবি করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। ওই গোষ্ঠিই নববর্ষের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তরুণী লাঞ্ছিত করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি-না, তাও খতিয়ে দেখাছে ডিবি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, কেউ কেউ বলতে চাইছেন মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো ইসলামী বিষয় নয়। সেই খবরও বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে। এসব মানুষের সাথে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না তদন্ত কমিটি তা খতিয়ে দেখছে।

তবে পুরো বিষয়ে ডিএমপির দুটি কমিটি তদন্ত করেছে।মনিরুল ইসলাম জানান, নারী লাঞ্ছনার বিষয়টি তদন্ত করছে একটি কমিটি। অন্য কমিটি পুলিশের ভূমিকা ও দায়-দায়িত্ব খতিয়ে দেখবে।