চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দু’ বছরে শুরুই হয়নি বিচার

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনে দায়ের করা দুটি মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি। ২১ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিন ঠিক করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহীদুল হক। কিন্তু এর মধ্যে চলে গেছে দু’ বছর।

বিচার হওয়া তো দূরের কথা, দু’ বছরেও কেনো অভিযোগপত্রই জমা পড়লো না জানতে চাইলে ঢাকা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার আব্দুল মান্নান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সঠিকভাবে তদন্ত করতে গিয়েই মামলাটি দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে।  প্রায় ৯৫০ জনের  সাক্ষ্য নিতে গিয়ে সময় লেগেছে অনেক।

২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা দুটি আলাদা অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছিলেন। অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই শিল্প দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মোট ৫৯ জন।

সিআইডি কর্মকর্তারা এর মধ্যে অবশ্য দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় মোট ৯৫২ জন প্রত্যক্ষদর্শী, দুর্ঘটনার শিকার এবং নিহতদের আত্নীয় স্বজনসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নিয়েছেন।

আর ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত আইনের আওতায় দায়ের করা মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬৫ জন ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্তকারীরা।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল সাভার থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত করে পুলিশের হত্যা মামলা। অপরটি ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ করায় রাজউকের ইমারত আইনে দায়ের করা মামলা।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ বাদী হয়ে ১,১৩৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভবন মালিক মো. সোহেল রানাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সোহেল রানা ছাড়া হত্যা মামলার আসামি বজলুল সামাদ আদনান, মাহমুদুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, আনিছুর রহমান, মো. আমিনুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক খান, আলমগীর, রাসেল, মধু ও সরোয়ার কারাগারে রয়েছেন।

আর জামিনে রয়েছেন সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ওরফে খালেক কুলু, মোহাম্মদ আলী খান, রেফাতউল্লাহ, আবুল হাসান, অনিল কুমার দাস, শাহ আলম মিঠু, এমায়েত হোসেন, রাকিবুল ইসলাম ও আলম মিয়া।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে দু’ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করা হয় এক হাজার ১১৭ জনের। হাসপাতালে মারা যান ১৮ জন। মৃতের সংখ্যা সর্বমোট এক হাজার ১৩৫ জন। এর মধ্যে ৮৪৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করে মৃতদের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয় ২৯১ জনকে।

অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত করে পুলিশের হত্যা মামলা এবং ইমারত নির্মাণ আইন অমান্যে রাজউকের মামলা ছাড়াও শ্রম আইনে মামলা হয় ১১টি। এর একটিও এখনও বিচার কাজ শেষ হয় নি। সবগুলো মামলাতেই আগামি মাসে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার।