চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দিল্লি দখলে বিজেপির অস্ত্র শাহিনবাগ

গিরিরাজ সিং বললেন, ‘আত্মঘাতী বোমারুদের প্রজনন ভূমি শাহিনবাগ’

বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয়মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেছেন, সারাদেশে বোমা বিষ্ফোরণের পরিকল্পনা করা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের প্রজনন ভূমি হয়ে উঠেছে শাহিনবাগ। 

এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘শাহিনবাগ এখন আর কোনো আন্দোলন নয়। এখানে আত্মঘাতী বোমারুরা বেড়ে উঠছে। রাজধানীতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।’

বিজ্ঞাপন

এই শাহিনবাগেই ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তবে একেই দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেতে হাতিয়ার করে লড়াইয়ে নেমেছেন বিজেপি নেতারা।

টুইটে গিরিরাজ সিং একটি ভিডিও পোস্ট করেন, তবে সেটা শাহিনবাগের নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি নিজের টুইটের পক্ষে তিনি বলেন, শাহিনবাগে একজন শিশু মারা গেলেও তার মা বলে আমার ছেলে শহীদ। আত্মঘাতী বোমা ছাড়া এটা আর কি? আমাদের ভারতের বিষয়ে ভাবতে হলে এই সব আত্মঘাতী বোমারু সম্পর্কে, এইসব খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

বিজেপির এ নেতা উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য খুবই কুখ্যাত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপি নেতাদের অনেকেই দিল্লি নির্বাচনের প্রচারণা করতে গিয়ে শাহিনবাগ আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে হাজার হাজার পুরুষ, নারী ও শিশু দক্ষিণ দিল্লির শাহিনবাগের রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করেছে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে। এই আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার অমুসলিমরা ভারতের নাগরিক হতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

তবে সিএএ এনে ভারতের সরকার ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিকে ধ্বংস করছেন বা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য তৈরি করছেন উল্লেখ করে এর সমালোচনা করছেন।

সারাদেশে এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু হয়। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তার আম আদমি পার্টিকে শাহিনবাগ প্রতিরোধে সমর্থন দেওয়ায় দায় দেয় বিজেপি। ক্ষমতাসীন দলের প্রচারণাই চলছে শাহিনবাগকে কেন্দ্র করে। তাদের বক্তব্য এই সব আন্দোলনকারীরা ‘দেশবিরোধী’।

গত সপ্তাহে দিল্লির এক র‌্যালিতে অমিত শাহ বলেন, জনগণের ইভিএমের বোতামে এত রাগ নিয়ে চাপ দেওয়া উচিত যেন শাহিনবাগও বিদ্যুতের ঝটকা টের পায়।

বিজেপির এমপি পারভেশ সাহিব সিং শর্মাকে দুইবার নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী প্রচারণা থেকে নিষিদ্ধ করে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য।

সম্প্রতি তিনি বলেন, এখানে লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়েছে। তারা তোমাদের বাড়িতে ঢুকবে, বোনকে ও মেয়েকে ধর্ষণ করবে, তাদের হত্যা করবে।

দিল্লি নির্বাচনের একজন প্রার্থী বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র এই প্রতিবাদীদের ‘মিনি পাকিস্তানী’ হিসেবে চিহ্নিত করে টুইটারে তিনি লিখেছেন, পাকিস্তান শাহিনবাগে ঢুকে পড়েছে।

তবে নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোকে এড়িয়ে শাহিনবাগকে ব্যবহার করায় অনেকেই বিজেপিকে দায়ী করেছে।