চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘দিলীপ কুমারের আগে ও পরে, এভাবে চিহ্নিত হবে বলিউড’

কিংবদন্তী অভিনেতা দিলীপ কুমারের মৃত্যুতে শোকার্ত গোটা বলিউড। তবে তার মৃত্যুতে যেন একটু বেশি-ই শোকে আছেন আরেক কিংবদন্তী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। আর হবেনই বা না কেন দিলীপ কুমার যে তার কাছে ছিলেন ‘আইডল’!

হ্যাঁ, দিলীপ কুমারকে আইডল ই মানতেন অমিতাভ বচ্চন। প্রিয় অভিনেতাকে নিয়ে অমিতাভের অতীত স্মৃতিচারণ অন্তত তাই বলে। দিলীপ কুমারও পছন্দ করতেন অমিতাভ বচ্চনকে। বহুবার বলেছেনও তা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নিজের প্রিয় অভিনেতার মৃত্যুকে অমিতাভ বললেন এভাবে, ‘এক প্রতিষ্ঠান চলে গেলেন’। দিলীপ কুমারের মৃত্যু সংবাদ শুনে একাধিক টুইট করেন অমিতাভ।

এক টুইটে অমিতাভ বলেন, দিলীপ কুমারের মৃত্যু বলিউডের অত্যন্ত বড় ক্ষতি। শোকবার্তায় তিনি লিখেছেন দিলীপ কুমার অভিনয়ের এক প্রতিষ্ঠান ছিলেন৷ তাই বলিউডের সময়কালকে ভাগ করা হবে দিলীপ কুমার পূর্ববর্তী ও তার পরবর্তী সময় হিসেবে৷

একটি টুইটে অমিতাভ লেখেন, একটা প্রতিষ্ঠানের অবসান। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাস লেখা হলে, তার শুরু এবং শেষে সর্বদা দিলীপ কুমারের নামই থাকবে। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি। এই কঠিন সময়ে লড়ার মতো শক্তি দিন তার পরিবার-পরিজনদের। গভীরভাবে দুঃখিত।

এরপর আরও একটি টুইটে অমিতাভ৷ লেখেন, ‘এক দীর্ঘ অধ্যয়ের শেষ, যা আর কোনও দিনও ফিরবে না৷’।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে প্রয়াত হন ৯৮ বছর বয়সী বলিউডের ট্রাজেডি কিং খ্যাত কিংবদন্তী অভিনেতা দিলীপ কুমার। এদিন বিকেল ৫টার দিকে প্রয়াত এই কিংবদন্তীর দাফন হবে মুম্বাইয়ের জুহুর শান্তাক্রুজ কবরস্থানে। দুপুরে মহারাষ্ট্রের স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, দিলীপ কুমারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।

এরআগে মুম্বাইয়ের হিন্দুজা হাসপাতাল থেকে এই অভিনেতার মরদেহ নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তাকে শেষবারের মতো দেখতে জড়ো হন বলিউডের নবীন প্রবীন তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত অনুরাগীরা।

সিনেমা জগতে তিনি দিলীপ কুমার নামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম মুহাম্মদ ইউসুফ খান। ১৯২২ সালের ১১ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের পেশোয়ারে জন্ম নেন দিলীপ কুমার।

ছয় দশকের অভিনয় জীবন দিলীপের। বলিউডে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘ট্রাজেডি কিং’ নামে। ৬৫টিরও বেশি ফিল্মে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত আইকনিক ছবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেবদাস (১৯৫৫), নয়া দওর (১৯৫৭), মুঘল-এ-আজম (১৯৬০), গঙ্গা যমুনা (১৯৬১), ক্রান্তি (১৯৮১) এবং কর্মা (১৯৮৬)।

কর্ম’র মতো ছবি বলিউডের ইতিহাসে চিরকাল মনে রাখবেন সিনেপ্রেমী দর্শক। ১৯৯৮ সালে এ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কিলা’ ছবিতে শেষ দেখা গিয়েছিল দিলীপের অভিনয়।

১৯৯৪-এ দাদা সাহেব ফালকে এবং ২০১৫-এ পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন তিনি।