চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দানবীর রণদা প্রসাদ হত্যায় মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যাল।

মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা-গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার সময় মাহবুবুর রহমান কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।  আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজি এম এইচ তামিম।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুবুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি বৈরাটিয়া পাড়ার আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। আর মাহবুবুর রহমান ও তার ভাই আব্দুল মান্নান তখন রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়, ‘মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মে মধ্যরাতে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে অভিযান চালায়।

বিজ্ঞাপন

অভিযানে রণদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রণদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ ৭ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।  পরে সবাইকে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়।  তাদের লাশ আর পাওয়া যায়নি।’

২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল এ মামলাটির তদন্ত শুরুর পর ট্রাইব্যুনাল থেকে পরোয়ানা জারি হলে ওই বছরের নভেম্বরে মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়।  এরপর গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

এরপর চলে বিচারিক কার্যক্রম।  অবশেষে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য আসে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুবুর রহমান

মানবসেবায় ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থাকায় ব্রিটিশ সরকার রায় বাহাদুর খেতাব দিয়েছিল রণদা প্রসাদ সাহাকে।  মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে সরকার তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়।  তিনি আর পি সাহা নামেও সমধিক পরিচিত।

রণদা প্রসাদ সাহার পৈত্রিক নিবাস ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে।  সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।  এক সময় নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসায় নামেন রণদা প্রসাদ সাহা; থাকতেন নারায়ণগঞ্জের খানপুরের সিরাজদিখানে।

Bellow Post-Green View