চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দাদাভাই নিয়ে স্মৃতির এক পশলা

রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই। অগ্রজ লুৎফর রহমান রিটন,ফারুক নওয়াজ, আমীরুল ইসলাম ,আহমাদ উল্লাহ ভাইয়ের কাছে তাঁর অনেক কথা শুনেছি। তখন পর্যন্ত তাঁর অফিসে গিয়ে লেখা দেয়া হয়ে ওঠেনি।হয়ে ওঠে নি মানে! সাহসে কুলোয় নি। ১৯৮৫-৮৬ সাল, আমরা তখন সবে মাত্র লেখালেখি শুরু করেছি। আমরা কি এক অজানা কারণে তাঁকে খুব ভয় পেতাম।

অগ্রজেরা আমাদের বলতেন, দাদাভাইয়ের কাছে লেখা নিয়া যাইবা? লেখা নিয়া যাইবা ভালো কথা তবে যাওয়ার আগে হাতে পায়ে তাবিজ বাইন্ধা লইও আর বুকে- পিঠে হুজুর মুজুরের ফু-ফা দিয়া যাইও….

বিজ্ঞাপন

সে আমলে দাদাভাইয়ের সঙ্গে আরও একজন নাম করা সম্পাদক ছিলেন, দৈনিক বাংলার ফিচার সম্পাদক আফলাতুন ভাই। অগ্রজরা আফলাতুন ভাইয়ের ওখানে যাবার আগেও একই কথা বলতেন। কিন্তু পরে দেখেছি অগ্রজরা তাদের নিয়ে যা বলতেন তা ছিল নিছকই গালগল্প। বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলা।

ততদিনে দাদাভাই আর আফলাতুন ভাইয়ের পাতায় আমাদের বন্ধুদের লেখা ছাপা হতে শুরু করল। উনাদের রুমে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেই। দাদাভাই পিওন সুলতানকে দিয়ে ‘দেশবন্ধু’ থেকে পরোটা আর ভাজি এনে আমাদের খাওয়ান। চা খাওয়ান। আমাদের সঙ্গে গল্প গুজব করেন- আমাদের একটু অবাকই লাগে। আমাদের বন্ধু সারওয়ার-উল-ইসলাম তখন দাদাভাইয়ের সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কাজ করে। পরে অবশ্য আমাদের সেই ভুল ভেঙেছে।
দাদাভাই আর আফলাতুন ভাইকে নিয়ে অগ্রজদের এধরনের গালগল্প নিয়ে আমাদের প্রিয় বন্ধু ছড়াকার ওবায়দুল গনি চন্দন মজার এক ব্যাখ্যা দিত।

বিজ্ঞাপন

ছবিতে বাঁ থেকে বন্ধু ছড়াকার সারওয়ার- উল ইসলাম , উপস্থাপক আব্দুন নূর তুষার ,আমি ,দাদাভাই ,আমার প্রিয় বন্ধু শক্তিমান ছড়াকার ওবায়দুল গনি চন্দন ,আনজীর লিটন এবং মিহির কান্তি রাউত ।ছবি: ১৯৯৯ সালের জুনের কোন এক সময়।

সে আমাদের বলত, ‘ আরে মামা বুঝো না? আমাদের বড় ভাইরা বাংলা ফিলিমের ভিলেনের মতো আমাগো কাছে দাদাভাই আর আফলাতুন ভাইরে নিয়া বানায়া বানায়া এইসব কাহিনী কইত যাতে আমরা আর ভয়ে ইত্তেফাক আর দৈনিক বাংলা অফিসে লেখা লইয়া না যাই। আমরা না গেলে তো হেগো পোয়া ১২’- বলে চন্দন হাসত। চন্দনের হাসির রহস্য রহস্যই থেকে যায়। চন্দন অবশ্য এমনিতেও রহস্যময় ছিল। খুব অসময়ে সে আমাদের সঙ্গে রহস্য করে কোথায় যে চলে গেল! দুই দাদাভাই ছিলেন রাশভারী স্বভাবের মানুষ। কম কথা বলতেন। তিনি যখন কথা বলতেন তখন এক ধরনের জড়তা তাকে পেয়ে বসত।

দাদাভাই যতদিন বেঁচেছিলেন তাঁকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। মানুষটা খুব একাকী ছিলেন।
নিঃসঙ্গ তো ছিলেন বটেই। আমার ছোটবেলা কেটেছে নারিন্দার বসুবাজার লেনে- এটা জানতে পেরে দাদাভাই আমাকে অন্য দৃষ্টিতে দেখতেন। খুব স্নেহ করতেন আমাকে। মাঝে মাঝে ইত্তেফাকে অফিস শেষ করে উনার গাড়িতে আমাকে তুলে নিয়ে বসুবাজার লেনের দিকে রওয়ানা হতেন। বাসায় ফেরার আগে দাদাভাই নারিন্দা মোড়ের অলিম্পিয়া বেকারি থেকে কেক বিস্কিট কিনতেন। দাদাভাই খুব ভোজন রসিকও ছিলেন।আজ এই মানুষটার জন্মদিন।
শুভ জন্মদিন দাদাভাই।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)