চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দর্শকদের ভালো লাগে রিয়ার ‘কিউটনেস’!

লাইট ক্যামেরার সঙ্গে শোবিজে সানজানা সরকার রিয়ার পচথচলা মাত্র চার বছর। এ সময়ে তিনি বিজ্ঞাপন, শর্টফিল্ম, সিরিয়াল ও একঘণ্টার নাটক দিয়ে যে কটা কাজ করেছেন, তা হাতের আঙুলে গণা যাবে! তারপরেও প্রতিটি কাজ রিয়াকে নতুন করে পরিচিতি এনে দিয়েছে!

সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটলে দেখা যায়, অল্প কাজ দিয়েও তুলনামূলক বেশ পরিচিতি পেয়েছেন রিয়া!

তিনি নিজেও অনুভব করেন যে, কাজ দিয়ে আগাচ্ছেন কচ্ছপ গতিতে। রিয়া আরেকটি বিষয় খেয়াল করেছেন; নাটকের দর্শকরা তাকে নিয়ে বেশ মাতামাতি করেন। রিয়া মনে করেন, তার ‘কিউটনেস’ দর্শকদের কাছে ভালো লাগার কারণ।

রিয়া বলছিলেন, প্রতিনিয়ত দর্শক জানতে চান, আমি স্ক্রিনে যেমন বাস্তবে তেমন কিনা! দর্শকদের কৌতূহলের শেষ নেই।

গেল ভালোবাসা দিবসে কাজল আরেফিন অমির পরিচালনায় প্রাণ ফ্রুটোর আয়োজনে ‘প্রপোজ ২’ নামে একটি শর্টফিল্মে কাজ করেছেন রিয়া। যেটি ১৭ লাখের বেশি দর্শক উপভোগ করেছেন। তার সঙ্গে ছিলেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ। সেখানে রিয়া ‘বেলস পালসি’-তে আক্রান্ত একজন মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি বলেন, এজন্য আমাকে আগে রিহার্সেল করতে হয়েছে। অমি ভাইয়া বার বার আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কাজটি প্রচারের পর প্রচুর মানুষ আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া নির্মাতা অমির ‘ফিমেল’ নাটকেও ছিলেন রিয়া। যে নাটকটি ভালোবাসা দিবসে অন্যতম আলোচিত প্রোডাকশন। মাত্র তিন সপ্তাহে নাটকটি ৭২ লাখের বেশি দর্শক ইউটিউব থেকে উপভোগ করেছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পুরো নাটকে কোনো সংলাপ না থাকলেও গল্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রিয়া! যেখানে তাকে এয়ার হোস্টেস হিসেবে দেখা গেছে। রিয়া বলেন, আমার চরিত্রের এটিটিউটই হচ্ছে অনেক কিছু হবে, কিন্তু আমি কিছুই জানব না। এয়ার হোস্টেসরা যেমন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হয় আরকি!

এই সাফল্য ছুঁয়ে গেছে রিয়ার মনে। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, অভিনয়ে আমি অনেক বেশি পরিণত নই। প্রতিটি নতুন কাজ থেকে শেখার চেষ্টা করি। তবে দর্শকরা অল্পসময়েই আমাকে আপন করে নিয়েছেন, এর জন্য তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা। অনেক কাজ করেও অনেকেই দর্শকদের কাছে পৌঁছুতে পারেন না। সেই দিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান। যেখানেই যাই সেখানেই দর্শকদের প্রশংসা পাই, ভীষণ আনন্দ লাগে তখন।

রিয়া বলেন, আমি সংখ্যার চেয়ে মানে বিশ্বাসী। সেজন্য কাজও করি খুব কম। এখন পর্যন্ত আমার নিজের কাছে কোনো কাজ দেখে নিজেকে খারাপ লাগেনি।

সময়ের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এও রিয়ার উপস্থিতি পরিচিতি এনে দিয়েছে। তিনি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ২ থেকে এন্ট্রি নেন। এ নাটকে রিয়া নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। তার আগে রিয়া ছিলেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ টিমের উদ্যোগে বানানো ‘ব্যাচেলর ঈদ’ নাটকে। রিয়া বলেন, সেই নাটক থেকে দর্শক বলতে থাকে আমার কিউটনেস তাদের ভালো লাগে। অভিনয়ের প্রশংসাও পেয়েছিলাম। তখন তো বুঝিনি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ২ এতো জনপ্রিয়তা পাবে। এ নাটক দিয়েই মানুষ আমাকে বেশি চেনা শুরু করেছে।

শোবিজে আসার ইচ্ছে ছিলো না সানজানা রিয়ার। শখের বশে বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছিলেন। একে একে প্রাণ ফ্রুটো, ইস্পাহানি মির্জাপুর চায়ের বিজ্ঞাপন করেন। নাটকে পরিচিতি পাওয়ার পর অভিনয় নিয়ে সিরিয়াস হয়েছেন রিয়া। তিনি বলেন, প্রথমদিকে আমি অভিনয় নিয়ে সিরিয়াস ছিলাম না। একটু একটু করে যখন দর্শক সাড়া ও ভালোবাসা পেতে শুরু করলাম তখন মনে হলো যে অভিনয়ে সিরিয়াস হওয়া উচিত।

রিয়া বলেন, আমি দর্শকদের হৃদয়ে ঠাঁই পেতে চাই। তাদের এই ভালোবাসাটুকু সঙ্গে নিয়ে আগাতে চাই। অভিনয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেটা নায়িকা হিসেবেও আবার অভিনেত্রী হিসেবেও। যতদিন দর্শকদের ভালোবাসা পাবো, কাজ করে যাবো।

বিজ্ঞাপন