চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের জন্য ধারাবাহিক অগ্রগতি আর সম্মানের পথটি দিন দিন প্রশস্ত করে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও মানুষের উন্নয়নের কাজে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে তিনি সব সময় যে কথাটি প্রত্যয়ের সঙ্গে উচ্চারণ করেন তা হল, ব্যক্তিগতভাবে এদেশের কাছে আমার কিছুই চাওয়ার নেই। আমার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।

‘৭৫-এর পনেরই আগস্টে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেললে আমি আর আমার বোন সব হারাই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তারা দেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠায় আর দেশের মানুষরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এরপর থেকে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে এদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। মানুষের ভাত আর ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।

এদেশের মানুষকে এখন আর দুবেলা খাবারের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন আমি এবং তাঁর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ তা পূরণে সফল হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করে বলছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের মেধা আর মননে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন আর অগ্রগতির সফল রোল মডেল। তারা আরও বলছেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের বিচক্ষণতা আর দূরদর্শিতা দিয়ে নিজেকে শুধু দক্ষিণ এশিয়ারই নয়, বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর ও জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

আঞ্চলিক রাজনীতির বাইরেও তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও তিনি নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। বিশ্বে শান্তি ও মানবতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি অধিকার বঞ্চিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বুকে তৈরি করেছেন এক নতুন দৃষ্টান্ত।

ইউরোপের দেশ গুলো যখন সেদেশে আসা ভাগ্য বিড়ম্বিত শরণার্থীদের ক্ষেত্রে বাঁধা আর নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ বেড়াজাল তৈরি করছে সেখানে জাতিগত বিভেদ আর দাঙ্গার কারনে মিয়ানমার থেকে অত্যাচার আর নির্যাতনে পালিয়ে আসা লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাদের এদেশে বাসস্থান ও খাবার দাবারের সংস্থান করে দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে চমকে দিয়েছেন।

‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’  কিংবা ‘মানুষের জন্য মানুষ ’– এই স্লোগানকে সমুন্নত রেখে শেখ হাসিনা আর্ত মানবতার সেবায় নিজেকে উজার করে দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা যখন সব বাধাবিপত্তি ভুলে কোনোরকম আপোষ না করে নিজের দেশ ছেড়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন তখন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের টনক নড়ে।

তারা তাকে প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা অত্যন্ত বলিষ্ঠতা ও সাহসিকতার সঙ্গে বলেছেন, একথা ভুলে গেলে চলবে না যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের দুই কোটি অসহায়, গৃহহীন মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সেদিন ভারত যদি আমাদের আশ্রয় প্রশ্রয় না দিত তাহলে আমাদের এসব ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষগুলোর কি হতো? আমি উদ্বাস্তু আর ভাগ্য বিড়ম্বিত মানুষের কষ্ট- যন্ত্রণা বুঝি- তাই অনেক ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গা মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।

আমি তখন বলেছিলাম বাংলাদেশের মানুষ যদি দুবেলা দু মুঠো খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারে তাহলে আমাদের ভাগের খাবার দিয়ে রোহিঙ্গাদের খাওয়াতে পড়াতে পারব।

সেদিন শেখ হাসিনার একথায় বিশ্ব বিবেক নতুন করে অনুধাবন করতে পারল নেতৃত্বের উদারতা কাকে বলে!

শেখ হাসিনার কথা থেকে তারা বুঝে নিয়েছিল তিনি কি বলতে চান- তাঁর কথার মর্মার্থ কি।

বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার এই বার্তার ভেতরে নতুন করে যে সত্যটি উপলব্ধিতে আনল তা হল, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ হয়ত ক্ষুদ্র আকৃতির কিন্তু এদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই ছোট্ট কথার মধ্যে দিয়ে বিশ্ব মানবতা আর আর্তের সেবায় মানুষের করণীয় কি হতে পারে তার ইঙ্গিত দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের মানুষ কত বড় হৃদয়ের অধিকারী।

রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে নিয়ে বিশ্ব নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি করছিলেন তখন শেখ হাসিনা শক্ত হাতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি জাতিসংঘ রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্বৈত নীতি গ্রহন করেছিল তা বিশ্বে নিন্দিত হয়েছে।

শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচির রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে ন্যাক্কারজনক ভুমিকা নিয়েছিলেন তা সুস্থ মানুষের কেউই মেনে নিতে পারেনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমর্থন মিলিয়ে সুচির ভূমিকা বিশ্বের সকল মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

বলা যায়, একরকম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনা একাই স্রোতের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বস্তুত শেখ হাসিনার এই বিষয়টিকে মোটা দাগে মূল্যায়ন করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে তাদের অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ যদি রোহিঙ্গাদের পাশে না দাঁড়াত তাহলে এর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুধু এশিয়ার রাজনীতিতে নয় বরং গোটা বিশ্বে পড়ত। শেখ হাসিনা নিজের দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা আর নেতৃত্ব দিয়ে এ যাত্রায় সবাইকে বাচিয়ে দিয়েছেন। এখানেই তাঁর বিশাল নেতৃত্বের কৃতিত্ব।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যেখানে সংশয়ের মধ্যে কালাতিপাত করছিলেন তখন শেখ হাসিনা সাগরের মতো বিশালতা নিয়ে বাসস্থান–অন্ন–বস্ত্র দিয়ে তাদের পাশে মায়ের মমতা নিয়ে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছেন পৃথিবী থেকে এখনও মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি উধাও হয়ে যায়নি।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ভালোবাসা, মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা নিজের নেতৃত্বের উচ্চতাকে নিয়ে গেছেন অনেক ওপরে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন