চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তবু কী থামে জীবনের উৎসব

বাংলাদেশে গত ৫০ বছরে মনে হয় তিনটি ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছে কঠোর প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পুড়ে ছারখার হওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষ ঈদ পালন করতে পারেনি। সারা বাংলা তখন পাকি হানাদারদের আগুনে শ্মশান। তারপর বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন নানা সংগ্রাম আন্দোলনের মাঝেও ঈদের খুশিতে মেতেছে।

কিন্তু হঠাৎ বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে তছনছ হয়ে যায় সারা পৃথিবীর সকল যাপিত নিয়ম। প্রায় দুই বছর এক প্রকার ঘরবন্দী জীবন যাপন করছে সারা পৃথিবীর মানুষ। সারা বিশ্বেই। একটি করোনা নামক ভাইরাসের প্রবল তাণ্ডবে। ভাইরাসের ত্রাস শেষ হয়নি, থামেনি মৃত্যুর মিছিল। শোক আর সঙ্কটের পৃথিবীতে গত বছরের মতো মহামারির দিনে এসেছে আরেকটি ঈদ। বিধিনিষেধে বন্দি জীবনে এসেছে উৎসবের উপলক্ষ।

বিজ্ঞাপন

এবারও মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ঈদগাহ বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। এই ক্ষেত্রে মুসল্লিরা জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে ঈদের নামাজের জামাত খোলা জায়গার পরিবর্তে কাছের মসজিদে পড়েছেন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামী শরীয়তে ঈদের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করেছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। এছাড়া ঈদগাহে কোলাকুলি, করমর্দন করা থেকে বিরত থাকাসহ নামাজ আদায়ে ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এত বিধি নিষেধের ঈদ আর আসেনি। সারা মুসলিম বিশ্বেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ পালন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের আগেরদিন সন্ধ্যায় বলেছেন: কোনভাবেই এই ঈদ উদযাপন যেন করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির উপলক্ষ হয়ে না ওঠে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে এবারও আমাদের ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হচ্ছে। আমরা ঈদ উদযাপন করবো, তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

তিনি  জনগণের প্রতি অনুরোধ করেছিলেন: আপনারা আবেগের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে যাবেন না। অনেকের কোন বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার পাশের ব্যক্তিটিই করোনাভাইরাস বহন করছে। এরফলে আপনি যেমন করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে পড়বেন, তেমনি আপনার নিকটাত্মীয় বা পাড়াপ্রতিবেশিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন। মনে রাখবেন, সবার উপরে মানুষের জীবন। বেঁচে থাকলে আসছে বছর আবার আমরা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারবো। মানুষ তার কথা মতই এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করেছে ঈদুল ফিতর।

মানুষের উৎসবের আনন্দ কেড়ে নেওয়ার পরও এই করোনাকালে দেশের সব শ্রেণীর মানুষ সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ পালন করেছে। তবু কী থামে জীবনের উৎসব? কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না। এইসব অসতর্কতায় যেনো করোনাভাইরাস আরও ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সচেতন মহল ও সরকার নজর রাখবে বলে আমরা আশা করি। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব সাম্য ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়ার ঈদ যেন আগামীবার আমরা মুক্ত আনন্দে পালন করতে পারি সে চেষ্টাই করে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন