চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

তখন বিচারপতির চোখে জল

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির বয়স নিরূপণ সংক্রান্ত রিটের রায় ঘোষণা চলছিল। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা রায়ের শেষ পর্যায়ে এসে কাঁদলেন রায় প্রদানকারী হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

আদালতের ঘড়িতে তখন সময় ১২টা ১৫। রায়ের শেষ অংশ পড়ছেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। এ সময় রায়ের মধ্যে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাটি পড়ছিলেন। এরপর হঠাৎ একটু থেমে যান এ বিচারপতি। তারপর বলেন: ‘আমি একটু ইমোশনাল হয়ে গেছি। আমার মনে হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৬ মার্চ ভোর বেলার দেওয়া স্বাধীনতার এ ঘোষণাটি পড়লে যে কেউই আবেগপ্রবণ হয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

এসময় বারবার চোখ মোছেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। এ দৃশ্যপটের অবতারণা হলে রিটের পক্ষের আইনজীবীরা দাঁড়িয়ে যান।

এরপর বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে জারি করা সরকারের গেজেট ও এ সংক্রান্ত আইনের ধার অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সেই সাথে আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের বকেয়াসহ বন্ধ থাকা সম্মানী ভাতা পরিশোধ বা চালু করতে বলেছে আদালত। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এটি কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এ রায়ের ফলে বয়সের সীমা দিয়ে নয়, ঐতিহাসিক দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রায়ে উল্লেখ করা হয় বলে জানান রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। এ আইনজীবী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ‘এ রায়ের ফলে বয়সের ফ্রেমে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে নিরুপণ করা যাবে না।’

আজ রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন: ‘যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০ বছরের শহিদুল ইসলাম লালুকে বীরপ্রতীকের স্বীকৃতি দিয়েছেন। সেখানে সরকার কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য ১২ বা ১৩ বছর বয়স নির্ধারণ করে গেজেট করেন?’

আজ আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ও ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

এর আগে মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে নূন্যতম বয়স নির্ধারণ করে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৩টি গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এসব গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হতে হলে ১৩ বছর। যার সর্বশেষটিতে ১২ বছর ৬ মাস বয়স নির্ধারণ করা হয়। পরে এসব গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ১৫ টি রিট করা হয়। সে রিটের পর জারি করা রুলের চুড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আজ রায় দিলেন।

Bellow Post-Green View