চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঢাকার সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ, নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যাংক কর্মকর্তারা

রাজধানী ঢাকার দু’ সিটি কর্পোরেশনের এক হাজার ৯৮২টি ভোটকেন্দ্রের প্রায় সবকটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রসহ তিন সিটির ভোট পরিচালনার জন্য ৫১ হাজার কর্মকর্তা প্রস্তুত হচ্ছেন। তবে নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে এবার শিক্ষকের সংখ্যা কম, তুলনায় বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক বেশি।

Advertisement

কেন্দ্রের অবস্থা ব্যাখ্যায় নির্বাচন কমিশন আগে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’শব্দটি ব্যবহার করলেও এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দ ব্যবহার করে। সে হিসেবে উত্তরের রিটার্নিং অফিসার শাহ আলম বলেছেন, ঢাকার সব কেন্দ্রই গুরুত্বপূর্ণ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্র বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

কেন্দ্রগুলো পাহারায় থাকবে  আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৬৫ হাজার সদস্য। ২৬ এপ্রিল থেকে চারদিনের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে  সেনাবাহিনীও থাকবে। সূত্রগুলো বলছে, তিন সিটিতে সেনা সদস্য থাকবে তিন ব্যাটালিয়ন। এক ব্যাটালিয়নে ৭০০’র বেশি সেনা সদস্য থাকেন।

বাহিনীগুলো তাদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর  সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যে ৫১ হাজার কর্মকর্তা ঢাকা ও চট্টগ্রামে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। অন্যবারের তুলনায় এবার বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তারা এ কাজে নিয়োগ পেয়েছেন বেশি।

শিক্ষকদের নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ থাকায় নির্বাচন কমিশন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেশি নিয়োগ দিয়েছে বলে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং অফিসার শাহ আলম বলেন, ২৫ এপ্রিল ৫১ হাজার কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ শেষ হবে। প্রয়োজনের চেয়ে পাঁচ শতাংশ বাড়তি কর্মকর্তা ‘রিজার্ভ’ হিসেবে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসে তখন তাকে সরিয়ে ‘রিজার্ভ’ তালিকা থেকে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

দায়িত্ব পাওয়া নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলেও নিরপেক্ষতার প্রমাণ রাখতে তারা প্রস্তুত।

প্রশিক্ষণ শেষে এক কর্মকর্তা জানালেন, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনেক সময় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগ ঢালাওভাবে থাকে না। তাই হয়তো এবার বেশি সংখ্যক ব্যাংক কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিয়ে আসা হয়েছে।

তবে তিনি জানান, যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী থাকবে, তবুও কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি।

তার মতোই আরেক কর্মকর্তা বললেন,অবশ্যই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন।  আতঙ্ক আছে, তবে সেই সাথে দায়িত্বও আছে। নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করার দায়িত্ব একটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা।

বিএনপি অবশ্য এরইমধ্যে নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু ইসি বলছে, কারো আপত্তি থাকলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা রেখেই পর্যাপ্ত লোকবলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।।

ঢাকার দু’ কর্পোরেশনসহ তিন সিটিতে ভোট হবে ২৮ এপ্রিল।  এখন প্রচারণার শেষ পর্যায়ে আছেন প্রার্থীরা। প্রচারের শেষ সময় ২৬ এপ্রিল রাত ১২টা।