চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডাবিংয়ে ‘আদিম’, সামনে মুক্তির লড়াই!

সব চরিত্র বাস্তব, তৈরি হচ্ছে ‘আদিম’

নানা সংকট, চড়াই, উতরাই পেরিয়ে শেষ হয়েছে তরুণ নির্মাতা যুবরাজ শামীমের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘আদিম’-এর শুটিং। এরপর থেমে থেমে হয়েছে সম্পাদনার কাজও। এবার শুরু হয়েছে চলচ্চিত্রটির ডাবিং।

সোমবার চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে নির্মাতা যুবরাজ শামীম বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ‘আদিম’-এর ডাবিং শুরু করেছি। এই চলচ্চিত্রে সাউন্ডের কাজ করছেন নাহিদ মাসুদ।

বিজ্ঞাপন

‘আদিম’-এর ডাবিং শুরু…

বিজ্ঞাপন

শত প্রতিবন্ধকতা সত্বেও সাধারণ মানুষের আস্থার উপর নির্ভর করে যে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা যায়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যুবরাজ শামীম। থেমে থেমে টানা কয়েক মাসব্যাপী দৃশ্য ধারণের পর গেল বছরের শুরুর দিকেই ‘আদিম’ শুটিং শেষ করেছিলেন নির্মাতা। এরপর দীর্ঘ সময় নিয়ে ছবির সম্পাদনা করেছেন। আরও সময় নিয়ে ফিরলেন ডাবিংয়ে।

ছবি সম্পন্ন করতে এতো সময় নিচ্ছেন কেন নির্মাতা? খোলাখুলি জবাব দিলেন যুবরাজ। বললেন, আমার ছবির চরিত্ররা বাস্তব। লোকেশনও তাই। একেবারে বস্তিতে থাকা মানুষ আমার ছবির চরিত্র। তাদের সাথে মিশে শুটিং করেছি। অর্থাভাবে শুটিং হয়েছে থেমে থেমে। সম্পাদনাতেও এমনটাই হয়েছে। প্রায় আট থেকে নয় মাস সময় লেগেছে শুধু এডিটিংয়েই।

ডাবিংয়ে যেতে দেরি হওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, আদিমে যারা অভিনয় করেছেন তারা সবাই ভাসমান। শুটিংয়ের পরে তাদের সাথে যোগাযোগ থাকলেও পুনরায় তাদেরকে খুঁজে বের করে ডাবিং করানো একটু জটিল ছিল।

ছবিটির মুক্তি কিংবা ফেস্টিভালে পাঠানো নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, আমি কাজ নিয়ে তাড়াহুড়ো করার পক্ষের লোক নই। অমুক দিন রিলিজ দিতে হবে কিংবা তমুক উৎসবে পাঠাতেই হবে, এ নিয়ে তাড়না নেই। সব চিন্তা বাদ দিয়ে কাজটা যত্ন নিয়ে আগে শেষ করতে চাই।

‘আদিম’ চলচ্চিত্রে কোনো তারকা নেই, প্রফেশনাল অভিনেতা নেই, কোনো প্রযোজক নেই। গল্প, চিত্রনাট্য ও নির্মাণে রয়েছেন যুবরাজ শামীম নিজেই। সিনেমাকারের ব্যানারে নির্মিত ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে আছেন আমির হামযা।

নির্মাতা জানালেন, ছবিতে চরিত্র প্রায় দেড় শতাধিক। তবে মূল চরিত্রে দেখা যাবে দুলাল, সোহাগী, বাদশা ও তুফানীকে।

টঙ্গির একটি বস্তিতে শুটিং হয়েছে ‘আদিম’-এর। ছবির কাহিনীও বস্তিকে কেন্দ্র করেই। ছবির চরিত্ররাও বস্তিতেই বাস করেন। গ্রুমিং করিয়ে সেখানকার বস্তির মানুষদের নিয়েই অভিনয় করিয়েছেন নির্মাতা। সবকিছু একেবারে নেচারাল। তবে শুটিং করতে যেয়ে বার বার অর্থ কষ্টে পড়তে হয়েছে এই নির্মাতাকে। থেমে থেমে শুটিং করেছেন। শেষ পর্যন্ত গণমানুষকে এই ছবিতে যুক্ত করেছেন অভিনব পদ্ধতিতে। ছবির শেয়ার বিক্রি করেছেন একেবারে সাধারণ মানুষের কাছে। শেষ পর্যন্ত মানুষের টাকায় ছবিটি শেষ করার দ্বারপ্রান্তে!