চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ট্রিপল মার্ডারের ঘাতক মসজিদে ইমামতি করা তানভির’

আখতারুজ্জামান আখতার: অর্থ সম্পদ ও টাকা পয়সার লোভেই পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুরে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী-কন্যাকে হত্যা করে তানভির হোসেন (২৫) নামের পাশ্ববর্তী মসজিদে ইমামতি করা একজন।

গ্রেপ্তারের পর তানভির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। ঘাতক তানভির নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার হরিপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।

বিজ্ঞাপন

তানভির একাই তিনজনকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও কাঠের বাটাম দিয়ে মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে পুলিশ জানায়।

রোববার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ রফিকুল ইসলাম পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আব্দুর জব্বার দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন। সানজিদা জয়া তাদের (১২)তাদের পালিত মেয়ে। সানজিদা শহরের কালেক্টরেট মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

পুলিশ সুপার জানান, পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর ভাড়া বাড়ির পাশে ফায়ার সার্ভিস অফিসের মসজিদের ইমামতি করা তানভির হোসেনের সাথে দেড় বছর আগে আব্দুল জব্বারের পরিচয় হয়। তার আচার ব্যবহারে সন্তষ্ট হয়ে তাকেও আব্দুল জব্বার দম্পতি সন্তানের মত ভালবাসতেন। সেই সূত্রে ওই বাড়িতে তানভিরের অবাধে যাতায়াত ছিল। এমনকি সন্তানের মতই ব্যাংক, পোষ্ট অফিসের টাকা তোলাসহ সব বিষয়ে তার সাথে শেয়ার করতেন এই নিঃসন্তান দম্পত্তি। আর এটাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। আব্দুল জব্বার দম্পতি তানভিরকে সন্তানের মত ভালবাসলেও সে মনে মনে তাদের অর্থ সম্পদ টাকা পয়সা লুটপাটের পরিকল্পনা করতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা মোতাবেক গত ২৫ মে সে ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং ৩১ মে পাবনায় ফিরে আসে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তানভির আব্দুল জব্বারের বাড়িতে এসে উঠলে কোন কিছু না বুঝেই তিনি তানভিরকে নিজ বিছানায় ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দেন। এক রুমে তানভির ও আব্দুল জব্বার এবং অন্য রুমে আব্দুল জব্বারের স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ও মেয়ে সানজিদা শুয়ে পড়েন।

ভোরে আব্দুল জব্বারকে শ্বাসরোধ ও কুপিয়ে এবং ছুম্মা খাতুন ও মেয়ে সানজিদাকে ঘুমের মধ্যেই কুপিয়ে হত্যা করে তানভির। এরপর সে চাবি দিয়ে আলমিরা থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ১ লাখ ভারতীয় মুদ্রাসহ বেশ কিছু সোনার গহনা নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে নওগাঁয় নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

পুলিশ সুপার জানান, আব্দুল জব্বার দম্পত্তি ও তাদের কন্যার মরদেহ উদ্ধারের পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গৌতম কুমার বিশ্বাস এর নেতৃত্বে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(হেডকোর্য়টার) খন্দকার রবিউল আরাফাত লেনিন, সদর থানার ওসি নাসিম আহম্মেদ, ওসি ডিবি ফরিদ হোসেন এর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করেন। এই টিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতক তানভিরকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার এবং লুন্ঠিত টাকা ও সোনার গহনা উদ্ধার করেন।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি চাকু, ১টি গামছা ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রেস ব্রিফিং এর পরই দুপুরে তানভিরকে পাবনার ১ নং আমলি আদালতে ১৬৪ এর জন্য সোপর্দ করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) আরাফাত লেনিন বলেন, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এর আগে নিহত আব্দুল জব্বারের ভাই আব্দুল কাদের বাদি হয়ে পাবনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ৫ জুন দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পাবনা শাখার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার (৬২), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন(৫৬) এবং মেয়ে সানজিদা খাতুন (১২) এর পঁচা গন্ধ মরদেহ উদ্ধার করে।