চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘টেন্ডাককার’ আউট দিয়ে বিখ্যাত বনে গিয়েছিলেন হারপার

সালটা ১৯৯৯, সেসময়ের ভারত দল আর শচীন টেন্ডুলকার মানে সমার্থক। শুধু দেশেই নয়, বিশ্বক্রিকেটে তখন সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখ ডানহাতি কিংবদন্তি। ভারতীয়দের কাছে শচীন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’। বিশ্বের যে প্রান্তেই মাঠে নামেন না কেনো, তার খেলা দেখতে পুরো পরিবার নিয়ে টিভি সেটের সামনে বসে যেত সমর্থকরা। সেই শচীনকে বিতর্কিত এক আউট দেয়ার পর জাতীয় শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার ড্যারেল হারপার!

সেবছর অস্ট্রেলিয়া সফরে অ্যাডিলেড টেস্টে গ্লেন ম্যাকগ্রার বলে শচীনকে এমন এক আউট দিয়েছিলেন হারপার, যেটা ক্রিকেট বিশ্বেরই তখন পর্যন্ত অজানা। ম্যাচে ম্যাকগ্রার একটি নিচু হয়ে আসা বাউন্সারে ডাক করতে চেয়েছিলেন শচীন, বল আঘাত হানে তার কাঁধে। অজি পেসারের এলবিডব্লিউ আবেদনে কিছুক্ষণ দ্বিধায় থাকার পর আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার হারপার। শূন্য রানে সাজঘরে ফিরতে হয় ভারত অধিনায়ককে।

বিজ্ঞাপন

বল কাঁধে লাগার পর এলবিডব্লিউ কীভাবে হয় তা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে ভারতের কোনায় কোনায়। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো বেশ ফলাও করে তা নিয়ে লেখালেখি করে। অদ্ভুত সেই আউটের নাম দেয়া হয় ‘টেন্ডাককার’!

বিজ্ঞাপন

বিতর্কিত ওই আউটের ২১ বছর পর এশিয়ানেট নিউজকে হারপার জানিয়েছেন আউটটি নিয়ে তার বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। যা সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন সেটা জেনেশুনে, কোনো ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই। এখনো তিনি মনে করেন শচীন সেদিন আউটই ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

‘আমি প্রতিদিন টেন্ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবি। এমন নয় যে আমার ভালো ঘুম হয় না কিংবা দুঃস্বপ্ন দেখি বা আউটের রিপ্লে আমার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে। আমার গ্যারেজে ম্যাকগ্রা আর শচীনের বিশাল বড় এক ক্যানভাস ঝোলানো আছে। বল করার পর দুজন দুজনের দিকে যেভাবে তাকিয়ে ছিল সেই দৃশ্যটা। অনেকে এটা জেনে হতাশ হতে পারে যে আমি সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভীষণ গর্ববোধ করি। কারণ সিদ্ধান্ত দেয়ার সময় আইন মেনে ও কোনরকম দ্বিধা ছাড়াই আউটটি দিয়েছিলাম।’

‘আম্পায়ারদের এই প্রশিক্ষণই দেয়া হয় এবং এটাই তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকে। শচীন তখন ভারতের অধিনায়ক ছিল, আর আইসিসির অফিসিয়াল আমাকে জানিয়েছিলেন আমার পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি কোনো নেতিবাচক মন্তব্য লেখেননি। আমি হঠাতই বুঝতে পারলাম বিশ্বের ছয় ভাগের এক ভাগ মানুষ আমার নাম জানে এবং তারা আমাকে নিয়ে যে ভালো কথা বলছে না সেটাও বুঝতে পারলাম।’

২০১৮ সালে ভারতের প্রধান নির্বাচক এমএসকে প্রসাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল হারপারের। প্রসাদ ১৯৯৯ সালের ভারত দলটাতে ছিলেন। সাবেক এ আম্পায়ার জানিয়েছেন যে, প্রসাদ তাকে বলেছেন শচীন নিজেও বিশ্বাস করতেন তিনি আউট ছিলেন।

‘২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া-ভারত সিরিজে অ্যাডিলেড ওভালে প্রসাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। ২০ বছর আগের সেই সুন্দর মাঠটায় আমাদের দেখা হয়েছিল।’

‘তখন তো আর করোনা ছিল না। তাই আমরা একে অপরকে আলিঙ্গন করেছি। এমএসকে নিজেই উত্তেজিত হয়ে বলেছিল, ‘‘শচীন আউট ছিলেন, শচীন আউট ছিলেন।’’ এটা এক অদ্ভুত আউট ছিল। আমি অনেক ক্রিকেট দেখি, কিন্তু এরপর কখনোই এমন আউট দেখিনি। আমার এখনো মনে হয় আমি সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম।’