চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টিকটকার ‘অপু ভাই’য়ের তিনদিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

রাজধানীর উত্তরায় সড়কে মারামারির ঘটনায় জনপ্রিয় টিকটকার ইয়াসিন আরাফাত অপু ওরফে অপু ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আজিজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরা আলাউল এভিনিউতে মারামারির ঘটনায় টিকটকার অপু ভাই ও তার এক সহযোগী নাজমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় অপু ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করে সকালে আদালতে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও মারাসারির ঘটনায় টিকটকার অপু ভাইয়ের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

মামলার বাদি এস এম মাহবুব আলমের ছেলে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রবিন  বলেন, রোববার সন্ধ্যা আমি কোরবানির মাংস দিতে শ্বশুড়বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে প্রাইভেটকারে আমি ও আমার তিন বন্ধু ছিলাম। উত্তরা আলাউল এভিনিউতে যাওযার পর দেখি আনুমানিক ৪০/৫০ জন পুরো সড়ক বন্ধ করে কিছু একটা করছে। তখন আমরা যাওয়ার জন্য হর্ন দিচ্ছিলাম। পরে দেখি ওরা টিকটক শ্যুটিং করছে। পরে ওরা সামনে এসে ব্যাড কমেন্টস করছিল। তখন আমি গাড়ি থেকে নেমে জিজ্ঞেস করি – কি সমস্যা? এতেই ওরা আমার ওপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে। এক পর্যায় ওরা মাথায় আঘাত করে এবং দেশিয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। পরে সেখান থেকে হাসপাতালে গিয়ে ট্রিটমেন্ট নেই।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। পরে সোমবার সকালে আমার বাবা থানায় গিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

অবৈধভাবে ওরা সড়ক আটকে টিকটক ভিডিও তৈরি করছিল। এরপর তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। সড়ক অবরোধ দেখে হর্ন বাজানোর কারণেই ওরা এই হামলা চালায়।

এর আগে, গত রোববার সন্ধ্যায় উত্তরা পূর্ব থানাধীন ৬ নম্বর সেক্টরের আলাউল এভিনিউ এলাকায় সড়কে আটকে টিকটকের শুটিং করছিলেন অপু ভাই ও তার সহযোগীরা। এসময় একটি প্রাইভেটকারে থাকা ৪ জন্য বাধাগ্রস্থ হয়। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অপু ভাই ও তার সহযোগীরা মিলে প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রবিন ও তার দুই বন্ধুকে মারধর ও রক্তাক্ত করে। এছাড়াও দেশিয় অস্ত্র ছুরি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এরপর সোমবার  সকালে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান রবিনের বাবা এস এম মাহবুব আলম বাদি হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জনকে আসামী করা হয়। এজাহার ভুক্ত আসামীদের মধ্যে হলো- টিকটকার অপু ভাই (২০), শাহাদাত হোসেন (৩০), রনি (২৫), জসিম উদ্দিন (৪৫), মুরাদ (২২), নাজমুল (২১), শাকিল (২৫) ও সানি (২২) সহ অজ্ঞাত নামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামী করে এমামলাটি দায়ের করেন।

ওই মামলার ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরা আলাউল এভিনিউ এলাকায় অভিযান চালিয়ে টিকটকার অপু ভাই ও তার এক সহযোগী নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে বাড়ি ইয়াসিন আরাফাত অপুর। সেখান থেকে টিকটক ও লাইকি অ্যাপের মাধ্যমে সারাদেশের একটি প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই কিশোর। সোশ্যাল মিডিয়া লাইকিতে রঙিন চুলে ছোট ভিডিও করে বেশ পরিচিতি লাভ করেন ‘অপু ভাই’। লাইকি অ্যাপে তাকে অনুসরণ করে প্রায় ১০ লাখ।

অপু ভাই সম্পর্কে অপু নজরুল নামের একজন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট সম্প্রতি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নোয়াখালীর বার্বার শপে কাজ করা অপু ‘অফু বাই’ নামে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন লাইকি ও টিকটকে। অফুর উইয়ার্ড হাসি, ক্রিপি হেয়ারস্টাইল ও অদ্ভুত সব ডায়ালগের জন্য এই তরুণকে মূলত রোস্ট করতে করতে বিখ্যাত বানিয়েছে ইউটিউবাররা।’