চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘জীবন ঘনিষ্ঠ গল্পই মানুষ বেশি পছন্দ করে’

বছর চারেক আগে নির্মাতা হিসেবে কাজ শুরু করলেও দুবছর গ্যাপ ছিল সঞ্জয় সমদ্দারের। তবে বর্তমানে তিনি সময়ের আলোচিত নির্মাতাদের একজন। গেল ঈদে তার নির্মিত পলিটিক্স, যে শহরে টাকা ওড়ে, আপনার ছেলে কী করে, অপরূপা- এই চারটি ফিকশন প্রচার হয়। অসংখ্য কাজের ভিড়ে আলোচনায় ছিলো ‘যে শহরে টাকা উড়ে’। এর গল্প, নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র মোশাররফ করিমের দারুণ অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে। সাম্প্রতিক কাজ ও আগামির পরিকল্পনা নিয়ে এই নির্মাতা কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে…

ঈদের চারটি কাজ করলেন। অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?
চারটি কাজে আমি ভালো সাড়া পেয়েছি। চারটা প্রোডাকশনে চার রকম গল্প দেখিয়েছি। কাজগুলো করার সময় মাথায় ছিল যেন গল্পগুলো একইরকম না হয়। অফিসিয়ালি এটাই আমার প্রথম ঈদের কাজ।

বিজ্ঞাপন

হাস্যরস কিংবা যৌন সুড়সুড়িমূলক গল্প দেখানো ছাড়া অনলাইনে কোনো কন্টেন্ট হিট হয় না! এমন এক ধরনের অভিযোগ আছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সাদাসিধে নিখাঁদ একটা গল্প বলে যাওয়া রিস্ক মনে হয় না?
ওতো কিছু ভাবি নাই। আমি যা করতে পছন্দ করি তাই করেছি। মানুষ আমার ভাবনা পছন্দ করেছেন এজন্য আমি ভাগ্যবান। আলোচিত হতে হবে ভেবে কাজ করিনি। আমি মনে করি গল্পই একটা ভিজ্যুয়াল ফিকশনের প্রধান শক্তি। একটা প্রোডাকশন এর মূল ভিত্তি হওয়া উচিত গল্প। এরপরে গল্পটাকে ঠিকঠাক পর্দায় নিয়ে আসাটাই পরিচালক এর কাজ। সেখান থেকে নিখাঁদ গল্প বলতে পারাটাই তো সবচেয়ে রিস্ক ফ্রি মনে হয় আমার কাছে। আমি যদি আমার গল্পটা ঠিকঠাক বলতে পারি তাহলে বাকী কিছু নিয়ে আমি আর ভাবতে চাই না।

বিজ্ঞাপন

অনলাইনে ফিকশন নির্মাণের আগে যখন গল্প পছন্দ করার বিষয়টি আসে, তখন কি কখনো মনে হয় যে- ‘এই গল্পটি ক্লিক নাও করতে পারে’? মানে দর্শক রুচির ভাবনাকে প্রাধান্য দেন কিনা?
একটা কন্টেন্ট সব দর্শকদের ভালো লাগবে সেটা বিরল ঘটনা। আমিও তো একজন দর্শক। তো আমি যখন একটা কন্টেন্ট নির্মাণ করি তখন আমি দর্শকদের পয়েন্ট অব ভিউ থেকেও ভাবি। কিন্তু দর্শকদের চাওয়ার সাথে নিজের চাওয়াটা মিলিয়ে নিতে চেষ্টা করি। কারণ দিন শেষে আমার দর্শন, আমার এটিটিউড টু লাইফ, আমার জীবন বোধ এগুলোই তো পর্দায় অনুবাদ হয়।

‘যে শহরে টাকা উড়ে’র গল্পের নির্মাতার মতো ওইরকম প্রযোজকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে কখনো?
না না। আমার ক্ষেত্রে এরকম কোনো প্রযোজক এর সাথে পরিচয় হয় নি। গল্পটা লেখার সময় মনে হচ্ছিল মানুষ পছন্দ করবে।

এ ধরনের গল্পের প্লট মাথায় এলো কীভাবে?
আমরা যে সমাজে বাস করি এখানে কিছু সংকট ও বাস্তবতা রয়েছে। এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন হলেও ছোট ছোট বিষয়গুলো একত্রিত করে একটা সুতোয় বেঁধেছি। আর্টিস্ট সবসময়ই আর্টিফিশিয়াল। সবকিছু তো রিয়েল লাইফ থেকে হয়না। তবে বেশিরভাগ গল্পই জীবন থেকে নেয়া।

দর্শক কোন গল্পগুলো পছন্দ করেন জীবন ঘনিষ্ঠ নাকি কাল্পনিক? কী মনে হয় আপনার?
মানুষ বিনোদনের জন্য একটা সময় আলিফ লায়লা দেখতো। কিন্তু এখন কোনো ঘটনা দেখে নিজের জীবনে কোনো না কোনোভাবে মিল খুঁজে পায় তখন আরও বেশি আপ্লুত হয়। তাই আমার ধারণা জীবন ঘনিষ্ঠ গল্পই মানুষ বেশি পছন্দ করে।

ট্রল’-এর পোস্টারে অপূর্ব’র হাতে হাতুড়ি দেখে অনেকেই হিন্দি সিরিজ ‘পাতাল লোক’ এর ত্যাগী হাতুড়া চরিত্রটির সঙ্গে মিল খুঁজছেন। কন্টেন্ট ভিন্ন হোক, তবু এমন হাঁকডাকের মধ্যে অপূর্বর হাতে হাতুড়ি তুলে দিলেন কেন? ভায়াসড?
আমি যখন ‘ট্রল’ এর লোগোটা করি তখনই হাতুড়ির কনসেপ্ট দেই। ডিজাইনার সায়েম ভাই এটা আমাকে গত বছর অক্টোবরে হাতুড়িসহ লোগোটা করে দেন। ইংরেজি T অক্ষরটাকে আমরা হাতুড়ি করে দেই। তখন পাতাল লোক রিলিজ হয় নি। এখন ‘পাতাল লোক’ রিলিজ হওয়ার কারণে এটা মনে হচ্ছে। কিন্তু এই কনসেপ্ট গত বছরের। কাজটা তখন হলে হয়তো এটা বলার সুযোগ থাকতো না। গত বছরে ফেসবুক টাইম লাইনে এই লোগোর পোস্টও দেয়া আছে।

চলচ্চিত্র নির্মাণে কবে আসবেন?
যদি প্রোডিউসার টাকা নিয়ে এগিয়ে আসে এই বছরেই আসতে চাই। আমি চলচ্চিত্র বানাতেই এসেছিলাম। সুযোগ পেলেই চলচ্চিত্রটাই নিয়মিত নির্মাণ করতে চাই।

কোন সমস্যাগুলোর সমাধান হলে নবীন নির্মাতারা চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে মনে করেন?
চলচ্চিত্রে হল সংকট দূর হলে ও টাকাটা তুলে আনার নিশ্চয়তা থাকলে অনেক প্রডিউসার আসবেন। নবীনদের প্রতিষ্ঠা পাওয়া তখন অপেক্ষাকৃত সহজ হবে।