চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

জামালপুরে ‘গলুই’ এর প্রদর্শনী বন্ধ: বিস্মিত ও হতবাক শাকিব

বিজ্ঞাপন

জামালপুরে ঈদের ছবি ‘গলুই’ এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কারণে প্রতিবাদ মুখর চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত নির্মাতা, প্রযোজক সহ অন্যান্যরাও। সাধারণ দর্শকও প্রতিবাদমুখর। এবার নিজের ‘গলুই’ প্রদর্শনী বন্ধে মুখ খুললেন শাকিব খান।

যথাযথ প্রদর্শনের ব্যবস্থা না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় ঈদের দিন থেকে জামালপুর শিল্পকলা মিলনায়তনসহ চারটি স্থানে ‘গলুই’ এর প্রদর্শনী চলছিলো। কিন্তু জেলা প্রশাসন ১৯১৮ সালের ‘সিনেমাটোগ্রাফ আইন’ দেখিয়ে গলুইয়ের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেন। যে ঘটনায় বিস্মিত দেশের শীর্ষ তারকা শাকিব খানও।

pap-punno

নিজের অফিশিয়াল ফেসবুকে ‘গলুই’ এর প্রদর্শনী বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাকিব। এ বিষয়ে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন এই তারকা অভিনেতা।

Bkash May Banner

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে শাকিব লেখেন, করোনায় গত দুই বছর দেশের চলচ্চিত্র অনেকটাই থমকে ছিল। এবারের ঈদে ভালো মানের সিনেমার মুক্তিতে তাতে গতি আসা শুরু করছিল। সবাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী-কলাকুশলী থেকে শুরু করে সিনেমা হল মালিক – প্রত্যেকের দৃষ্টিই ছিল তাই ঈদের সিনেমার দিকে।

তিনি বলেন, মুক্তির প্রথমদিন থেকেই আমার অভিনীত দুটি সিনেমা ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’র হল রিপোর্টও দারুণ পাচ্ছিলাম। বিশেষ করে ‘গলুই’ এর দর্শকপ্রিয়তা ছিল শুরু থেকেই ছিল অন্যরকম ভালো লাগার। সুস্থ ধারার এই চলচ্চিত্র দেখতে মানুষ পরিবার নিয়ে আবার সিনেমাহল মুখী হয়েছেন; সংশ্লিষ্ট সবাইও তেমনটাই বলছিলেন। ইতিবাচক সব প্রতিক্রিয়া পাচ্ছিলাম। এমনকি দেশের প্রতিষ্ঠিত সব গণমাধ্যমেও সেই খবর উঠে আসছিল। নতুন প্রজন্ম সরকারি অনুদানে তৈরি এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন করে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছিল; যা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছিল।

তিনি বলেন, “কারও হয়তো অজানা নয় যে, ‘গলুই’ সিনেমার বেশিরভাগ শুটিং জামালপুর জেলায় হয়েছে। ফলে অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে ‘গলুই’ নিয়ে সেখানকার মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। অথচ এই জেলা শহরে নেই কোনো সিনেমা হল! বাধ্য হয়ে ‘গলুই’ সংশ্লিষ্টরা জেলা শিল্পকলাসহ চারটি মিলনায়তনে ঈদের দিন থেকে সিনেমাটি প্রদশর্নীর ব্যবস্থা করেন। এসব মিলনায়তনে দর্শকেরও উপস্থিতি ছিল উপচে পড়া। একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার এই সংকট সময়ে জামালপুরে বিকল্প ব্যবস্থায় ‘গলুই’ মুক্তির বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যা হতে পারতো সিনেমাহল হীন অন্য জেলা কিংবা উপজেলা শহরগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত। বাস্তবে ঘটলো উল্টোটা! বাঁধ সাধলো জামালপুর জেলা প্রশাসন! সিনেমাপ্রমীদেরও মন ভেঙে গেল।”

এ বিষয়ে শাকিবের অকাট্য যুক্তি, চলচ্চিত্রের সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানামুখি পরিকল্পনার কথা শুনে আসছি। হল মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া, সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের সঠিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, সিনেমা নির্মাণে বড় অনুদানসহ সরকারের বেশকিছু পরিকল্পনা হয়তো এখন বাস্তবায়নের পথে। একইসাথে সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও চলচ্চিত্র উন্নয়নের আশ্বাস সবসময়ই দিয়ে থাকেন। আর সেই সময় যখন ব্রিটিশ আমলের তৈরী সিনেমার স্বার্থ বিরোধী আইন দিয়ে পথ রোধ করা হয়, তখন বিষয়টা হয়ে ওঠে সাংঘর্ষিক। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বাংলা চলচ্চিত্র দিয়ে বিশ্বজয় করা তো দূরে থাক, এগিয়ে যাওয়াই অসম্ভব!

বিজ্ঞাপন

Bellow Post-Green View
Bkash May offer