চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জাতিসংঘের ভার্চুয়াল অধিবেশনে রোহিঙ্গা ও ভ্যাকসিনের বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া ৭৫তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট ও সাশ্রয়ী মূল্যে কার্যকর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বিশ্বব্যাপী সমবণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

সোমবার এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২৬ সেপ্টেম্বর অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মতো ইউএনজিএ’র সাধারণ বিতর্কে প্রতি বছরের মতো তার প্রাক-রেকর্ডকৃত বাংলায় ভাষণ দেবেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে গত বছরের ৭৪ তম ইউএনজিএ তার উপস্থাপিত চার দফা প্রস্তাবের নিরিখে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাদের অবস্থান ও প্রয়াস অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাবেন।

বিজ্ঞাপন

মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, কার্যকর ভ্যাকসিনের সমবণ্টন এবং অভিবাসী কর্মীদের ওপর মহামারির প্রভাব ও রেমিট্যান্স সম্পর্কিত বিষয়গুলোও তুলে ধরবেন এবং তিনি ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর সভাপতি হিসাবে জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়েও আওয়াজ তুলবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য, এসডিজি বাস্তবায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য নিরসন, সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদকবিরোধী পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, টেকসই গণতন্ত্র এবং সুশাসন ও বিশ্ব শান্তি বজায় রাখার বিষয়ও তুলে ধরবেন।

জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বনেতারা প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে ভার্চুয়ালি মিলিত হতে চলেছেন। এ পর্যন্ত ৩০ মিলিয়নেরও বেশি লোক কোভিড সংক্রমিত হয়েছে এবং এ সংক্রমণে বিশ্বব্যাপী সাড়ে নয় লাখেরও বেশি লোক মৃত্যু বরণ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনার মতোই জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণও ‘আমরা কি ধরনের ভবিষ্যৎ চাই, কোন মাপের জাতিসংঘ আমাদের প্রয়োজন: বহুপাক্ষিকতার প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তকরণ’- এ থিমের অধীনে ইউএনজিএ’র সাধারণ বিতর্ক এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে প্রাকরেকর্ডকৃত বক্তৃতা দেবেন।

জাতিসংঘের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ইউএনজিএ’র উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার সময় আগামীকাল সকাল ৪টায় ভাষণ দেবেন।

মোমেন বলেন, সাধারণ বিতর্ক এবং উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশন ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও পাঁচটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন এবং বক্তৃতা দেবেন।

২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ-প্রযুক্তি ভিত্তিক বিশ্ব গড়ার উপায় বিষয়ে আলোচনা করতে ‘ডিজিটাল সহযোগিতা সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ: ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আজকের করণীয়’ শীর্ষক বৈঠকে যোগ দেবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিভিএফ সভাপতি হিসাবে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত ‘জলবায়ু কর্মসূচির ওপর উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল’ শীর্ষক একটি সভায় যোগ দেবেন।

এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, বৈশ্বিক উষ্ণায়ণকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত রাখা, জলবায়ু ভালনারেবল দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত তহবিল সরবরাহ এবং জলবায়ু শরণার্থীদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

২৯ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ‘কোভিড-১৯-এর যুগে এবং এর পরে ‘উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন (এফএফডি) বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের ইভেন্ট’ শীর্ষক এক বৈঠকে যোগ দেবেন, যেখানে তিনি মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব কাটাতে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বর্ণনা দেবেন। পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদের সমস্যা এবং কোভিড-১৯ দ্বারা রেমিট্যান্স হ্রাসের বিষয় উত্থাপন করবেন।