‘টাইটানিক’ ছবি দিয়েই কেট উইন্সলেট জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে গিয়েছিলেন। এরপর একে একে ভক্তদের দিয়েছেন দারুণ সব বৈচিত্র্যময় চরিত্রের স্বাদ। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে একাডেমী অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার ভরেছেন ঝুলিতে। ৫ অক্টোবর তার জন্মদিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইংল্যান্ডে জন্ম নিয়েছিলেন এই তারকা। বয়স ৪২ হলো, কিন্তু এখনো তিনি আগের মতোই ঝলমলে। শোনা যাচ্ছে, টাইটানিক নির্মাতা জেমস ক্যামেরনের সঙ্গে ‘অ্যাভাটর’-এর পরবর্তী সিক্যুয়ালেও কাজ করবেন। জন্মদিন উপলক্ষ্যে এখানে জেনে নিন কেট উইন্সলেটের সেরা দশটি ছবি-
দ্য রিডার (২০০৮)
‘দ্য রিডার’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী বিভাগে অ্যাকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ‘দি রিডার’ ছবিটির কাহিনী নেয়া হয়েছে জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দি রিডার’ থেকে। ছবিটির কাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও এর পরবর্তী সময়কে ঘিরে। ১৯৫৮ সালে পনের বছরের এক স্কুল পড়ুয়া ছেলে মাইকেল বার্গ প্রেমে পড়ে যায় ৩৬ বছর বয়সী এক ট্রাম কন্ডাক্টর হান্নার। ছবির শেষে থেকে যায় রহস্য। ছবিটি পরিচালনা করেছেন স্টিফেন ডালড্রে।
লিটল চিলড্রেন (২০০৬)
‘লিটল চিলড্রেন’ ছবিতে কেট উইন্সলেটের চরিত্রের নাম ছিল সারাহ পিয়ার্স। ছবিতে একজন একঘেয়ে স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি, যিনি এক বিবাহিত প্রতিবেশীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। এই ছবির জন্য পঞ্চম বারের মতো অস্কার মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন টোড ফিল্ড।
ইটারনাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড (২০০৪)
‘ইটারনাল সানশাইন অফ আ স্পটলেস মাইন্ড’ ছবিতে কেট উইন্সলেটের চরিত্রটি স্মরণীয় হয়ে আছে নীল চুলের স্বাধীনচেতা মেয়ে ক্লেমেন্টাইন ক্রসিনস্কি হিসেবে। ছবির কেট-এর বিপরীতে ছিলেন জিম ক্যারি। প্রেমে পড়া এবং সেই ভালবাসার প্রতিই নিরাসক্ত হয়ে পড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে ছবির গল্প। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মাইকেল গন্ড্রি।
টাইটানিক (১৯৯৭)
জেমস ক্যামেরন পরিচালিত এই ছবিটি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল। ১৯১২ সালে টাইটানিক জাহাজের করুন পরিণতির পটভূমিতে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির মূল চরিত্রে কেট উইন্সলেটের বিপরীতে ছিলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। উচ্চবিত্ত রোজের সাথে টাইটানিক জাহাজে নিম্নবিত্ত আর্টিস্ট জ্যাকের প্রেম হয়। শেষে দেখানো হয় করুণ পরিণতি।
ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড (২০০৪)
‘ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড’ ছবিতে কেট উইন্সলেট অভিনয় করেন আরেক অভিনেতা জনি ডেপের সঙ্গে। তার ক্যারিয়ারে টাইটানিকের পর এই ছবিটিই বক্স অফিসে সর্বোচ্চ সাফল্য লাভ করে। ছবিটি একটি পরিবার ও একজন মানুষের সাথে সেই পরিবার নিয়ে গল্প । ছবিটি পরিচালনা করেছেন মার্ক ফরস্টার ।
রেভল্যুশনারি রোড (২০০৮)
স্যাম মেন্ডেসের পরিচালনায় এই ছবিতে এক তরুণ দম্পতিকে দেখানো হয়, যারা ব্যক্তিগত টানাপড়েনের সঙ্গে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বেড়ে উঠছে তাঁদের দুই শিশু। ছবিতে কেট উইন্সলেটের বিপরীতে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। হতাশায় মোড়ানো এক স্বামীর চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেন ক্যাপ্রিও।
আইরিশ (২০০১)
‘আইরিশ’ ছবিটির গল্প ঔপন্যাসিক আইরিশ মারডক ও তার স্বামী জন বেয়লির ভালোবাসা নিয়ে। ছাত্র জীবন থেকে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত সময়টাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিতে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রিচার্ড আয়ার ।
হ্যামলেট (১৯৯৬)
এই ছবির গল্প গড়ে উঠেছে ডেনমার্কের প্রিন্স হ্যামলেটকে নিয়ে। বাবার খুনিকে সনাক্ত করতে হ্যামলেট নিজের এলাকায় ফিরে আসে। ফিরে দেখতে পায় তার বাবার খুনিকে বিয়ে করছেন তার মা। এইসব নিয়ে চলে জটিলতা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আইরিশ নির্মাতা কেনেথ ব্রানাহ। এই ছবির জন্য কেট উইন্সলেট স্ট্যান্ডার্ড ব্রিটিশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’-এ সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি (১৯৯৫)
‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ ছবিতে কেট উইন্সলেটের চরিত্রের নাম ছিল মারিয়ান ড্যাশউড। এই ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকা বনে যান কেট। ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ ছবির জন্য তিনি বাফটা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি অস্কার, গোন্ডেন গ্লোবসহ অসংখ্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।
হ্যাভেনলি ক্রিয়েচারস (১৯৯৪)
এই ছবিতে কেট উইন্সলেট একজন খুনি কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সিনেমাটি বক্স অফিসে তেমন সাড়া না পেলেও প্রশংসিত হয় কেট-এর অভিনয়। ‘হ্যাভেনলি ক্রিয়েচারস’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি ‘অ্যাম্পায়ার অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘ক্রিটিক ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিলেন। আইএমডিবি।








