চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জনগণ আবার পাল তোলা নৌকায় রূপসী বাংলায় ঘুরে বেড়াক: হাইকোর্ট

‘নদী দূষণ ও দখলকারীরা দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু’

প্রচুর অর্থের বিনিময়ে দেশ-বিদেশে হাওয়াই জাহাজে ঘুরে না বেড়িয়ে বাংলার জনগণ আবার পাল তোলা নৌকায় রূপালী-রূপসী বাংলাকে দেখতে ঘুরে বেড়াক, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন হাইকোর্ট।

দেশের নদীগুলোকে জীবন্ত সত্তা এবং লিগ্যাল পারসন ঘোষণার ঐতিহাসিক রায়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছেন: ‘আমাদের নদীগুলো চলুক নিরবধি। জোয়ার-ভাটায় নদীগুলো তার ভিন্ন-ভিন্ন রূপ দেখাতে থাকুক। মাঝি-মাল্লারা মনের সুখে আবার নদীতে প্রাণ খুলে ভাটিয়ালি গান গেয়ে উঠুক। বাংলার দামাল ছেলেরা নদীতে মনের সুখে আবার দাপাদাপি করুক। মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি আবার ফিরে আসুক। পানির ছলাৎ-ছলাৎ শব্দে নৌকার মাঝিরা নিশ্চিন্তে ঘুমাক। আর প্রচুর অর্থের বিনিময়ে দেশ-বিদেশে হাওয়াই জাহাজে ঘুরে না বেড়িয়ে বাংলার জনগণ আবার পাল তোলা নৌকায় রূপালী-রূপসী বাংলাকে দেখতে ঘুরে বেড়াক।’

বিজ্ঞাপন

আদালত রায়ে বলেন: ‘দূষণ ও দখলের নামে নদীকে হত্যা করা আমাদের সকলের সম্মিলিত আত্মহত্যার নামান্তর। নদীকে হত্যা করার অর্থ হলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হত্যা করা। আর নদী দূষণ ও দখলকারীরা দেশের শত্রু, স্বাধীনতার শত্রু, মানবতার শত্রু এবং সভ্যতাকে হত্যাকারী।’

রায়ে হাইকোর্ট আরো বলেন: ‘রাষ্ট্র হচ্ছে পরিবেশ, প্রকৃতি, জীব-বৈচিত্র, সমুদ্র, নদ-নদী, পাহাড়, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, ঝিল এবং সকল উন্মুক্ত জলাভূমি, বোন এবং বন্যপ্রাণীর রক্ষার ট্রাস্টি। এখানে জনগণ হলো আমানতকারী এবং রাষ্ট্র হল আমানত গ্রহীতা। তাই রাষ্ট্র কোনো অবস্থায়ই জনগণের এই আমানত খেয়ানত করতে পারে না।’

রায়ে হাইকোর্ট আরো বলেন: ‘মানবজাতি কর্তৃক প্রণীত আইন মানার কোনো বাধ্যবাধকতা বা আবশ্যকতা প্রকৃতির নাই। বরং মানবজাতি অতিঅবশ্য প্রকৃতির সকল প্রকার নিয়ম নীতি মেনে চলতে বাধ্য। সুতরাং আমাদের মনে রাখতে হবে, অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ হবে না। আমরা মানবজাতি অপরাধ করব আর প্রকৃতি নিশ্চুপ থাকবে এটা আশা করা যায় না। আমরা মানব জাতি যে পরিমাণ অপরাধ করব প্রকৃতিও আমাদের সে পরিমাণ শাস্তি দিবে। সুতরাং, মানবজাতিকে রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে প্রকৃতিকে তার যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে, অর্থাৎ প্রকৃতিকে তার আইনগত অধিকার প্রদান করতে হবে। কারণ, প্রকৃতির আইনগত অধিকার স্বীকার করে আমরা কোন দয়া শোধ করছি না। বরং আমরা মানবজাতি নিজেদের রক্ষা করছি মাত্র। তাই যত দ্রুত প্রকৃতিকে আইনগত অধিকার ও মর্যাদা দেয়া হবে ততই মানবজাতির জন্য মঙ্গল।’

এর আগে তুরাগ নদ রক্ষায় মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে চলতি বছর হাইকোর্ট নদীকে জীবন্ত সত্তা এবং লিগ্যাল পারসন ঘোষণা করে রায় দেন। এরপর পূর্ণাঙ্গ সেই রায় প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টে রিটের পক্ষে লড়েন আইনজীবী  মনজিল মোরসেদ।

Bellow Post-Green View