চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জনগণকে মাস্ক পরাবে কে?

করোনা সংক্রমণের সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউয়ের কথা যখন বলা হচ্ছে তখন ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়ালো। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দেশে ১ হাজার ৪৩৬ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৩ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ১৫ জন।

গত একমাসের পরিসংখ্যান অনুসারে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মোট মৃতের সংখ্যা দেখতে দেখতে ৫ হাজার ৮১৮ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) যৌথ গবেষণায় রাজধানীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার যে চিত্র উঠে এসেছে সেটি দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সারাবিশ্বে নতুন করে আক্রান্তের ঘটনা আরও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রতিদিন করোনা রোগীর সংখ্যা এখনও মারাত্মক হারে বাড়ছে, গড়ে সেখানে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তবে দুই সংস্থার ওই গবেষণায় অংশ নেয়া বড় অংশের মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি পাওয়া এবং সে প্রেক্ষিতে দেশে হার্ড ইমিউনিটি বা প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এর সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তারা শঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বহু আক্রান্ত রোগী উপসর্গ ছাড়া ও মাস্ক ছাড়া আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তারা এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে। কাজেই যতই সতর্কতা অবলম্বন করা হোক না কেন, আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

সরকার অবশ্য মাস্ক পরার বিষয়ে নতুন করে সক্রিয় হয়ে সতর্কতা জানিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা আসলে অন্যরকম, রাস্তাঘাটে, গণপরিবহনে নয়তো জনবহুল স্থানে খোলা চোখে তাকালে আমরা কী দেখতে পাই? অসংখ্য মাস্ক ছাড়া মানুষ, আর শীতকাল আসন্ন হওয়ায় সর্দি, হাঁচি-কাশি দেয়া মানুষ বেড়েছে অনেক।

মার্চ মাসে দেশে করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়ার পরে সেনাবাহিনীসহ নানা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরার উপরে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে সারাদেশে সেইঅর্থে বিভিন্ন বাহিনীর কার্যক্রম নেই বললেই চলে, তাছাড়া সরকারি নির্দেশে সেসময়ের মতো অফিস-আদালত ও গণপরিবন বন্ধ নেই। অর্থনীতি ও জনগণের জীবিকার স্বার্থে পুরো দেশ অনেকটাই স্বাভাবিক। ফলে আসন্ন শীতে ইউরোপ আমেরিকার মতো নতুন করে ব্যাপকহারে করোনার সংক্রমনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকে আন্তরিক হয়ে নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন-জীবিকার নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। তাহলেই হয়তো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে করোনাভাইরাসের এই মহামারি।