চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছাদ বাগান করলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড়

জানালেন মেয়র আতিকুল ইসলাম

বাড়ির ছাদে বাগান করলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড় দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার মিরপুরে এক লাখ গাছের চারা রোপন কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সেই অনুষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ।

মেয়র বলেন, ঢাকা শহরকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। প্রত্যেক পাড়া-মহল্লা, ক্লাব, স্কুল-কলেজের আশেপাশে যেসব গাছ লাগানো হবে, আমরা প্রত্যেককে ৫টি করে গাছের রক্ষণাবেক্ষণ করলে ‘বিপ্লব’ ঘটে যাবে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবুজায়নের জন্য আমরা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পে সবুজায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। এই কমিটি নির্ধারণ করবে কোথায় কতগুলো ও কোন কোন গাছ আছে, আর কোন কোন গাছ লাগাতে হবে।

ছাদ বাগান করা হলে ১০ শতাংশ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স রেয়াত দেওয়া হবে বলে মেয়র জানান।

বিজ্ঞাপন

তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, সিভিল সোসাইটি, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি করা হবে। সে কমিটির সুপারিশে এই রেয়াত দেয়া হবে।

মেয়র বলেন, যেসব বাড়ি বা স্থাপনায় বৃষ্টির পানি ‘হার্ভেস্ট’ করা হবে তাদেরকেও গৃহকরের একটা অংশ রেয়াত দেয়ার চিন্তাভাবনা করছি।

রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ সেপ্টেম্বর থেকে অনুষ্ঠেয় চিরুনি অভিযান সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে যেভাবে ডেঙ্গু প্রতিহত করেছি, একইভাবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য চিরুনি অভিযান শুরু হবে। যারা হোল্ডিং ট্যাক্স দেন না তাদেরকে অবশ্যই ট্যাক্সের আওতায় আসতে হবে। তবে কারো ট্যাক্স বাড়ানো হবে না, কেবল ট্যাক্সের পরিধি বাড়ানো হবে’।

১ অক্টোবর থেকে ডিএনসিসি এলাকার অবৈধ ঝুলন্ত তার অপসারণের জন্য অভিযান শুরু হবে বলে মেয়র জানান।

নগরবাসীকে সুনাগরিক হওয়ার আহবান জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কালশী খাল থেকে বিপুল পরিমাণ ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত আসবাবপত্র ইত্যাদি পাওয়া যায়। এটা হতে দেয়া যায় না। ঢাকা শহরকে সুন্দর করে সাজাতে হবে। এজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে মেয়র মুকুল ফৌজ মাঠে কয়েকটি গাছের চারা রোপন করেন।

ডিএনসিসির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির পরিবেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমায়ুন রশীদ জনি, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুরাদ হোসেন, ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম মোল্লা, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাসুম গণি তাপস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামাল, নাগরিক ঢাকা নামক সংগঠনের সভাপতি এম নাঈম হোসেন প্রমুখ।