চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ছাত্রীদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ও মামলার ভয় ফৌজদারি অপরাধ’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট হলের মেয়েদেরকে যে গোয়েন্দা নজরদারি এবং মামলার ভয় দেখিয়েছেন সেটিকে ‘ফৌজধারী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

শনিবার বিকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত ‘শিক্ষার্থীদের অনিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিকবৃন্দের’ ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, মেয়েদের ছাত্রত্ব বাতিল করার হুমকি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং মামলার ভয় দেখানো- এই কাজগুলোর প্রত্যেকটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী আইনপরিপন্থী কাজ করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রক্টরের৷ হলের প্রভোস্ট যে হলে যে তিনি আইনের উর্ধ্বে তা কিন্তু নয়৷ কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চেক করা অন্যায়।

ঢাবির অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষক মোসাহিদা সুলতানা সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বলেন, আমি এখানে শিক্ষক হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে লজ্জাবোধ করছি৷ আমরা সবসময় নিপীড়নের বিরুদ্ধে। কোটা সংস্কার আন্দোলন একটি বৈষম্যবিরোধী ন্যায্য আন্দোলন৷ এই আন্দোলনটি এখন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বলা হচ্ছে গুজবের কারণে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল। আসলে আন্দোলনটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত।

বিজ্ঞাপন

লেখক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, সরকার প্রথমে আন্দোলনকে স্বীকার করেনি, এটাকে অবৈধ বলেছিল এবং তাদের যে একমাত্র চেতনার অস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-লাঠি, টিয়ারশেল, বন্দুক, গুলি এবং গুজবকে সেই চেতনার হাতে পরিয়ে এই আন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছিল। আবার সেদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রী দাবি মেনে নিয়েছিলেন, তার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে আন্দোলন বৈধ ছিল, আন্দোলন ন্যায্য ছিল, আন্দোলন যৌক্তিক ছিল।

তিনি বলেন, তাহলে আজকে এই ষড়যন্ত্রগুলো কেন? কেন আন্দোলন করার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হবে, মামলা হবে, হয়রানি হবে? গভীর রাতে হল থেকে মেয়েদের বের করে দেওয়া হয়েছে। হল তো আপনার বাড়ি নয় যে যখন খুশি তখন আপনি কাউকে বের করে দেবেন?

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আন্দোলন এটাকে চাকরির আন্দোলন বলছেন অনেকেই, ৫২ সালের আন্দোলনও তো চাকরির আন্দোলন, যে পাকিস্তানিরা উর্দু ভাষার নামে বাংলা ভাষাকে দমিয়ে বাঙালিদের চাকরি খেয়ে ফেলছিল; ছয় দফাও তো ছিলো সম্পদের ন্যায্য হিস্যা দেয়ার আন্দোলন, সেই সমস্ত আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা এসেছিলেন, শিল্পীরা এসেছিলেন, সাংবাদিকরা এসেছিলেন৷ বাংলাদেশে এমন এক দানবের উদ্ভব ঘটেছে যে দানব ছুঁয়ে দিলে সবাই বরফ হয়ে যায়। আবার সেই দানব অনেককে ছুঁয়ে দিয়ে তা সোনার হয়ে যায়। এই আমাদের সোনার ছেলেরা, সোনার কিছু সাংবাদিক, সোনার কিছু বুদ্ধিজীবী নীরব হয়ে গেছেন। তাদের শেষ অস্ত্র গুজব।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, প্রকাশক রবিন আহসান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়মন রেজা পিয়াস, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ফিরোজ আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক লাকী আক্তার, ঢাবি ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামান্তা শারমিন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন